ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

১৩৮ বছরের ছেলের বাবার বয়স মাত্র ৭৫—অবিশ্বাস্য গল্পের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ আগস্ট ২৯ ১৬:১৬:৩৪
১৩৮ বছরের ছেলের বাবার বয়স মাত্র ৭৫—অবিশ্বাস্য গল্পের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: একজন ছেলের বয়স ১৩৮ আর তার বাবার বয়স মাত্র ৭৫! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সাম্প্রতিক এক গবেষণার আলোচনায় উঠে এসেছে এমন এক ঘটনা, যা নিয়ে বিজ্ঞানীরাও বিস্মিত। তবে এর পেছনে লুকিয়ে আছে বাস্তব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

ঘটনাটি কীভাবে সম্ভব?

বস্তুত এখানে “ছেলে” বলতে বোঝানো হচ্ছে মানুষের জন্মসূত্রে পাওয়া জিন বা DNA-এর কিছু অংশকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, কিছু মানুষের জিন কোষে বয়স বাড়লেও তাদের শুক্রাণু কোষে (sperm cells) বয়সের প্রভাব ততটা পড়ে না। ফলে সন্তান জন্মের সময় সন্তানকে দেওয়া জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল বাবার আসল বয়সের তুলনায় “তরুণ” থাকে।

কেন ছেলের বয়স বাবার চেয়ে বেশি?

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে কিছু কোষের বয়স অনেক দ্রুত বাড়ে, আবার কিছু কোষের বয়স স্থির থাকে।

যেসব কোষে DNA mutation বা ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, সেগুলো দেখতে বাবার বয়সের তুলনায় অনেক “তরুণ” থাকে।

এর ফলে জেনেটিক হিসাব অনুযায়ী সন্তানের কোষে বয়স বাবার জন্ম সনদের বয়সের চেয়ে “বড়” হিসাব দেখাতে পারে।

গবেষকরা কী বলছেন?

স্ট্যানফোর্ডের গবেষক ড. রজার ফিলিপস বলেন—

“আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষ একইভাবে বয়স বাড়ায় না। বাবার প্রকৃত বয়স ৭৫ হলেও, তার প্রজনন কোষের বয়স অনেক কম ছিল। কিন্তু সন্তানের কোষে জেনেটিক ঘড়ি আলাদা গতিতে চলেছে। এজন্যই এই অদ্ভুত বয়সের পার্থক্য দেখা গেছে।”

মানুষের কাছে এর মানে কী?

এই গবেষণা শুধু অদ্ভুত কাহিনি নয়, বরং বার্ধক্য রোধ এবং দীর্ঘায়ু গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি শরীরের সব কোষকে প্রজনন কোষের মতো “ধীরগতিতে বার্ধক্য” করানো যায়, তাহলে মানুষ আরও বেশি দিন তরুণ থাকতে পারবে।

কৌতূহল বাড়াচ্ছে যে প্রশ্নগুলো

তাহলে কি ভবিষ্যতে ১০০ বছরের মানুষও দেখতে ৪০ বছরের মতো তরুণ থাকবে?

জেনেটিক বয়স আর জন্মসনদের বয়স কি আলাদা হয়ে যাবে?

বার্ধক্য থামানোর ওষুধ কি একদিন পাওয়া যাবে?

জামিরুল ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ