জমি রেজিস্ট্রি করেই কি মূল দলিল পাওয়া যায়? জানুন সময়
জমি রেজিস্ট্রি করার পর মূল দলিল হাতে পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। কোনো কোনো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক মাসের মধ্যে দলিল ফেরত দেওয়া হলেও অন্য অফিসে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগার কথা সরকারি নাগরিক সনদে উল্লেখ রয়েছে। তাই জমি রেজিস্ট্রি করলেই সঙ্গে সঙ্গে মূল দলিল পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
দলিল ফেরত দিতে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো নিবন্ধনের পর অফিসের রেকর্ডে দলিলের অনুলিপি প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় সূচি তৈরির কাজ। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে সাধারণত দলিল জমা দেওয়ার সময় পাওয়া রসিদ দেখিয়ে মূল দলিল সংগ্রহ করতে হয়। তবে ঠিক কতদিন লাগবে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিয়ম ও বর্তমান কাজের অবস্থা যাচাই করা জরুরি।
জমি রেজিস্ট্রির পর মূল দলিল পেতে কতদিন লাগে?
বাংলাদেশের বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রকাশিত নাগরিক সনদে মূল দলিল ফেরত দেওয়ার সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে। কোথাও এক মাস থেকে এক বছর, আবার কোথাও ১৫ দিন থেকে দুই-তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, সব অফিসের জন্য একই সময় ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দলিলের সংখ্যা, রেকর্ড প্রস্তুতের কাজ, সংশ্লিষ্ট অফিসের জনবল এবং প্রশাসনিক পরিস্থিতির কারণে অপেক্ষার সময় ভিন্ন হতে পারে।
তাই দলিল রেজিস্ট্রির পর রসিদটি সংরক্ষণ করুন এবং যে অফিসে দলিল নিবন্ধন করিয়েছেন, সেখান থেকে সম্ভাব্য সংগ্রহের সময় জেনে নিন।
রেজিস্ট্রি হওয়ার পরও দলিল হাতে পেতে দেরি হয় কেন?
দলিল জমা নেওয়ার পর নিবন্ধনসংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি অফিসে আরও কিছু নথিভুক্তির কাজ সম্পন্ন করতে হয়। সাধারণত এসব কাজের মধ্যে রয়েছে—
দলিলের প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্বাক্ষরসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা;
বালাম বইয়ে দলিলের অনুলিপি প্রস্তুত করা;
দাতা-গ্রহীতা, মৌজা, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণের মতো তথ্যের সূচি তৈরি করা;
মূল দলিল ফেরত দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
এই কাজগুলো শেষ হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে মূল দলিল সংগ্রহ করতে বলা হতে পারে। অফিসের পদ্ধতি অনুযায়ী নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া বা অন্যভাবে জানানো হতে পারে।
তবে সব অফিসে একইভাবে নোটিশ দেওয়া হয়, এমন নয়। তাই শুধু নোটিশের অপেক্ষায় না থেকে রসিদে উল্লেখ করা তথ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে খোঁজ নেওয়া ভালো।
দলিল সংগ্রহ করতে কী কী লাগবে?
মূল দলিল সংগ্রহের সময় সাধারণত দলিল জমা দেওয়ার রসিদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রেজিস্ট্রির সময় পাওয়া রসিদটি হারিয়ে না ফেলার বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
দলিল নিতে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করুন—
১. রসিদ সঙ্গে রাখুন: দলিল জমা দেওয়ার সময় পাওয়া মূল রসিদ নিয়ে যান। অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি জমা দিতে হতে পারে।
২. দলিল প্রস্তুত হয়েছে কি না জানুন: সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের নম্বর, সাল ও রসিদের তথ্য দিয়ে খোঁজ নিন।
৩. প্রয়োজনে পরিচয়পত্র নিন: দলিলের পক্ষ বা অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে দলিল সংগ্রহ করতে গেলে অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচয়সংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।
৪. বকেয়া থাকলে পরিশোধ করুন: কোনো প্রযোজ্য ফি বা পাওনা থাকলে তা সম্পর্কে অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করুন।
৫. দলিল হাতে পেয়ে তথ্য মিলিয়ে নিন: দলিলের নম্বর, দাতা-গ্রহীতার নাম, জমির মৌজা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করুন।
দলিল সংগ্রহের নিয়ম অফিসভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া জেনে নেওয়া ভালো।
দলিল পেতে দেরি হলে কী করবেন?
রেজিস্ট্রি করার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও মূল দলিল না পেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করুন। দলিল জমা দেওয়ার রসিদ, দলিল নম্বর ও নিবন্ধনের সাল দিয়ে বর্তমান অবস্থা জানতে চান।
আরও পড়ুন:
জমির দাগ, খতিয়ান ও নকশা যাচাইয়ের সহজ নিয়ম
জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচ ও নিয়ম
দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে কি না যাচাই করবেন যেভাবে
দলিলের অনুলিপি বালাম বইয়ে তোলা হয়েছে কি না, সূচি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে কি না এবং মূল দলিল সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত কি না—এসব বিষয়ে খোঁজ নিতে পারেন।
সমস্যার সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে লিখিত আবেদন দিয়ে দলিল ফেরত পেতে বিলম্বের কারণ ও করণীয় জানতে চান। আবেদন জমা দিলে তার গ্রহণের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
মূল দলিল না পেলে কি সার্টিফায়েড নকল তোলা যায়?
মূল দলিল হাতে পেতে দেরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিলের সার্টিফায়েড নকল বা প্রত্যয়িত অনুলিপির জন্য আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে দলিলের নম্বর, নিবন্ধনের সাল এবং সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য জানা থাকলে সুবিধা হয়।
দলিলের নম্বর জানা না থাকলে অফিসের নিয়ম অনুযায়ী আগে তল্লাশি করতে হতে পারে। নকল সরবরাহের সময়ও অফিসভেদে ভিন্ন হতে পারে। কয়েকটি সরকারি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নাগরিক সনদে দলিলের নকল সরবরাহের সময়সীমা এক থেকে সাত দিন উল্লেখ রয়েছে; তবে এটি সব অফিসের ক্ষেত্রে নিশ্চিত সময়সীমা নয়।
মনে রাখতে হবে, সার্টিফায়েড নকল এবং মূল দলিল এক জিনিস নয়। নকল হলো সরকারি রেকর্ড থেকে দেওয়া প্রত্যয়িত অনুলিপি। মূল দলিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া আলাদা এবং নকল হাতে পেলেই মূল দলিলের অপেক্ষা শেষ হয়ে যায় না।
দলিল রেজিস্ট্রি আর মূল দলিল হাতে পাওয়া কি একই বিষয়?
না। দলিল নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়া এবং নিবন্ধিত দলিলের মূল কপি হাতে পাওয়া আলাদা বিষয়।
রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ৬১ ধারায় নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রত্যয়ন ও তথ্য রেজিস্টার বইয়ে নকল করার পর নিবন্ধন সম্পন্ন বলে গণ্য হওয়ার এবং দলিল ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে। বাস্তবে সংশ্লিষ্ট অফিসে রেকর্ড প্রস্তুত ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ শেষ করতে সময় লাগতে পারে।
তাই দলিল জমা দেওয়ার রসিদ পাওয়া মানেই মূল দলিল প্রস্তুত—এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়। আবার মূল দলিল হাতে পেতে দেরি হচ্ছে বলেই দলিল নিবন্ধিত হয়নি, এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে অফিসের রেকর্ডে নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করুন।
জমি রেজিস্ট্রির পর কোন বিষয়গুলো মনে রাখবেন?
জমি রেজিস্ট্রি করার পর রসিদ, দলিলের কপি ও অন্যান্য কাগজপত্র যত্ন করে সংরক্ষণ করুন। মূল দলিল সংগ্রহের জন্য অফিসে যোগাযোগ রাখুন এবং দলিল হাতে পাওয়ার পর সব তথ্য পরীক্ষা করুন।
এর পাশাপাশি জমির নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন করের বিষয়টিও আলাদাভাবে দেখুন। মূল দলিল সংগ্রহ করা মানেই নামজারি সম্পন্ন হয়েছে—এমন নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী নামজারির আবেদন ও ভূমি রেকর্ড হালনাগাদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
সারকথা: জমি রেজিস্ট্রির পর মূল দলিল পেতে কতদিন লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কাজের ওপর নির্ভর করে। সরকারি অফিসগুলোর প্রকাশিত সনদে এক মাস থেকে এক বছর বা তারও বেশি সময়ের উল্লেখ রয়েছে। তাই রসিদ সংরক্ষণ করুন, অফিসে নিয়মিত খোঁজ নিন এবং বিলম্ব হলে লিখিতভাবে কারণ জানতে চান।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. জমি রেজিস্ট্রির পর মূল দলিল পেতে কতদিন লাগে?
সব অফিসে একই সময় লাগে না। বিভিন্ন সরকারি অফিসের নাগরিক সনদে এক মাস থেকে এক বছর, কোথাও আরও বেশি সময়ের উল্লেখ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় জানতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করুন।
২. দলিল হাতে পেতে দেরি হলে কি দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি?
এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। রেজিস্ট্রির পর রেকর্ড প্রস্তুত ও সূচি তৈরির মতো কাজ বাকি থাকতে পারে। দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত অবস্থা অফিসের রেকর্ডে যাচাই করুন।
৩. মূল দলিল না পেলে কি নকল তোলা যায়?
প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিলের সার্টিফায়েড নকলের জন্য আবেদন করা যায়। দলিলের নম্বর ও সাল জানা থাকলে সুবিধা হয়। নকল পাওয়ার সময়সীমা সংশ্লিষ্ট অফিসের নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
৪. মূল দলিল সংগ্রহ করতে কী লাগে?
সাধারণত দলিল জমা দেওয়ার সময় পাওয়া রসিদ প্রয়োজন হয়। পরিচয়পত্র বা অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে আগে জেনে নিন।
৫. মূল দলিল হাতে পাওয়ার পর কি নামজারি করতে হবে?
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জমি নিজের নামে নামজারি করার জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়। মূল দলিল হাতে পাওয়া আর নামজারি সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- জমি রেজিস্ট্রির সময় কী কী দেখে স্বাক্ষর করবেন? জেনে নিন
- আজকের টাকার রেট কত:বেড়েছে২টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- ওয়ারিশের জমি নামজারি ও আলাদা খতিয়ান করার নিয়ম
- OnePlus Turbo 7 Pro-তে ১৮৫Hz ডিসপ্লে, ১০,০০০mAh ব্যাটারি?
- জমির রেকর্ডে ভুল? সংশোধনের আবেদন করবেন যেখানে
- ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কত টাকা লাগে, দেরি হলে কত জরিমানা
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিনের ছুটি, তারিখ জেনে নিন