Sirin Labs Finney: বাংলাদেশে এখন যত টাকায় পাওয়া যায়
একসময় স্মার্টফোনের দুনিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল Sirin Labs Finney। ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তিকে স্মার্টফোনের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই ডিভাইসকে বিশ্বের প্রথম দিককার বাণিজ্যিক ব্লকচেইন স্মার্টফোন হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছিল।
২০১৮-২০১৯ সালের দিকে বাজারে আসা ফোনটির বিশেষত্ব ছিল শুধু এর স্মার্টফোন ফিচার নয়; বরং ফোনের মধ্যেই আলাদা হার্ডওয়্যারভিত্তিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট ব্যবহারের সুবিধা। সে সময় প্রযুক্তিপ্রেমী ও ক্রিপ্টো ব্যবহারকারীদের কাছে ডিভাইসটি বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেলেও Finney সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। বর্তমানে এটি একটি পুরোনো মডেল এবং নতুন অবস্থায় নিয়মিত বাজারে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
বাংলাদেশে কত ছিল দাম?
Sirin Labs Finney বাংলাদেশে কখনোই অনুমোদিত পরিবেশকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় পরিসরে বাজারজাত হয়নি। ফলে দেশে ফোনটি মূলত অনানুষ্ঠানিক আমদানিকারক বা গ্রে মার্কেটের মাধ্যমে এসেছে।
বাংলাদেশে যখন ফোনটি প্রথম দিকে পাওয়া যেত, তখন এর আনুমানিক দাম ছিল ৮৫ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। আমদানিকারক, সরবরাহ ও অন্যান্য খরচের ওপর ভিত্তি করে দামে পার্থক্য দেখা যেত।
আন্তর্জাতিক বাজারে Finney-এর লঞ্চ মূল্য ছিল প্রায় ৯৯৯ মার্কিন ডলার।
এখন বাংলাদেশে কত দামে পাওয়া যেতে পারে?
বর্তমানে নতুন Sirin Labs Finney খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। কোম্পানিটি স্মার্টফোন উৎপাদন থেকে অনেকটাই সরে এসেছে এবং ফোনটির হার্ডওয়্যারও এখন বেশ পুরোনো।
তবে প্রযুক্তিপ্রেমী বা সংগ্রাহকদের কাছে ব্যবহৃত Finney পাওয়া যেতে পারে। অনলাইন ক্লাসিফায়েড মার্কেট কিংবা ব্যক্তিগত বিক্রির মাধ্যমে কোনো পুরোনো সেট পাওয়া গেলে এর দাম আনুমানিক ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা হতে পারে।
তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী বাজারদর নয়। ফোনটির অবস্থা, ব্যাটারি, ডিসপ্লে, সফটওয়্যার এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের কার্যকারিতার ওপর ব্যবহৃত সেটের দাম অনেকটাই নির্ভর করবে।
ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ক্রিপ্টো ওয়ালেট
Finney-এর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য ছিল এর আলাদা হার্ডওয়্যার ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট।
ফোনটির পেছনের অংশে থাকা বিশেষ স্লাইডিং মেকানিজম ব্যবহার করে নিরাপদ ওয়ালেট ফিচার সক্রিয় করা যেত। অর্থাৎ সাধারণ স্মার্টফোনের পাশাপাশি এটি ক্রিপ্টো সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষ হার্ডওয়্যার ডিভাইস হিসেবেও কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল।
এ কারণে সে সময়ের প্রচলিত স্মার্টফোনের তুলনায় Finney-এর দাম অনেক বেশি ছিল।
আলাদা ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা
Sirin Labs Finney-তে ব্যবহার করা হয়েছিল Sirin OS, যা Android-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি বিশেষায়িত অপারেটিং সিস্টেম।
এর মূল লক্ষ্য ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন ও ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা বাড়ানো। ফোনটিতে সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারের পাশাপাশি ব্লকচেইনভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এ ছাড়া বিভিন্ন ক্রিপ্টো টোকেন ব্যবস্থাপনা ও রূপান্তরের জন্যও ফোনটিতে বিশেষ সফটওয়্যার সুবিধা ছিল।
কেন এত ব্যয়বহুল ছিল?
Finney যখন বাজারে আসে, তখন স্মার্টফোনে সরাসরি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের ধারণাটি তুলনামূলকভাবে নতুন ছিল। ফলে এর বিশেষ হার্ডওয়্যার ওয়ালেট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্লকচেইনভিত্তিক সফটওয়্যারই ফোনটির বাড়তি দামের অন্যতম কারণ ছিল।
সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য এটি শুধু একটি স্মার্টফোন ছিল না; বরং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বিশেষ ডিভাইস হিসেবেও নিজেদের বাজারজাত করেছিল কোম্পানিটি।
এখন কি Finney কেনা উচিত?
বর্তমান সময়ে সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য Sirin Labs Finney কেনার যৌক্তিকতা খুবই কম।
এর অন্যতম কারণ হলো পুরোনো হার্ডওয়্যার। ফোনটিতে ব্যবহৃত Snapdragon 845 এখনকার আধুনিক স্মার্টফোনের তুলনায় অনেক পুরোনো। ফলে বর্তমান সময়ের অ্যাপ, গেম, ক্যামেরা, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা এবং পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে আধুনিক ফোনের সঙ্গে এটি প্রতিযোগিতা করতে পারবে না।
এ ছাড়া সফটওয়্যার আপডেট ও নিরাপত্তা সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি পুরোনো ডিভাইসে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা আপডেট না থাকলে সেটিকে প্রধান স্মার্টফোন হিসেবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সংগ্রাহকদের জন্য অবশ্য আলাদা বিষয়
তবে প্রযুক্তির ইতিহাসে আগ্রহী ব্যক্তি বা স্মার্টফোন সংগ্রাহকদের জন্য Finney এখনও আকর্ষণীয় হতে পারে।
বিশেষ করে ব্লকচেইন প্রযুক্তি যখন প্রথমবারের মতো স্মার্টফোনে বিশেষভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেই সময়ের একটি উল্লেখযোগ্য ডিভাইস হিসেবে এটি সংগ্রহে রাখার মূল্য থাকতে পারে।
অর্থাৎ সাধারণ ব্যবহারের জন্য নয়, বরং টেক কালেক্টর বা প্রযুক্তির ইতিহাসে আগ্রহীদের জন্য পুরোনো Finney আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
লাখ টাকা থেকে পুরোনো ফোনের দামে
Sirin Labs Finney-এর গল্প মূলত স্মার্টফোন প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের একটি উদাহরণ। একসময় প্রায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে আলোচিত হওয়া এই ব্লকচেইন ফোন এখন পুরোনো প্রযুক্তির একটি নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে কেউ যদি একটি Finney খুঁজে পান, সেটি কেনার আগে ডিভাইসের সফটওয়্যার সাপোর্ট, ব্যাটারি, হার্ডওয়্যার অবস্থা এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেটের কার্যকারিতা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
কারণ আজকের বাজারে একই বা কাছাকাছি বাজেটে অনেক আধুনিক স্মার্টফোন পাওয়া যায়, যেগুলো পারফরম্যান্স, ক্যামেরা, ব্যাটারি ও নিরাপত্তা আপডেটের দিক থেকে Finney-এর তুলনায় অনেক এগিয়ে।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- এস আলমের দখলে থাকা ব্যাংক নিয়ে এলো নতুন সিদ্ধান্ত
- SSC Result 2026: ফল প্রকাশের তারিখ ও দেখার নিয়ম জানুন
- শেয়ার বিজকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাল রবি, শুরু নতুন বিতর্ক
- বাবর আজমের দলে ফেরা নিয়ে নতুন সমীকরণ
- ডিএসইতে বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা ৩৫, সবচেয়ে পুরোনোটি ২৪ বছর ধরে নিষ্ক্রিয়
- Snapdragon 8 Gen 3 ফোনে নতুন চমক, Redmi K80 নিয়ে আপডেট
- সাকিবের বাড়িতে হামলা নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ
- জেনে নিন আজকের সোনা ও রুপার সর্বশেষ দাম
- ১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন
- SSC Result 2026: যে ৩ উপায়ে জানা যাবে ফল
- তাপমাত্রা নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- আগে দেখে নিন, আজকের সোনার নতুন দাম
- রবির বড় সাফল্য! আয় কম বাড়লেও রেকর্ড মুনাফা ও গ্রাহক বৃদ্ধি
- টিভিতে আজকের খেলা (৭ আগস্ট)
- সৌদিতে বাংলাদেশিদের আকামা নবায়নে বদলে গেল নিয়ম