ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

যাঁর টানে ১৯০০ কিমি পাড়ি, সেই নারী আসলে বাস্তবেই নেই

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৯:১৬:২৭
যাঁর টানে ১৯০০ কিমি পাড়ি, সেই নারী আসলে বাস্তবেই নেই

হাতে একটি নারীর ছবি। সেটি দেখিয়ে পথচলতি মানুষের কাছে খোঁজ নিচ্ছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক রাজমিস্ত্রি। এই নারীর টানেই নিজের সবকিছু বেচে প্রায় ১৯০০ কিলোমিটার দূরের শহরে এসেছিলেন তিনি। শেষে জানা গেল, ছবির ওই নারী রক্তমাংসের কেউ নন। তাঁকে বানিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থাৎ এআই।

রেডিও স্টেশনে ভাঙল স্বপ্ন

ব্রাজিলের বেলো হরিজোন্তে শহরে খোঁজ করতে করতে এদিমার মার্তিন্স একসময় স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে যোগাযোগ করেন। সেখানেই তিনি প্রথম শোনেন, তাঁর ভালোবাসার মানুষটি পুরোপুরি ভুয়া। যে অ্যাকাউন্ট দেখে তিনি এতদূর এসেছেন, সেটি এআই দিয়ে বানানো একটি প্রফেশনাল এনগেজমেন্ট পেজ ছাড়া আর কিছু নয়।

ঘরছাড়া হওয়ার পেছনের গল্প

মার্তিন্স মারানহাও রাজ্যের বাসিন্দা। মা মারা যাওয়ার পর তিনি গভীর একাকীত্বে ভুগছিলেন। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর চোখে পড়ে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ বা ‘জেসিকা ফাজেনদেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট। নতুন করে জীবন শুরু করতে চেয়ে গত ৯ অক্টোবর তিনি নিজের যা কিছু ছিল সব বিক্রি করে দেন। তারপর বাসে চেপে রওনা হন বেলো হরিজোন্তের দিকে।

খালি হাতে শহরে, পাশে দাঁড়াল পৌর কর্তৃপক্ষ

সবকিছু বেচে আসা মানুষটি তখন একেবারে নিঃস্ব। এই অবস্থায় তাঁর সহায়তায় এগিয়ে আসে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ। তারা তাঁর খাবার ও গোসলের ব্যবস্থা করে এবং বাড়ি ফেরার বাসের টিকিট কেটে দেয়।

যিনি বানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য

এআই চরিত্র ‘জেসিকা’কে দিয়েই একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন অ্যাকাউন্টটির নির্মাতা। সেখানে তিনি জানান, শুধু পেজের এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্যই চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছিল। মার্তিন্সের সঙ্গে তাঁদের কখনো ব্যক্তিগত কোনো কথা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

মার্তিন্স একা নন

দ্য সান পত্রিকার প্রতিবেদন বলছে, এমন ঘটনা এই একটিই নয়। গত ছয় মাসে মার্তিন্সসহ তিনজন পুরুষ কাল্পনিক এই এআই নারীকে সত্যি ভেবে ভালোবেসেছেন। তিনজনই একই শহরে ছুটে এসে প্রতারিত হয়েছেন।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. ঘটনাটি কী?

ব্রাজিলের এক রাজমিস্ত্রি অনলাইনে দেখা এক নারীর টানে সব সম্পত্তি বিক্রি করে ১৯০০ কিলোমিটার দূরের শহরে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, নারীটি এআই দিয়ে বানানো একটি চরিত্র।

২. ঘটনার শিকার ব্যক্তি কে?

এদিমার মার্তিন্স, ৪৯ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি, থাকেন ব্রাজিলের মারানহাও রাজ্যে।

৩. তিনি কোন শহরে গিয়েছিলেন?

৯ অক্টোবর বাসে করে তিনি বেলো হরিজোন্তে শহরে পৌঁছান।

৪. সত্যটা তিনি কীভাবে জানলেন?

ছবি হাতে শহরে খোঁজ করার পর স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, নারীটি ভুয়া।

৫. অ্যাকাউন্টের নির্মাতা কী বলেছেন?

এআই চরিত্র জেসিকার ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, শুধু পেজের এনগেজমেন্ট বাড়ানোর জন্য চরিত্রটি তৈরি। মার্তিন্সের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো কথা হয়নি।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত: