ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

৯০০০ mAh ব্যাটারি ও কুলিং ফ্যান নিয়ে আসছে iQOO Neo 12

তথ্য ও প্রযুক্তি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৪ ১৪:৫৩:২১
৯০০০ mAh ব্যাটারি ও কুলিং ফ্যান নিয়ে আসছে iQOO Neo 12

গেমিংয়ের জন্য শক্তিশালী স্মার্টফোন খুঁজছেন, এমন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন Neo সিরিজের ফোন আনছে iQOO। iQOO Neo 12-এ থাকছে Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর, আলাদা Q3 গেমিং চিপ, ৯,০০০ mAh ব্যাটারি এবং সর্বোচ্চ ১৮৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের ২কে ডিসপ্লে। দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় ফোনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এতে যুক্ত করা হয়েছে বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যানও।

চীনে ২৮ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টায় ফোনটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন হওয়ার কথা। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ফোনটির নকশা, ডিসপ্লে, প্রসেসর, ব্যাটারি ও চার্জিংয়ের বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে দাম, সব মেমোরি সংস্করণ এবং ক্যামেরার বিস্তারিত এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে আপাতত iQOO Neo 12-এর যেসব বৈশিষ্ট্য জানা গেছে, সেগুলোই ফোনটির সম্ভাব্য সক্ষমতা বোঝার প্রধান ভিত্তি।

iQOO Neo 12-এর সম্ভাব্য দাম কত?

২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত iQOO Neo 12-এর আনুষ্ঠানিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। চীনে ফোনটির প্রি-অর্ডার নেওয়া হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত দাম জানতে ২৮ অক্টোবরের উন্মোচন অনুষ্ঠানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশেও ফোনটির আনুষ্ঠানিক দাম বা বিক্রির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। তাই এখনই বাংলাদেশি টাকায় নির্দিষ্ট মূল্য বলা হলে তা অনুমাননির্ভর হবে। চীনের দাম প্রকাশের পরও বাংলাদেশে আমদানি, কর, বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণ ও ওয়ারেন্টির কারণে দাম আলাদা হতে পারে।

গেমিংয়ের জন্য Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর

iQOO Neo 12-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ Qualcomm-এর Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর। এর সঙ্গে রয়েছে iQOO-এর নিজস্ব Q3 গেমিং চিপ। মূল প্রসেসরের পাশাপাশি আলাদা গেমিং চিপ ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো সমর্থিত গেমে গ্রাফিকস, ফ্রেম রেট ও গেমিং-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় উন্নত অভিজ্ঞতা দেওয়া।

শুধু শক্তিশালী প্রসেসর থাকলেই দীর্ঘ সময় গেম খেলার অভিজ্ঞতা নিশ্চিত হয় না। ফোনের তাপমাত্রা, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন, গেমের সমর্থন এবং ব্যাটারির ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। iQOO Neo 12-এ আলাদা কুলিং ব্যবস্থা যুক্ত করার বিষয়টি এই জায়গায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ফোনের ভেতরেই থাকবে কুলিং ফ্যান

সাধারণ স্মার্টফোনে তাপ অপসারণের জন্য ভ্যাপার চেম্বার বা অন্যান্য প্যাসিভ কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। iQOO Neo 12-এ এর পাশাপাশি সক্রিয় কুলিং ফ্যান রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির Ice Dome কুলিং ব্যবস্থার সঙ্গে এই ফ্যান কাজ করবে।

ফোনটির পেছনের ক্যামেরা মডিউলের পাশে বৃত্তাকার জালের মতো অংশ এবং ফ্রেমের পাশে বায়ু চলাচলের জন্য তৈরি অংশ দেখা যায়। নকশাটি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, কুলিং ব্যবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

এই প্রযুক্তি দীর্ঘ সময় গেম খেলার সময় তাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে কতটা তাপ কমবে বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারে পারফরম্যান্স কতটা স্থিতিশীল থাকবে, তা স্বাধীন পরীক্ষার পরই ভালোভাবে বোঝা যাবে।

২কে রেজল্যুশনের ১৮৫ হার্টজ ডিসপ্লে

iQOO Neo 12-এ ২কে রেজল্যুশনের OLED ডিসপ্লে রয়েছে, যার সর্বোচ্চ রিফ্রেশ রেট ১৮৫ হার্টজ। উচ্চ রিফ্রেশ রেটের কারণে সমর্থিত গেম ও উপযুক্ত কনটেন্টে চলাচল আরও মসৃণ দেখানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিসপ্লের সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা হাই-ব্রাইটনেস মোডে ২,২০০ নিট পর্যন্ত হতে পারে। আবার অন্ধকার পরিবেশে চোখের আরামের জন্য উজ্জ্বলতা ১ নিট পর্যন্ত নামানো যায়।

গেমিংয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য ফোনটিতে ৫,০০০ হার্টজ পর্যন্ত তাৎক্ষণিক টাচ স্যাম্পলিং রেটের কথা বলা হয়েছে। মাল্টি-টাচ স্যাম্পলিং রেট সর্বোচ্চ ৫০০ হার্টজ। এগুলো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির প্রযুক্তিগত মান; প্রতিটি অ্যাপ বা গেমে সব সুবিধা একইভাবে কাজ করবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

আরও পড়ুন:

OPPO Find X10 ও Pro Max: দাম, ক্যামেরা ও স্পেসিফিকেশন

OnePlus Turbo 7 Pro-তে ১৮৫Hz ডিসপ্লে, ১০,০০০mAh ব্যাটারি?

আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—১৮৫ হার্টজ রিফ্রেশ রেট মানেই সব অ্যাপ বা গেম ১৮৫ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে চলবে না। গেমের নিজস্ব সীমা, সফটওয়্যার ও সমর্থনের ওপর প্রকৃত ফ্রেম রেট নির্ভর করবে। iQOO-এর দাবি অনুযায়ী, ৫০টির বেশি গেমে ২কে রেজল্যুশনে সর্বোচ্চ ১৮৫ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডে খেলার সুবিধা সমর্থন করার লক্ষ্য রয়েছে।

৯,০০০ mAh ব্যাটারি ও ১০০ ওয়াট চার্জিং

iQOO Neo 12-এ রয়েছে ৯,০০০ mAh ক্ষমতার একক-সেলের Blue Ocean ব্যাটারি। এতে পঞ্চম প্রজন্মের সিলিকন-অ্যানোড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যাটারির শক্তিঘনত্ব সর্বোচ্চ ৯১৬ Wh/L পর্যন্ত বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

ফোনটি ১০০ ওয়াট তারযুক্ত দ্রুত চার্জিং সমর্থন করবে। বড় ব্যাটারি দীর্ঘ সময় গেমিং, ভিডিও দেখা ও অন্যান্য কাজে সুবিধা দিতে পারে। তবে প্রকৃত ব্যাটারি ব্যাকআপ নির্ভর করবে ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট, উজ্জ্বলতা, নেটওয়ার্ক, গেমের ধরন এবং ব্যবহারের ওপর।

iQOO-এর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, একবার চার্জে ফোনটি সর্বোচ্চ ১১.৬ ঘণ্টা MOBA ধরনের গেম খেলা অথবা ২৯.৯ ঘণ্টা ছোট ভিডিও দেখার সময় দিতে পারে। এগুলো প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাভিত্তিক দাবি; বাস্তব ব্যবহারে ফল ভিন্ন হতে পারে।

নকশা ও রঙের বিকল্প

iQOO Neo 12-এ পলিশ করা ধাতব ফ্রেম এবং পেছনে চৌকো আকৃতির ক্যামেরা মডিউল রয়েছে। ফোনটির নকশায় গেমিং ফোনের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট। পেছনের অংশে দুটি ক্যামেরা লেন্স উল্লম্বভাবে সাজানো হয়েছে। এর পাশে কুলিং ফ্যানের সঙ্গে সম্পর্কিত বৃত্তাকার অংশও দেখা যায়।

চীনের বাজারে ফোনটি তিনটি রঙে আসবে বলে জানানো হয়েছে—Contest, Shadow Black এবং Frost Blade Blue। নামগুলোর বাংলা অনুবাদ করলে যথাক্রমে কনটেস্ট, শ্যাডো ব্ল্যাক ও ফ্রস্ট ব্লেড ব্লু বলা যায়। Contest সংস্করণে আলাদা টেক্সচারযুক্ত পেছনের প্যানেল রয়েছে, যা আলো ও দেখার কোণ বদলালে ভিন্নভাবে প্রতিফলিত হতে পারে।

ক্যামেরায় কী থাকছে?

প্রকাশিত ছবিতে iQOO Neo 12-এর পেছনে দুটি ক্যামেরা লেন্স দেখা গেছে। তবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যামেরার সেন্সরের রেজল্যুশন, আলট্রা-ওয়াইড বা টেলিফটো ক্যামেরার উপস্থিতি, অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন এবং সামনের ক্যামেরার বিস্তারিত সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তাই ফোনটিকে এখনই ক্যামেরাকেন্দ্রিক স্মার্টফোন হিসেবে মূল্যায়ন করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। ক্যামেরার পূর্ণ স্পেসিফিকেশন ও ছবির মান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং স্বাধীন পর্যালোচনার জন্য অপেক্ষা করা ভালো।

iQOO Neo 12 কবে বাজারে আসবে?

iQOO Neo 12-এর চীনে আনুষ্ঠানিক উন্মোচন ২৮ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চীনে প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং উন্মোচনের দিন থেকেই বিক্রি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে চীনে বিক্রি শুরু হওয়া মানেই একই দিনে বাংলাদেশে ফোনটি পাওয়া যাবে, এমন নয়। বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ, স্থানীয় মূল্য ও ওয়ারেন্টি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত ঘোষণা নেই। অন্য দেশে ফোনটি একই নামে নাকি ভিন্ন নামে আসবে, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

iQOO Neo 12 কেন নজরে রাখবেন?

iQOO Neo 12-এর বড় ব্যাটারি, উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে, ফ্ল্যাগশিপ প্রসেসর ও বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যান একে গেমিং-কেন্দ্রিক ফোন হিসেবে আলাদা করে তুলেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় গেম খেলা ব্যবহারকারীদের জন্য এই সমন্বয় আকর্ষণীয় হতে পারে।

তবে ফোনটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চূড়ান্ত দাম, RAM ও স্টোরেজের সংস্করণ, ক্যামেরার মান, সফটওয়্যার আপডেটের নীতি এবং বাংলাদেশে বিক্রয়োত্তর সেবার তথ্য জানা জরুরি। এসব তথ্য প্রকাশিত হলে ফোনটির প্রকৃত মূল্য ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও পরিষ্কার হবে।

সারকথা: iQOO Neo 12 চীনে ২৮ অক্টোবর উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। ৯,০০০ mAh ব্যাটারি, ১০০ ওয়াট চার্জিং, ২কে ১৮৫ হার্টজ ডিসপ্লে এবং Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর এর প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু দাম ও বাংলাদেশে প্রাপ্যতা এখনো নিশ্চিত নয়—তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. iQOO Neo 12 কবে লঞ্চ হবে?

চীনে ফোনটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন ২৮ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারিত হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেদিন থেকেই বিক্রি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

২. iQOO Neo 12-এর দাম কত?

২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ফোনটির আনুষ্ঠানিক দাম ঘোষণা করা হয়নি। চীনের উন্মোচন অনুষ্ঠানে মূল্য প্রকাশের কথা রয়েছে।

৩. iQOO Neo 12-এর ব্যাটারি কত mAh?

ফোনটিতে ৯,০০০ mAh ব্যাটারি রয়েছে এবং এটি ১০০ ওয়াট তারযুক্ত দ্রুত চার্জিং সমর্থন করে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

৪. iQOO Neo 12 কি গেমিংয়ের জন্য ভালো হবে?

Snapdragon 8 Elite Gen 5 প্রসেসর, আলাদা Q3 গেমিং চিপ, ১৮৫ হার্টজ পর্যন্ত ডিসপ্লে ও বিল্ট-ইন কুলিং ফ্যানের কারণে এটি গেমিংকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি। তবে প্রকৃত পারফরম্যান্স স্বাধীন পরীক্ষার পর আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা যাবে।

৫. iQOO Neo 12 কি বাংলাদেশে পাওয়া যাবে?

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বিক্রির তারিখ বা দাম এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় বাজারে পাওয়া গেলে দাম, ওয়ারেন্টি ও সংস্করণ সম্পর্কে বিক্রেতা বা iQOO-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা যাচাই করা উচিত।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: