ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

১৯৩৮ সালের পর চেলসিকে হারিয়ে ইতিহাস ব্রেন্টফোর্ডের

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১০:৪৫:০৭
১৯৩৮ সালের পর চেলসিকে হারিয়ে ইতিহাস ব্রেন্টফোর্ডের

দলবদলে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও মাঠে তার প্রতিফলন মিলছে না চেলসির। ৩৫৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করা দলটি এবার ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা ব্রেন্টফোর্ডের কাছে হারল ৩-০ গোলে। এই পরাজয়ে প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন ম্যাচে জয়হীন থাকল জাবি আলোনসোর দল। অন্যদিকে ঐতিহাসিক এক জয়ের পাশাপাশি চলতি লিগে নিজেদের অপরাজিত থাকার ধারাও ধরে রাখল ব্রেন্টফোর্ড।

চেলসির বিপক্ষে এই জয়ের বিশেষত্ব আরও বড়। ১৯৩৮ সালের পর ঘরের মাঠে চেলসিকে হারাতে পারেনি ব্রেন্টফোর্ড। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই জয় এলো তিন গোলের ব্যবধানে। ম্যাচ শেষে ম্যানেজার কিথ এডওয়ার্ডস ও তার খেলোয়াড়রা জয় উদ্‌যাপনে মেতে ওঠেন।

পয়েন্ট তালিকায় উল্টো চিত্র

ব্রেন্টফোর্ডের জয় তাদের পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে তুলে দিয়েছে। চেলসির অবস্থান এখন সাত নম্বরে। ফলে একই ম্যাচের ফল দুই দলের অবস্থানে ভিন্ন চিত্র তৈরি করেছে—একদিকে অপরাজিত ব্রেন্টফোর্ডের উত্থান, অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচে জয়হীন চেলসি।

ম্যাচের আগে চেলসির আক্রমণভাগ অবশ্য আশাব্যঞ্জক অবস্থায় ছিল। মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচে তারা মোট ১০টি গোল করেছিল। কিন্তু ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে সেই ধারার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

শুরুতে সুযোগ পেয়েও গোল করতে পারেনি চেলসি

চেলসির হয়ে পেদ্রো নেতোর একটি বাঁকানো শট গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। কিন্তু ব্রেন্টফোর্ডের গোলরক্ষক কাওমহিন কেলহার সেটি ঠেকিয়ে দেন। কোল পালমারও দুইবার প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে গোলের কাছাকাছি পৌঁছান, কিন্তু সুযোগগুলোকে গোলে রূপ দিতে পারেননি।

চোটের কারণে ফর্মে থাকা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রোকে ছাড়াই খেলতে হয়েছিল চেলসিকে। তাদের আক্রমণভাগের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্রেন্টফোর্ডের রক্ষণভাগের সামনে থেমে যায়।

গোলের দরজা খুলল দ্বিতীয়ার্ধে

ম্যাচের ৬০ মিনিট পর্যন্ত দুই দলই গোল করতে পারেনি। এরপর ৬১তম মিনিটে বদলে যায় ম্যাচের পরিস্থিতি।

কর্নার থেকে আসা বল ইয়ানিক শুস্টারের হেড হয়ে গোলমুখে পৌঁছায়। সেখান থেকে জেইডন অ্যান্থনি হেডে বল জালে পাঠিয়ে ব্রেন্টফোর্ডকে এগিয়ে দেন।

এই গোলের ফলে চেলসির আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ধারাও অব্যাহত থাকে। প্রিমিয়ার লিগে টানা ২১ ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষকে গোল করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। অর্থাৎ ২১ ম্যাচ ধরে ক্লিন শিট পায়নি চেলসি।

শেষ ১০ মিনিটে আরও দুই গোল

এক গোলের লিড নিয়েও থামেনি ব্রেন্টফোর্ড। ৮৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে পাল্টা আক্রমণ থেকে।

কেভিন শ্যাডের নেওয়া প্রচেষ্টা এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ঠেকিয়ে দিলেও বিপদ কাটেনি। প্রতিহত বলটি ইগর থিয়াগোর কাছে চলে আসে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রেন্টফোর্ডের ব্যবধান ২-০ করেন।

ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে তৃতীয় গোলটি আসে। কেভিন শ্যাডের বাড়ানো ক্রস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান বদলি খেলোয়াড় ফ্যাবিও কারভালহো। তাতেই ৩-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়।

আলোনসোর একাদশেও ছিল পাঁচ পরিবর্তন

ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে চেলসির শুরুর একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন করেছিলেন কোচ জাবি আলোনসো। চোটের কারণে অধিনায়ক রিচ জেমস ছিলেন না।

অন্যদিকে ড্যানি ওয়েলবেক লিগে প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে জায়গা পান। জর্ডান হেন্ডারসনও চেলসির হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন। তার অভিষেকটি হয় সাবেক ঠিকানা ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষেই।

চোটের কারণে মইসেস কাইকাদোও সাইডলাইনে ছিলেন।

নতুন মৌসুমে ব্রেন্টফোর্ডের ধারাবাহিকতা

১০৬ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে গড়া ব্রেন্টফোর্ডের বিপরীতে চেলসি দলবদলে খরচ করেছে ৩৫৯ মিলিয়ন পাউন্ড। কিন্তু মাঠের ফলাফলে বড় ব্যবধান দেখা গেল ব্রেন্টফোর্ডের পক্ষেই।

তিন গোলের জয়ে ব্রেন্টফোর্ড শুধু ঐতিহাসিক জয়ই পেল না, লিগে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকার ধারাও ধরে রাখল। আর চেলসির জন্য ৩-০ ব্যবধানের এই হার যোগ করল প্রিমিয়ার লিগে টানা তৃতীয় জয়হীন ম্যাচ।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ