ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

টিসিবির নতুন কার্ডে কারা পাবেন সুবিধা, লাগবে যেসব কাগজ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৫:২৩:৫৫
টিসিবির নতুন কার্ডে কারা পাবেন সুবিধা, লাগবে যেসব কাগজ

অনিয়মের অভিযোগে আগের প্রায় ৫৯ লাখ টিসিবি কার্ড বাতিলের পর প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নতুনভাবে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য যাচাই করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নতুন কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘সমগ্র বাংলাদেশে টিসিবির উপকারভোগী নির্বাচন এবং ভর্তুকি/সাশ্রয়ীমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা-২০২৬’ জারি করেছে। এতে সুবিধাভোগী নির্বাচন থেকে শুরু করে পণ্য বিক্রি, কার্ডের তথ্য সংরক্ষণ এবং পুরো কার্যক্রম তদারকির পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন কার্ডের জন্য কী কী লাগবে

টিসিবির সুবিধা পেতে আগ্রহী ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নিবন্ধনের সময় পরিচয় যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডিও দিতে হবে। এর সঙ্গে আবেদনকারীর নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।

একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে টিসিবির সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকছে না।

কাদের জন্য এই কার্ড

নতুন নির্দেশিকায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে টিসিবির সুবিধার আওতায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

হতদরিদ্র পরিবার ও নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি ভূমিহীন, কৃষিশ্রমিক, দিনমজুর, চা-শ্রমিক, চাতালশ্রমিক এবং কারখানার শ্রমিকরা কার্ড পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন। উপার্জনে অক্ষম ব্যক্তিরাও এই তালিকায় থাকবেন।

তবে সবার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার একই নয়। বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবারকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কোনো দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকলেও সেই পরিবারকে কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকবে।

কার্ডে নির্ধারিত দামে মিলবে যেসব পণ্য

নতুন নির্দেশিকায় ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়মিত তিন ধরনের পণ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার পাবে দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল এবং এক কেজি চিনি।

পণ্যের নির্ধারিত দামও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে পাওয়া যাবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ পাওয়া গেলে এর সঙ্গে কার্ডধারীদের পাঁচ কেজি করে চালও দেওয়া হবে।

কার্ডের বাইরে সাধারণ মানুষও পাবেন সুযোগ

টিসিবির কার্যক্রম শুধু ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যেই সীমিত থাকবে না। পবিত্র রমজান ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের কাছেও ভ্রাম্যমাণ ট্রাকসেলের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করা যাবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সংস্থাটির পণ্য বিক্রির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে দুই লাখ টন ভোজ্যতেল, দুই লাখ ২০ হাজার টন মসুর ডাল এবং এক লাখ ১০ হাজার টন চিনি।

তথ্য থাকবে কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে

নতুন ব্যবস্থার বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো সুবিধাভোগীদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সব উপকারভোগীর তথ্য ‘টিসিবি সেবা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসে রাখা হবে।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করা এবং তাদের কাছে পণ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগের ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের কারণে প্রায় ৫৯ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে। সেই বাতিল হওয়া কার্ডের পরিবর্তে এবার ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নতুন কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ডিলারের দোকানেও বাড়ছে নজরদারি

টিসিবির পণ্য বিক্রির জায়গায়ও নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিলারদের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শুধু ক্যামেরা থাকলেই হবে না, দোকানের দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্যতালিকাও রাখতে হবে। এর ফলে বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্যের নির্ধারিত দাম দেখার সুযোগ থাকবে।

জেলা থেকে বিক্রয়কেন্দ্র—তদারকিতে কমিটি ও ট্যাগ টিম

জেলা পর্যায়ে টিসিবির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসককে সভাপতি করে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। এতে পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মেয়র এবং খাদ্য ও সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা থাকবেন।

আর উপজেলা, ইউনিয়ন ও বিক্রয়কেন্দ্র পর্যায়ের কার্যক্রম দেখভালের জন্য থাকবে ‘ট্যাগ টিম’।

ভর্তুকিও কমার প্রত্যাশা

নতুন কার্ড ব্যবস্থার পাশাপাশি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির ভর্তুকির পরিমাণও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আগের অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এবার তা প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকায় নেমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে সুবিধাভোগী বাছাই, কার্ড বিতরণ, পণ্য বিক্রি এবং নজরদারির পুরো প্রক্রিয়াকে নতুন কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে।

FAQ

প্রশ্ন: টিসিবির নতুন ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কী কী প্রয়োজন হবে?

উত্তর: আবেদনকারীর এনআইডি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি এবং আবেদনকারীর নিজস্ব এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে।

প্রশ্ন: একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি কি টিসিবির কার্ড নিতে পারবেন?

উত্তর: না। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি টিসিবির সুবিধাভোগী হতে পারবেন না।

প্রশ্ন: নতুন টিসিবি কার্ডে কী পণ্য পাওয়া যাবে?

উত্তর: নিয়মিত দুই লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি পাওয়া যাবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে পাঁচ কেজি চালও দেওয়া হবে।

প্রশ্ন: টিসিবির পণ্যের নির্ধারিত দাম কত?

উত্তর: ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, মসুর ডাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা এবং চিনি প্রতি কেজি ৭০ টাকা।

প্রশ্ন: কারা টিসিবির কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন?

উত্তর: বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসচ্ছল বয়স্ক নারীপ্রধান পরিবার বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন। যেসব দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন, তারাও অগ্রাধিকার পাবেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: