ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আজই আসতে পারে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৯ ১২:৩১:৫২
আজই আসতে পারে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে পারে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন দুপুরের পর প্রকাশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে এবং কখন বাস্তবায়িত হবে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হওয়ার পথে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধার আওতায় আসবেন। পাশাপাশি সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগীর ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো অনুযায়ী সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে।

প্রথমে প্রজ্ঞাপন, এরপর বেতন ফিক্সেশনের কাজ

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংও সম্পন্ন হয়েছে। এখন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)-এ প্রজ্ঞাপন ছাপানোর কাজ চলছে।

সবকিছু নির্ধারিতভাবে এগোলে শনিবার দুপুরের পর প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ হতে পারে।

প্রজ্ঞাপন জারি হলে সরকারি কর্মচারীদের নতুন স্কেলে বেতন ফিক্সেশন এবং বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। তবে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগ পর্যন্ত বাস্তবায়নের চূড়ান্ত নির্দেশনা ও সময়সূচির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি আদেশই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

২০ গ্রেড থাকলেও বদলাবে বেতনের পরিমাণ

নতুন কাঠামোয় গ্রেডের সংখ্যা বাড়ছে না। আগের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হচ্ছে। পরিবর্তন আসছে মূল বেতনের পরিমাণে।

২০তম গ্রেডে বর্তমানে ৮ হাজার ২৫০ টাকা প্রারম্ভিক মূল বেতন রয়েছে। নতুন কাঠামোয় সেটি ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার কথা রয়েছে। বিপরীতে প্রথম গ্রেডের ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত বেতন দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

এর ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত হবে ১:১.৭৮।

গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন বাড়ানোর হার ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত রয়েছে। অর্থাৎ অনেক গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন দ্বিগুণ হওয়ার সুযোগ থাকছে।

একবারে নয়, তিন ধাপে বাড়বে মূল বেতন

নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পুরো নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে সরকারি ব্যয়ভার ও মূল্যস্ফীতির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল বেতন পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

আলাদা বাস্তবায়ন আদেশ পাবে কয়েকটি খাত

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের জন্য মূল গেজেটের পাশাপাশি বিভিন্ন বাহিনী ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পৃথক ৫ থেকে ৭টি এসআরও জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এর আওতায় বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক বাস্তবায়ন আদেশ থাকার কথা রয়েছে।

আইবাস++-এও চলছে পরিবর্তনের কাজ

বেতন কাঠামোর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারি বেতন-ভাতা ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার ‘আইবাস++’-কেও নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে।

তিন ধাপে নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার কারণে সফটওয়্যারে বেতন পুনর্নির্ধারণ বা ফিক্সেশন এবং নতুন হিসাব কাঠামো যুক্ত করার কাজ চলছে। একই সময়ে অবসরে যাওয়া প্রায় সোয়া ৯ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর তথ্য এবং তাঁদের পেনশনের স্তর সমন্বয়ের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পেনশনে বৃদ্ধির হার নির্ভর করবে বর্তমান অঙ্কের ওপর

নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের জন্যও আলাদা হারে সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রয়েছে। নিট পেনশনের পরিমাণ অনুযায়ী এই বৃদ্ধির হার নির্ধারিত হবে।

নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম হলে বাড়বে ১০০ শতাংশ।

৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৭৫ শতাংশ।

২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬৫ শতাংশ।

৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হলে বাড়বে ৬০ শতাংশ।

৪০ হাজার ১ টাকার বেশি হলে বাড়বে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত।

এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

নতুন ভাতার আওতায় থাকছে মোবাইল ও প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা

নতুন কাঠামোয় বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি কিছু অতিরিক্ত সুবিধার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা দেওয়ার কথা রয়েছে। সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থাও থাকছে।

নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।

সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কত

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আর্থিক প্রভাবও রয়েছে। সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন পে-স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়নি। এবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি প্রায় শেষ। ফলে শনিবার দুপুরের পর সেটি প্রকাশিত হলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ তৈরি হবে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ