ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত, তদন্তে যেসব বিষয়

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৯ ১০:৫৬:৫৬
জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত, তদন্তে যেসব বিষয়

শেয়ারবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংক জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সার্বিক কার্যক্রম ও নিবন্ধনের যোগ্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, গ্রাহক হিসাব, মার্জিন ঋণ, নিট সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) পিএলসির সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম যাচাই করা হবে। কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত শুরুর পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের উপপরিচালক মো. শাহনওয়াজ এবং সহকারী পরিচালক নুজহাত খাদিজা মিম।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর কমিশন তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আর্থিক হিসাব, গ্রাহক হিসাব, মার্জিন ঋণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে। তদন্তে অনিয়ম, অসঙ্গতি বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেসব কার্যক্রম যাচাই হবে

বিএসইসির তদন্ত কমিটি জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত সব কার্যক্রম আইন, বিধিমালা ও নিবন্ধন সনদের শর্ত অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করবে।

বিশেষভাবে ইস্যু ব্যবস্থাপনা, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং ও নিজস্ব বিনিয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি গত পাঁচ বছরে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধনের অযোগ্য কোনো অবস্থায় পড়েছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদের শর্ত, ফরম ‘খ’ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান বিবেচনায় নেবে তদন্ত কমিটি।

গ্রাহক হিসাব ও মার্জিন ঋণও তদন্তে

তদন্তের আওতায় থাকবে জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের গ্রাহক-সংক্রান্ত নথিপত্র। গ্রাহকদের হিসাব, চুক্তিপত্র ও হিসাব বিবরণী যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

একই সঙ্গে গ্রাহকদের দেওয়া মার্জিন ঋণ সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিএসইসির নির্দেশনা মেনে দেওয়া হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

পাঁচ বছরের আর্থিক অবস্থার পর্যালোচনা

জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের গত পাঁচ বছরের আর্থিক অবস্থাও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে তদন্ত কমিটি। এ সময়ের নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, হিসাবের বই, সহায়ক নথি এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য পরীক্ষা করা হবে।

প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ও আর্থিক বিবরণী সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা এবং ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা-সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত নিট সম্পদের অবস্থার ওপর। গত পাঁচ বছরে নিট সম্পদের পরিমাণ, কোনো ঘাটতি বা অবনতি হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান করা হবে।

নিট সম্পদের ঘাটতির পেছনে অবাস্তবায়িত লোকসানের বিপরীতে সংরক্ষণ, বিনিয়োগের মূল্যহ্রাস, ঋণাত্মক মালিকানা স্বত্ব কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সমন্বয়ের প্রভাব রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা

মার্চেন্ট ব্যাংকারদের জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করবে বিএসইসি।

তদন্তে কোনো অনিয়ম বা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে প্রতিষ্ঠানটির মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধন সনদ বহাল রাখা বা নবায়নের বিষয়ে কমিশনের কাছে সুপারিশ করা হবে।

এ ছাড়া তদন্ত চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, লেনদেন, নথিপত্র বা অন্য কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সেসব বিষয়ও অনুসন্ধানের আওতায় নেওয়া যাবে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭ক অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ