ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

আত্মগোপনের পুরো গল্প জানালেন জাহাঙ্গীর কবির নানক

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৪ ১০:১১:২১
আত্মগোপনের পুরো গল্প জানালেন জাহাঙ্গীর কবির নানক

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কয়েক দফা আশ্রয় পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান। আনন্দবাজারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আত্মগোপনে থাকার সময়, দেশ ছাড়ার প্রক্রিয়া, শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন।

নানকের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের আগে তিনি গণভবনে ছিলেন। সেদিন পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং একাধিক স্থানে আশ্রয় নেন। পরে তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর দাবি, তাঁর জামাই তাকে দেশ ছাড়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন এবং সেই প্রক্রিয়ায় তিনি সীমান্ত পার হন।

নানক বলেন, ১৬ আগস্ট তিনি শিলংয়ে পৌঁছান। এরপর মালদহ হয়ে পরদিন কলকাতায় যান। তিনি জানান, ভারতে যাওয়ার আগে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ব্যবহৃত কয়েকটি টেলিফোনও ফেলে দেন।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়েও কথা বলেন নানক। তাঁর দাবি, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা আরও কিছু সময় দেশে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। তিনি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই দ্রুত দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

ভারতে আওয়ামী লীগের কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যালয় রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নানক বিষয়টি অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, কলকাতায় আওয়ামী লীগের কোনো অফিস নেই। তবে নেতাকর্মীরা সুযোগ পেলে কোথাও বসতে বা দেখা করতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নানক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পেছনে তিনি ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ ও ‘ডিপ স্টেট’ ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দলীয় দুর্বলতা ও ব্যর্থতার প্রশ্নে তিনি সরাসরি দায় স্বীকার না করে আন্দোলনের সময়কার পরিস্থিতি এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন।

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ডের মামলায় নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে নানক বলেন, তিনি আইনগতভাবে লড়াই করছেন। তাঁর দাবি, মামলার নথিতে তার নির্দেশের কথা বলা হলেও তাকে ঘটনাস্থলে দেখেছেন—এমন প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের উল্লেখ তিনি পাননি। তবে এসব দাবি আদালতের বিচারাধীন বিষয়।

সাক্ষাৎকারের শেষদিকে দেশে ফেরার প্রসঙ্গেও কথা বলেন নানক। শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তিনিও ফিরবেন বলে জানান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাকে আবার দেখা যাবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বেঁচে থাকলে দেখা যাবে।”

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ