ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পদ যাচাইয়ে প্রশ্ন, সোনারগাঁওয়ের শেয়ারে উল্লম্ফন

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১১:১৮:৫২
সম্পদ যাচাইয়ে প্রশ্ন, সোনারগাঁওয়ের শেয়ারে উল্লম্ফন

সোনারগাঁও টেক্সটাইলের আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসান, ঋণ আদায়ে ব্যাংকের আইনি পদক্ষেপ এবং সম্পদের অস্তিত্ব যাচাই করতে না পারার মতো বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যেই শেয়ারবাজারে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১৪৭ শতাংশ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ সোনারগাঁও টেক্সটাইলের একটি শেয়ারের দাম ছিল ৩৭ টাকা ৭০ পয়সা। বুধবারের লেনদেন শেষে সেটি বেড়ে হয়েছে ৯৩ টাকা ২০ পয়সা।

আর্থিক প্রতিবেদনে ধারাবাহিক লোকসান

কোম্পানিটির সর্বশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পুঞ্জীভূত লোকসান দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ওই অর্থবছরেও প্রতিষ্ঠানটি মুনাফায় ফিরতে পারেনি; বরং লোকসান হয়েছে ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের হিসাবেও লোকসানের তথ্য রয়েছে। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৯ পয়সা।

২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত ছয় অর্থবছরের মধ্যে চার বছরই লোকসান করেছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল। এই ধারাবাহিক লোকসানের প্রেক্ষাপটে কোম্পানিটির ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নিরীক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন।

হিসাবের সম্পদ নিয়েও নিশ্চিত হতে পারেননি নিরীক্ষক

সোনারগাঁও টেক্সটাইলের আর্থিক প্রতিবেদনে থাকা সম্পদের হিসাবের একটি অংশও নিরীক্ষকের কাছে যাচাইযোগ্য হয়নি।

প্রতিবেদনে ৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার মজুদ পণ্য এবং ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শন কিংবা অন্য কোনো বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করেও এসব সম্পদের অস্তিত্ব যাচাই করতে পারেননি নিরীক্ষক।

কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। ১৪ কোটি ৭ লাখ টাকার কাঁচামাল কেনার উল্লেখযোগ্য অংশ নগদ অর্থে পরিশোধ করা হয়েছিল বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই লেনদেনগুলোর সত্যতাও নিশ্চিত করতে পারেননি নিরীক্ষক।

তিন ব্যাংকের সঙ্গে আইনি জটিলতা

ঋণের বিষয়টিও সোনারগাঁও টেক্সটাইলের জন্য আরেকটি চাপের জায়গা হয়ে আছে। ঋণের অর্থ আদায়ের জন্য বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৯ ও ২০২২ সালের অবণ্টিত লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১০ লাখ টাকার শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিলও বিতরণ করা হয়নি।

শেয়ারদর ও লেনদেন নিয়ে সিএসইর প্রশ্ন

কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার এমন তথ্যের মধ্যেই শেয়ারবাজারে এর শেয়ারদর ও লেনদেন বাড়তে থাকে। বিষয়টি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নজরে আসে।

গত ৩ আগস্ট সিএসই সোনারগাঁও টেক্সটাইলের কাছে শেয়ারদর এবং লেনদেন বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে ব্যাখ্যা চায়।

কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া জবাবে বলা হয়, শেয়ারটির লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই।

বাজারদর ও কোম্পানির আর্থিক চিত্রে ভিন্নতা

একদিকে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসানের ধারাবাহিকতা, ঋণ আদায়ে ব্যাংকের আইনি পদক্ষেপ এবং বিপুল অঙ্কের মজুদ পণ্য ও স্থায়ী সম্পদের অস্তিত্ব যাচাই করতে না পারার বিষয় রয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৯৩ টাকা ২০ পয়সায় উঠেছে।

শেয়ারদর বৃদ্ধির কারণ জানতে সিএসইর প্রশ্নের জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, এ উত্থানের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য তাদের কাছে নেই।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ