ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

এইকে এথেন্স বনাম রিয়াল মাদ্রিদ: নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি কোন দলের?

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১০:৪০:৩৬
এইকে এথেন্স বনাম রিয়াল মাদ্রিদ: নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি কোন দলের?

ম্যাচের শেষ দিকে যখন ড্রয়ের শঙ্কা ঘিরে ধরেছিল রিয়াল মাদ্রিদকে, তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হলেন ফেদে ভালভার্দে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তার নেওয়া দুর্দান্ত শটেই বদলে যায় ম্যাচের ফল। এইকে এথেন্সকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে রিয়াল। দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ১৫ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

গ্রিসের মাটিতে রিয়ালের জন্য জয় পাওয়া যে সহজ নয়, সেটি অতীতের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। তবে এবারও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে দলটিকে। স্বাগতিকদের দুইবার এগিয়ে যাওয়ার পর জুড বেলিংহ্যাম ও কিলিয়ান এমবাপে ব্যবধান সমান করেন। শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্টের নিশ্চয়তা আসে ভালভার্দের পা থেকে।

বলের দখলে এগিয়ে থেকেও দুইবার পিছিয়ে রিয়াল

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে রিয়ালের আধিপত্য থাকলেও গোলের ব্যবধানে তা শুরু থেকে প্রতিফলিত হয়নি। বলের দখলে ৭০ শতাংশ সময় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে সফরকারীরা। গোলের লক্ষ্যে তাদের শট ছিল আটটি। কিন্তু আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল এইকে এথেন্স।

স্বাগতিকদের প্রথম বড় সুযোগ আসে পঞ্চম মিনিটে। ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। তবে সেই যাত্রায় রক্ষা পেলেও সাত মিনিটের ব্যবধানে আবার বিপদে পড়ে রিয়াল। মার্ক কুকুরেয়াকে পেছনে ফেলে আবুবাকারি কইটা কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শট নিলে এগিয়ে যায় এইকে এথেন্স।

এরপরও গোলের সুযোগ তৈরি করে গ্রিসের দলটি। কোর্তোয়াকে আরেকবার ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণ প্রতিহত করতে হয়। অন্যদিকে রিয়াল নিজেদের আক্রমণ গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। ২৮ মিনিটে বেলিংহ্যামের শট জালে গেলেও অফসাইডের কারণে সেটি গোল হিসেবে গণ্য হয়নি।

তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি ইংলিশ মিডফিল্ডারকে। চার মিনিট পর কুকুরেয়ার পাস থেকে দৃষ্টিনন্দন 'নো লুক' ফ্লিকে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। এতে ম্যাচে সমতা ফিরে আসে।

দ্বিতীয়বার লিড নিয়েও ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা

বিরতির পর রিয়ালের আক্রমণে নতুন করে গতি আনার চেষ্টা দেখা যায়। দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার পর শুরুর একাদশে ফেরা এডার মিলিতাও দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন। কিন্তু এইকে এথেন্সের গোলরক্ষক তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। পরে কুকুরেয়াও ফাঁকা জায়গা থেকে শট নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটিও আটকে দেন স্বাগতিকদের এক ডিফেন্ডার।

ম্যাচের ৭৫ মিনিটে পরিস্থিতি আবার রিয়ালের প্রতিকূলে চলে যায়। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে প্রথম স্পর্শেই জোরালো শট নেন স্ট্রাভোস পিলিওস। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এইকে এথেন্স।

কিন্তু স্বাগতিকদের সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে আবারও ম্যাচে সমতা ফেরায় রিয়াল। ডেনজেল ডাম্প্রিসের পাস থেকে ছয় গজ বক্সের ভেতর গোল করেন এমবাপে। এই গোলের মধ্য দিয়ে চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ছয় ম্যাচেই জালের দেখা পেলেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এমবাপে পারেননি, ম্যাচের ভাগ্য লিখলেন ভালভার্দে

২-২ সমতায় ফেরার পর জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল এমবাপের সামনেও। কিন্তু তার শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের আঙুলে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। ফলে ম্যাচের নিষ্পত্তি তখনো বাকি ছিল।

শেষ পর্যন্ত সেই কাজটি করেন ভালভার্দে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট এইকে এথেন্সের জালে আশ্রয় নেয়। গোলটি শুধু রিয়ালের লিডই এনে দেয়নি, নিশ্চিত করেছে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্টও। দুইবার সমতায় ফেরার পর শেষ মুহূর্তে পাওয়া এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।

গ্রিসের মাঠে পুরোনো বাধা পেরিয়ে রিয়ালের জয়

গ্রিসের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে রিয়ালের অতীত রেকর্ড খুব একটা সমৃদ্ধ ছিল না। দেশটির প্রতিপক্ষের মাঠে আগের আট ম্যাচে মাত্র একবার জয় পেয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। এইকে এথেন্সের বিপক্ষে চারবার মুখোমুখি হয়ে জয় এসেছিল কেবল এক ম্যাচে।

১৯৮৫ সালে উয়েফা কাপে এইকে এথেন্সকে হারানোর পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের মাঠে জয় পেল রিয়াল। এই পরিসংখ্যানের প্রেক্ষাপটে এবারের জয়টি দলটির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

চার ম্যাচে চার জয়, পিএসজির পরেই রিয়াল

এইকে এথেন্সকে হারানোর ফলে চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের চারটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে হোসে মরিনিয়োর দল। ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ পর্বের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

সমান ১২ পয়েন্ট রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিরও। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় তালিকার শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে ফরাসি ক্লাবটি। চার ম্যাচের চার জয় নিয়ে রিয়ালও রয়েছে তাদের ঠিক পেছনে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. এইকে এথেন্সের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ কত গোলে জিতেছে?

রিয়াল মাদ্রিদ ৩-২ গোলে এইকে এথেন্সকে হারিয়েছে।

২. রিয়ালের হয়ে জয়সূচক গোলটি কে করেছেন?

ফেদে ভালভার্দে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে গোলটি করেন।

৩. এইকে এথেন্সের বিপক্ষে রিয়ালের হয়ে কারা গোল করেছেন?

জুড বেলিংহ্যাম, কিলিয়ান এমবাপে ও ফেদে ভালভার্দে একটি করে গোল করেছেন।

৪. চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের জয় কয়টি?

রিয়াল মাদ্রিদ চার ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়েছে।

৫. চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পয়েন্ট তালিকায় রিয়ালের অবস্থান কত?

১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে আছে পিএসজি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: