ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

চাকরিচ্যুতি বিতর্কে মুখ খুলল ডিএসই, জানাল পুরো ব্যাখ্যা

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৭:৫৯:৪৪
চাকরিচ্যুতি বিতর্কে মুখ খুলল ডিএসই, জানাল পুরো ব্যাখ্যা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ কর্মীদের চাকরিচ্যুতি নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাম্প্রতিক চাকরির অবসানের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং ডিএসইর সার্ভিস রুল অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেয় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি।

গত ২৫ জুন কোনো অগ্রিম নোটিশ ছাড়াই ডিএসইর কয়েকজন কর্মীর চাকরির অবসান ঘটানো হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠায় ২৩ জুলাই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এরই মধ্যে আরও কয়েকজন কর্মীর চাকরি শেষ করা হলে রোববার চাকরি হারানো কর্মীরা মতিঝিলে ডিএসইর পুরোনো ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন। এর পরপরই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ব্যাখ্যা প্রকাশ করে ডিএসই।

ডিএসই জানায়, কর্মী নিয়োগ যেমন একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত প্রক্রিয়া, তেমনি সাংগঠনিক প্রয়োজন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক বাস্তবতার কারণে চাকরির অবসানও একটি স্বীকৃত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২২ সাল থেকে চলমান দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সীমিত সংখ্যক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মোট ৩৫০ জন কর্মীর মধ্যে ১৭ জনের চাকরির অবসান ঘটানো হয়েছে, যা মোট জনবলের ৫ শতাংশেরও কম।

ডিএসই আরও জানায়, কোনো ব্যক্তিগত বিবেচনা বা বৈষম্যের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২৬ ধারা অনুযায়ী নোটিশ প্রদান অথবা নোটিশের পরিবর্তে ক্ষতিপূরণ দিয়ে চাকরির অবসান ঘটানো আইনসম্মত। ডিএসইর দাবি, তারা কেবল আইনি বাধ্যবাধকতাই পালন করেনি, মানবিক বিবেচনায় আইন অনুযায়ী প্রাপ্য চার মাসের পরিবর্তে বিদায়ী কর্মীদের মোট ছয় মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করেছে।

এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, অব্যবহৃত ছুটির নগদায়নসহ সব পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে অভিজ্ঞতার সনদ (Experience Certificate) এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিএসইর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, যা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। প্রতিষ্ঠানটি সব পক্ষকে তথ্য যাচাই করে মন্তব্য করার আহ্বান জানিয়েছে।

সবশেষে ডিএসই বিনিয়োগকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও অন্যান্য অংশীজনকে আশ্বস্ত করে বলেছে, তারা ভবিষ্যতেও আইন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ