ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আভিভা ইক্যুইটিতে লেনদেন বন্ধ

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১১:০৩:১৬
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আভিভা ইক্যুইটিতে লেনদেন বন্ধ

বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব থেকে লেনদেনের সুযোগও বন্ধ—এমন পরিস্থিতিতে পড়েছে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে কোনো শেয়ার লেনদেন করতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে সব ধরনের শেয়ার লেনদেন বন্ধ রেখেছে।

লেনদেন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএসইর জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন কারণে লেনদেন বন্ধ করা হলো বা এ বিষয়ে ডিএসইর সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কী, তা বুধবার দিন শেষে স্টক এক্সচেঞ্জটির ওয়েবসাইটে বিনিয়োগকারীদের জন্য জানানো হয়নি।

অভিযোগের তালিকায় অর্থ ও শেয়ার ব্যবহারের নানা বিষয়

আভিভা ইক্যুইটির বিরুদ্ধে সম্প্রতি একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। মূল কোম্পানি থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা সমন্বিত গ্রাহক হিসাব বা সিসিএর অর্থ সরানো হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।

এর পাশাপাশি ঋণাত্মক হিসাবধারীদের মার্জিন ঋণ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ডিলার ও নেগেটিভ অ্যাকাউন্টে শেয়ার স্থানান্তর এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্লেসমেন্ট শেয়ার প্রশ্নবিদ্ধ দামে কেনার বিষয়টিও অভিযোগের মধ্যে রয়েছে।

কোম্পানিটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখার কথা জানা গেছে। এসব বিষয় নিয়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্তের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।

এক সময় প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল রিলায়েন্স ব্রোকারেজ

আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট নামে প্রতিষ্ঠানটি আগে পরিচিত ছিল রিলায়েন্স ব্রোকারেজ সার্ভিসেস নামে। এটি আভিভা ফাইন্যান্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

বিএসইসির প্রকাশ্য নথিতে প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো নামের বিরুদ্ধেও নিয়ন্ত্রক কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালে রিলায়েন্স ব্রোকারেজ সার্ভিসেস লিমিটেডের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনসংক্রান্ত কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল।

ওই বছরের ২৯ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটির ব্যাখ্যা বিবেচনা করে কমিশন বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে সতর্ক করা হয়েছিল।

ডিএসইতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় TREC ৬২

বর্তমানে বিএসইসির প্রকাশ্য তালিকায় আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেক (TREC) নম্বর ৬২ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা, বিএনপির মাঠের সংগঠনে ভাটা

এদিকে লেনদেন বন্ধের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আভিভা ইক্যুইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।

তদন্তের তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগই থাকছে অভিযোগ হিসেবে

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই ডিএসইর লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত আসায় বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিও হিসাব থেকেও লেনদেন বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলাফল কিংবা পরবর্তী নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে তদন্ত বা নিয়ন্ত্রক পর্যায়ের পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আভিভা ইক্যুইটির বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ