ঢাকা, বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

অজান্তেই লিভার শেষ করছে ৪টি ভুল!

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৬:৩৪:১৯
অজান্তেই লিভার শেষ করছে ৪টি ভুল!

শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার বা যকৃৎ। অথচ আমাদের প্রাত্যহিক অনিয়ম আর অসচেতনতায় এই অঙ্গটিই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। চিকিৎসকদের মতে, লিভারের অসুখ এক ‘নিঃশব্দ ঘাতক’, যা কোনো জানান না দিয়েই শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে। সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বেঙ্গল লিভার সামিট ২০২৬: বিপদের নতুন সংকেত

শহরের বুকে 'ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্য লিভার'-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয় 'বেঙ্গল লিভার সামিট ২০২৬'। সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে উঠে আসে এক ভয়ংকর চিত্র—লিভারের অধিকাংশ রোগই অত্যন্ত গোপনে ছড়িয়ে পড়ে। যখন রোগী টের পান, তখন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছেও সুযোগ খুব সীমিত হয়ে যায়।

লিভার নষ্ট হওয়ার পেছনে মূল ৪টি কারণ

বিশেষজ্ঞরা বর্তমান সময়ে লিভারের ক্ষতির জন্য প্রধানত চারটি বিষয়কে দায়ী করেছেন:

মেদবহুল লিভার (Fatty Liver): যা নীরবে লিভারকে অকেজো করে দেয়।

ভাইরাল হেপাটাইটিস: দীর্ঘস্থায়ী লিভার সংক্রমণের প্রধান উৎস।

অ্যালকোহল বা মদ্যপান: মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে যকৃতের স্থায়ী ক্ষতি।

ভুল ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যথেচ্ছ ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট সেবন।

যা বলছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা

সম্মেলনে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসকদের এক মেলা বসেছিল। আমেরিকার মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট ফন্টানা এবং সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ডা. ড্যানিয়েল হুয়াং লিভারের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন।

অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ ডা. মহেশ গোয়েংকা বলেন, “লিভারের সমস্যা অনেকটা চোরাবালির মতো। এটি নিঃশব্দে এগোয় বলে আগাম স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা ছাড়া একে ধরা কঠিন। তাই নিয়ম মেনে পরীক্ষা করাই বাঁচার একমাত্র পথ।”

অন্যদিকে, ডা. উদয় ঘোষাল গুরুত্ব দেন সচেতনতার ওপর। তিনি জানান, বহু পরিবার কেবল ভুল ধারণা আর অজ্ঞতার কারণে এই মরণফাঁদে পা দিচ্ছে। এছাড়া ডা. আকাশ রায় রোগীদের সতর্ক করে বলেন, অনেকেই বিশেষজ্ঞের কাছে না গিয়ে নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ (Self-medication) খেয়ে থাকেন, যা হিতে বিপরীত হয়ে লিভারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

নিরাপদ থাকতে করণীয়

বিশেষজ্ঞরা সুস্থ লিভারের জন্য তিনটি মূল মন্ত্র দিয়েছেন:

১. নির্দিষ্ট সময় পরপর লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা।

২. হেপাটাইটিস প্রতিরোধের জন্য সময়মতো টিকাকরণ।

৩. অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ত্যাগ করে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

অসচেতনতা নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই পারে আপনার লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে—সামিটে এটাই ছিল মূল বার্তা।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ