শবে বরাতের রাতেও ক্ষমা পাবে না দুই শ্রেণির মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্য শাবানের রাত, বা শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতটি মুসলিম উম্মাহর কাছে এক বিশেষ রাত, যা "শবে বরাত" হিসেবে পরিচিত। আল্লাহ তাআলা এই রাতে তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দয়া প্রদর্শন করেন এবং অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। যদিও হাদিসে এই রাতকে "শবে বরাত" বা "মুক্তির রাত" বলা হয়নি, তবুও সারা পৃথিবীর মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন। তবে, এ রাতে কিছু বিশেষ শ্রেণির মানুষ রয়েছেন, যারা আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকেন। তারা হলেন মুশরিক (শিরককারী) এবং মুশাহিন (হিংসুক)।
১. মুশরিক: শিরককারী
শিরক বা অংশীদারিত্ব দেওয়া ইসলামের সবচেয়ে বড় অপরাধ। যারা আল্লাহকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা হিসেবে বিশ্বাস না করে, তাঁর সাথে অন্য কাউকে অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করেন, তাদেরকে মুশরিক বলা হয়। শিরক এমন একটি পাপ, যা আল্লাহ কখনোই ক্ষমা করবেন না। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করা ক্ষমা করেন না।" (সুরা নিসা: ৪৮) এবং শিরককারী ব্যক্তির জন্য জান্নাত হারাম।
শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা বহু মানুষের গুনাহ মাফ করে দেন, কিন্তু শিরককারী ব্যক্তির ক্ষমা মেলে না। তাই, মুসলিমদের জন্য শিরক থেকে বাঁচা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে এই পবিত্র রাতে আল্লাহর রহমত লাভের জন্য।
২. মুশাহিন: হিংসুক
মুশাহিন সেই ব্যক্তি যিনি অন্যদের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ এবং শত্রুতা পোষণ করেন। ইসলাম অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং মানবতার প্রতি সহানুভূতির ধর্ম। আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সা.) পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও সম্পর্ক বজায় রাখার উপদেশ দিয়েছেন। হিংসা ও বিদ্বেষ মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে এবং এটি নেক আমলগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। নবিজি (সা.) বলেছেন, "হিংসা থেকে বাঁচো, কারণ হিংসা নেক আমলসমূহ ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুনে কাঠ পুড়ে যায়।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০৫)
হিংসা একজন মুমিনের অন্তরে থাকতে পারে না। তাই, যাদের অন্তরে পরশ্রীকাতরতা এবং শত্রুতা রয়েছে, তারা এই রাতে আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকেন। শবে বরাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের ক্ষমা করেন, তবে যারা হিংসা-বিদ্বেষের মধ্যে রয়েছেন তাদের জন্য ক্ষমা নেই।
শবে বরাতে কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখবেন
শবে বরাতের রাতটি আল্লাহর ক্ষমা লাভের একটি সুযোগ। তবে, শিরক এবং হিংসা-বিদ্বেষ থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কারো সাথে কোনো মনোমালিন্য থাকে, তা মিটিয়ে ফেলুন এবং সবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করুন এবং একে অপরকে দুঃখিত করলে তা আন্তরিকভাবে ক্ষমা করুন।
এ রাতটি একটি নতুন সুযোগ, যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ক্ষমা ও রহমত প্রদান করেন। তাই, শিরক এবং হিংসা থেকে দূরে থেকে, অন্তরকে পবিত্র করে শবে বরাতে আল্লাহর দয়া এবং ক্ষমা লাভের আশা রাখুন।
এম/আর/এ
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর কবে? যা জানা গেল
- জরুরি বার্তা: সৌদিতে কবে ঈদ? জানাল সুপ্রিম কোর্ট
- সৌদি আরবে কবে ঈদ? যা জানালো সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট
- সৌদিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে?
- সৌদিতে আজ শাওয়ালের চাঁদ দেখা যাবে কিনা জানা গেল
- বাংলাদেশ ঈদ কবে, যা জানা গেল
- সৌদি আরবে কবে ঈদ? শাওয়ালের চাঁদ নিয়ে বড় আপডেট
- রাতে ম্যান সিটি বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ?
- সৌদিতে ঈদ কবে
- চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্রিভিউ: স্পোর্টিং বনাম বোডো/গ্লিমট দ্বৈরথে আজ কে সেরা?
- ঈদুল ফিতরে তারিখ ঘোষণা দিল অস্ট্রেলিয়া
- ম্যানচেস্টার সিটি বনাম রিয়াল মাদ্রিদ: সম্ভাব্য একাদশ, ম্যাচ প্রিভিউ ও প্রেডিকশন
- পিএসএল খেলতে বিসিবির শর্ত: ছাড়পত্র কি পাবেন টাইগাররা?
- ঈদের তারিখ ঘোষণা করলো সিঙ্গাপুর ও তুরস্ক
- রাতে চেলসি বনাম পিএসজি ম্যাচ: কখন, কোথায় ও কীভাবে দেখবেন লাইভ?