ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

১৭৩ নাকি ১৮৪? আশিয়ান কাপে বাংলাদেশের র‍্যাংকিংয়ের হিসাব

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ২২:১০:০১
১৭৩ নাকি ১৮৪? আশিয়ান কাপে বাংলাদেশের র‍্যাংকিংয়ের হিসাব

বাংলাদেশের সামনে এখন শুধু আশিয়ান কাপের তিন ম্যাচ নয়, র‍্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান বদলে নেওয়ারও সুযোগ। ১৮১ নম্বরে থেকে টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাওয়া লাল-সবুজের দলকে গ্রুপ পর্বে মোকাবিলা করতে হবে নিজেদের চেয়ে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা তিন প্রতিপক্ষের। ফলে প্রতিটি ম্যাচের ফলই বাংলাদেশের পরবর্তী অবস্থানের হিসাব বদলে দিতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বাংলাদেশকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশাও কম নয়। দূর দেশ থেকে লাল-সবুজের দলের জন্য সমর্থন জানাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি তাই তিন ম্যাচ শেষে ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়াবে, সেটিও হয়ে উঠেছে আগ্রহের বিষয়।

প্রতিপক্ষরা সবাই র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে

গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের সামনে যে তিন দল, তাদের প্রত্যেকের অবস্থানই ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের ওপরে।

ইন্দোনেশিয়া রয়েছে ১১৮তম স্থানে। মালয়েশিয়ার অবস্থান ১৩৬, আর সিঙ্গাপুর আছে ১৪৮ নম্বরে। বিপরীতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১।

অর্থাৎ কাগজে-কলমে র‍্যাংকিংয়ের হিসাবে প্রতিটি ম্যাচেই বাংলাদেশের সামনে রয়েছে এগিয়ে থাকা একটি দল।

ম্যাচের সূচি নির্ধারণ করবে প্রথম পরীক্ষা

বাংলাদেশের আশিয়ান কাপ অভিযান শুরু হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। সেদিন প্রতিপক্ষ ১৩৬ নম্বরে থাকা মালয়েশিয়া।

এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের সামনে আসবে ১৪৮ নম্বরে থাকা সিঙ্গাপুর। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি হবে ১ অক্টোবর, যেখানে লাল-সবুজের দল খেলবে ১১৮ নম্বরে থাকা ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে।

এই তিন ম্যাচের ফলের ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের র‍্যাংকিংয়ের পরবর্তী হিসাব।

সব ম্যাচ জিতলে আট ধাপ পর্যন্ত উন্নতি

বাংলাদেশ যদি তিন ম্যাচ থেকেই জয় নিয়ে ফিরতে পারে, তাহলে বর্তমান অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে। দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, তিন জয়ে প্রায় আট ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের র‍্যাংকিং দাঁড়াতে পারে ১৭৩-এর আশপাশে।

এখানেই শেষ নয়। তিন ম্যাচে তিন জয় পেলে ফাইনাল খেলার সুযোগও থাকবে। ফাইনালের ফলাফলের প্রভাব আবার আলাদাভাবে র‍্যাংকিংয়ে পড়বে।

দুই জয়, এক ড্র হলে অবস্থান হতে পারে ১৭৩-১৭৬

সমর্থকদের প্রত্যাশিত ফলাফলের একটি হতে পারে দুই জয় ও এক ড্র। এমন ফল নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করতে পারলে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৩ থেকে ১৭৬ নম্বরের মধ্যে থাকতে পারে।

অন্যদিকে তিন ম্যাচের মধ্যে দুই জয় ও এক হার হলে বাংলাদেশ ১৭৪ থেকে ১৭৭ নম্বরের মধ্যে উঠে আসতে পারে।

অর্থাৎ একটি ম্যাচে হারের পরও দুটি জয় বাংলাদেশের র‍্যাংকিংয়ে উন্নতির সুযোগ তৈরি করবে।

জয় কমলে কমে যাবে উন্নতির সুযোগ

তিন ম্যাচের মধ্যে যদি বাংলাদেশ একটি জয় ও দুটি হার পায়, তাহলে অবস্থান ধরে রাখা বা সামান্য উন্নতির সম্ভাবনাই থাকবে। এই ফলাফলে বাংলাদেশের র‍্যাংকিং ১৭৭ থেকে ১৮০-এর মধ্যে থাকতে পারে।

আর এক ড্র ও দুই হার হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০ থেকে ১৮৩-এর মধ্যে থাকতে পারে। অর্থাৎ কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকবে; বরং এক বা দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সবচেয়ে খারাপ ফল তিন ম্যাচেই হার

তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারলে বাংলাদেশের র‍্যাংকিংয়ের ওপর সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমান ১৮১তম অবস্থান থেকে এমন ফলাফলে বাংলাদেশ ১৮৪ নম্বরে নেমে যেতে পারে।

অর্থাৎ আশিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচের ফল শুধু টুর্নামেন্টের হিসাবেই নয়, ফিফা র‍্যাংকিংয়েও আলাদা প্রভাব ফেলবে।

স্বপ্ন বড়, এখন অপেক্ষা মাঠের ফলের

আশিয়ান কাপকে ঘিরে বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকেরা। হেডকোচ টমাস রুলি আসর শুরুর আগেই ইন্দোনেশিয়ার ৮০ হাজার দর্শকের সামনে হামজা ও তাঁর সতীর্থদের জেতানোর স্বপ্নের কথা সামনে এনেছেন। স্বপ্নটা বড় হলেও এমন প্রত্যাশাকে দোষ দেওয়ার সুযোগ নেই।

এখন সেই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়। ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া, ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ফলই বলে দেবে বাংলাদেশের আশিয়ান কাপ অভিযান কোন পথে এগোয় এবং র‍্যাংকিংয়ের হিসাব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ ১৮১তম অবস্থান নিয়েই শুরু করছে মিশন। সামনে তাই অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াইয়ের—আর সেই লড়াই শেষে লাল-সবুজের দল কতটা সাফল্য নিয়ে দেশে ফেরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলার দর্শকরা।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ