ঢাকা, বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

একাদশে ভর্তি আবেদনে বড় পরিবর্তন, এবার যা করতে হবে শিক্ষার্থীদের

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১১:৫৬:৫৭
একাদশে ভর্তি আবেদনে বড় পরিবর্তন, এবার যা করতে হবে শিক্ষার্থীদের

চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার আগের মতো তিন ধাপে নয়, এক ধাপেই একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে থাকছে না মাইগ্রেশন বা পছন্দের কলেজ পরিবর্তনের নিয়মিত সুযোগ।

ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়।

একবারই আবেদন, থাকবে না মাইগ্রেশনবিগত বছরগুলোতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা তিন ধাপে অনলাইনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারতেন। প্রতিটি ধাপে কলেজ পছন্দের সুযোগ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দ পরিবর্তনের সুযোগ ছিল।

তবে নতুন ব্যবস্থায় প্রথম পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একবারই আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আবেদন এক ধাপে হওয়ায় আগের মতো স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশনের সুযোগও থাকবে না।

অর্থাৎ শিক্ষার্থী যে কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হবে, সাধারণ নিয়মে সেখানেই ভর্তি হতে হবে। পছন্দের কলেজ পাওয়ার বিষয়টি তাই আবেদন করার সময় দেওয়া পছন্দক্রমের ওপর আরও বেশি নির্ভর করবে।

তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে পুনরায় আবেদনের সুযোগ রাখা হচ্ছে। খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনর্নিরীক্ষার পর যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে, তারা নতুন করে আবেদনের সুযোগ পাবে।

এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী প্রথম ধাপে আবেদন করতে না পারলে, নির্বাচিত হওয়ার পর ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে কিংবা কোনো কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত না হলে পরবর্তী সময়ে আবার আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগের প্রাথমিক প্রস্তাবে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চালানোর কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী ১২ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তাবও ছিল।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সময়সূচিতে সম্মতি দেয়নি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকেই অনলাইন আবেদন শুরু এবং একই মাসের মধ্যেই মূল ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

একাদশ শ্রেণির ক্লাস সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুনর্নিরীক্ষার ফলের কারণে যারা পরে আবেদন করে কলেজ পরিবর্তন করবে, তাদের ক্লাসও আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো একাদশ শ্রেণির একাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নীতিমালা চূড়ান্ত হবে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয় তা নীতিমালা আকারে জারি করবে।

তিনি জানান, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সাধারণত একাদশ শ্রেণির ক্লাস ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু গত কয়েক বছর বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে ভর্তি ও ক্লাস শুরু করা সম্ভব হয়নি।

গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছিল ১০ জুলাই। দীর্ঘ ভর্তি প্রক্রিয়ার কারণে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। ফলে গত বছরের তুলনায় ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস শুরুতে খুব বেশি দেরি করতে চায় না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে এক ধাপে আবেদন, মাইগ্রেশন বাতিল এবং সেপ্টেম্বরেই ক্লাস শুরুর বিষয়গুলো এখনো চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের অপেক্ষায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদন ফি, পছন্দক্রম ও অন্যান্য শর্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ