ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পেনশনে বড় সুখবর, নমিনি পাবেন ৮০ বছর পর্যন্ত সুবিধা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ২১:১১:৫১
পেনশনে বড় সুখবর, নমিনি পাবেন ৮০ বছর পর্যন্ত সুবিধা

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একসঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেনশন তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদনের পাশাপাশি পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীর সুবিধা পাওয়ার বয়সসীমা ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে এই সীমা ছিল ৭৫ বছর।

এর বাইরে সরকারি মালিকানাধীন যেসব কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সরকারের প্রচলিত পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধার বাইরে রয়েছেন, তাঁদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি’ স্কিমে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সভায় ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভা শেষে সাংবাদিকদের সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো জানান জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

পরিবারের জন্য বাড়ল সুবিধার সময়

নতুন সিদ্ধান্তের একটি সরাসরি প্রভাব পড়বে পেনশনভোগীর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীর ওপর। পেনশনভোগী মারা গেলে তাঁর নমিনি স্বামী বা স্ত্রী যে বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখেন, সেই সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ।

৭৫ বছরের পরিবর্তে এখন ৮০ বছর পর্যন্ত সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মতে, এর ফলে পেনশনভোগীর পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। দীর্ঘ মেয়াদে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তাও বাড়বে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

পেনশন তহবিলের মুনাফায় নতুন হার

এবারের সভায় পেনশন তহবিলের আর্থিক হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ হার হিসেবে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। আগের অর্থবছরে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের হার নির্ধারণের সময় তহবিলের বিনিয়োগ কার্যক্রমের পাশাপাশি আয়-ব্যয় এবং আর্থিক সক্ষমতাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

পেনশন সুবিধার বাইরে থাকা কর্মীদের যুক্ত করার উদ্যোগ

সরকারের মালিকানাধীন বিভিন্ন করপোরেশন, কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবাই বর্তমানে সরকারের প্রচলিত পেনশন ও আনুতোষিক ব্যবস্থার আওতায় নেই। যাঁরা এই সুবিধা পান না, তাঁদের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের অবসর-সুবিধা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকরিবিধি ও ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।

উদ্যোগটি কার্যকর হলে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেনশনবঞ্চিত কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আসার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই ব্যবস্থার আওতায় আসবেন এবং তাঁদের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া কী হবে, তা পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত নির্দেশনার মাধ্যমে জানানো হবে।

ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থার নীতিগত অনুমোদন

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতা ও ব্যবস্থাপনায় আরেকটি নতুন সংযোজনের পথও খুলেছে। ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ।

এই ব্যবস্থা তৈরির কাজে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত রয়েছে। ইসলামিক পেনশনের জন্য আলাদা বিধিমালা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান।

৫৫ বছরেই পেনশন—প্রস্তাব নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই

পেনশন সুবিধা শুরুর বয়স কমানোর একটি প্রস্তাবও বৈঠকে আলোচনায় এসেছে। ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও সেটি এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগে একচুরিয়াল বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হবে। নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, স্পেনে ৬৭ বছর এবং যুক্তরাজ্যে ৬৬ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে—এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তাই পেনশন সুবিধা শুরুর বয়স নির্ধারণে দেশের আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি জনমিতিক বাস্তবতাও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এক সভায় পেনশন ব্যবস্থার একাধিক দিক নিয়ে সিদ্ধান্ত

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ সভার সিদ্ধান্তগুলোতে তাই পেনশন তহবিলের মুনাফা থেকে শুরু করে নমিনি সুবিধা, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নতুন ধরনের পেনশন ব্যবস্থা—বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব, নমিনি স্বামী বা স্ত্রীর সুবিধা পাওয়ার বয়স ৭৫ থেকে ৮০ বছর করা এবং পেনশনবঞ্চিত সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিমে আনার উদ্যোগ ইতোমধ্যে অনুমোদনের পর্যায়ে এসেছে।

অন্যদিকে ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে নীতিগত অনুমোদন মিললেও এর জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। আর ৫৫ বছর বয়স থেকে পেনশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ