সৌদির প্রস্তাবের পর কমল তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা সামাল দেওয়ার উদ্যোগ সামনে এসেছে। সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে এশিয়ার পরিশোধনাগারে বাড়তি অপরিশোধিত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়ার খবরের পর বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের দরে—টানা দ্বিতীয় দিন কমেছে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম।
সৌদি আরবের প্রস্তাব অনুযায়ী, ওমানের সোহার বন্দরের উপকূলে জাহাজ থেকে জাহাজে অপরিশোধিত তেল স্থানান্তর করে এশিয়ার পরিশোধনাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া সরবরাহ ঘাটতির কিছুটা প্রভাব কমানো সম্ভব হতে পারে।
আজকের বাজারদর
আজ লেনদেন শুরুর সময় ব্রেন্ট ফিউচারের দর ১ ডলার ২৪ সেন্ট কমেছে। শতাংশের হিসাবে এই পতন ১ দশমিক ২ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্টের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৪ ডলার ৫৯ সেন্টে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ফিউচারও নিম্নমুখী ছিল। এর দাম ১ ডলার ১৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ২৯ সেন্টে নেমেছে।
এর ঠিক আগের দিনও বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল। গতকাল ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার করে কমে।
বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কেন কমল
নিসান সিকিউরিটিজের একটি ইউনিট নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোয়ুকি কিকুকাওয়া মনে করছেন, সৌদি আরবের ওমান হয়ে তেল পাঠানোর উদ্যোগের খবর সরবরাহ সংকট নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্মেলনের আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হতে পারে বলে প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন প্রত্যাশা তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাকে সীমিত করছে।
হামলার পর বদলে যায় সৌদির রফতানি পরিস্থিতি
চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় চার মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। এর আগে জাহাজ চলাচল শিল্পের সূত্রগুলো সৌদি আরবের লোহিত সাগরভিত্তিক রফতানি কেন্দ্র ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেলের চালান পাঠানো স্থগিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল।
শুধু তা-ই নয়, ইউরোপীয় ক্রেতাদের জন্য নির্ধারিত কিছু চালানও রিয়াদ বাতিল করেছিল। এর পেছনে ছিল ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা। সৌদি বন্দর ইয়ানবুতে জ্বালানি তেল পৌঁছে দেওয়ার কাজ করে এই পাইপলাইন।
গত সপ্তাহে একটি হামলায় পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত দুটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরবরাহ ব্যবস্থায় এই চাপ তৈরি হয়।
হরমুজ প্রণালি থেকে ইয়ানবুর দিকে নির্ভরতা
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করে। এর পর সৌদি আরবের তেল রফতানির প্রধান পথ হয়ে ওঠে ইয়ানবু।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ফলে ওই পথ বন্ধ হওয়ার পর সৌদি আরবের রফতানি ব্যবস্থায় ইয়ানবুর গুরুত্ব বেড়ে যায়।
ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলা এবং ইয়ানবু থেকে চালান স্থগিত হওয়ার ঘটনাগুলো সেই সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও চাপে ফেলে। এমন পরিস্থিতিতেই ওমান হয়ে এশিয়ায় অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল পাঠানোর সৌদি প্রস্তাব সামনে এসেছে।
দর কমলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি
সৌদি আরবের প্রস্তাবের খবরে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে—এমন উদ্বেগ রয়ে গেছে।
ফলে আজ ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দর কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তেল সরবরাহ পরিস্থিতির ওপরই বাজারের নজর রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- Redmi Note 17 Pro 5G: ৮,৩৪০mAh ব্যাটারি, ১২০Hz AMOLED ডিসপ্লে
- Redmi Note 17 Pro 5G: বড় ব্যাটারি ও আকর্ষণীয় ফিচার
- আজকেরস্বর্ণের দাম: প্রতি ভরি ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- আফগানিস্তান বনাম বাংলাদেশ টেস্টের লাইভ স্কোর ও সর্বশেষ অবস্থা
- আপনার নামে কত জমি আছে? মোবাইলেই জানুন অনলাইনে
- আজকের আবহাওয়ার খবর: কোথায় গরম, কোথায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?
- OPPO Find X10 Pro Max: স্পেসিফিকেশন, দাম ও লঞ্চের তারিখ
- জমির খতিয়ান অনলাইনে বের করার নিয়ম, ঘরে বসেই দেখুন