ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের ইঙ্গিত

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১২:০০:৫৭
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের ইঙ্গিত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতায় নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে আলোচনার সম্ভাবনা। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকের একদিন পরই যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেছেন, সংঘাতটি সম্ভবত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

তবে যুদ্ধের অবসান নিয়ে এমন ইঙ্গিত এলেও পরিস্থিতি এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি বা চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণার তথ্যও নেই।

আলোচনার পথ খোলার বার্তা বেইজিং থেকে

বুধবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন আব্বাস আরাগচি ও ওয়াং ই। বৈঠকে ওয়াং ই দুই পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানান।

এর পাশাপাশি জুনে সম্পন্ন হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি আবার কার্যকর করে দুই দেশকে অর্থবহ আলোচনায় ফেরানোর ওপর জোর দেন তিনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংলাপের কাঠামো নতুন করে দাঁড় করানোর বিষয়টিও ছিল। একই সঙ্গে দুই পক্ষের পারস্পরিক উদ্বেগগুলো নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরুর প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

ইরানের অবস্থান: আত্মরক্ষার প্রস্তুতি, কূটনীতির সুযোগও আছে

বেইজিংয়ের বৈঠকে ইরানের অবস্থানও তুলে ধরেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিজেদের রক্ষার জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

তবে সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি আলোচনার সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। আরাগচি বলেন, ইরানের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে—এমন কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ খোলা রয়েছে।

অর্থাৎ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে তেহরানের অবস্থান পুরোপুরি বন্ধ নয়। তবে সেই প্রক্রিয়ায় ইরানের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ সুরক্ষিত থাকার বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত সম্ভবত শেষের দিকে যাচ্ছে।

শুধু যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাই নয়, ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে।

এ সময় তিনি আবারও দাবি করেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

সরাসরি যোগাযোগ নিয়ে তেহরানের বক্তব্য আলাদা

ট্রাম্পের সরাসরি যোগাযোগের দাবি অবশ্য ইরানের প্রকাশ্য অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর আগে তেহরানের কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অথবা এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন।

ইরানের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগোলে সেখানে দেশটির সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত থাকতে হবে।

ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যে আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত থাকলেও দুই দেশের প্রকাশ্য অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য এখনো রয়েছে।

যুদ্ধ শেষের ঘোষণা এখনো আসেনি

সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সেটিকে এখনো যুদ্ধ শেষ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

কারণ, এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি কিংবা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়নি। অন্যদিকে বেইজিংয়ে কূটনৈতিক আলোচনার কাঠামো পুনর্গঠন এবং অর্থবহ সংলাপে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে ট্রাম্পের সরাসরি যোগাযোগ ও চুক্তির আগ্রহের দাবি, অন্যদিকে ইরানের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার শর্ত—এই দুই অবস্থানের মধ্যেই কূটনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ