ঢাকা, সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

আসল খেজুরের গুড় চেনার সহজ উপায়: আর ঠকবেন না বাজারে!

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ১৮:০১:৩৯
আসল খেজুরের গুড় চেনার সহজ উপায়: আর ঠকবেন না বাজারে!

শীতের সকাল মানেই ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা আর খেজুর গুড়ের মিষ্টি সুবাস। বাঙালির শীতকালীন উদযাপনে এই গুড় কেবল একটি উপাদান নয়, বরং ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে খাঁটি খেজুরের গুড় খুঁজে পাওয়া রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক শ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর কারণে বাজারে এখন ভেজালের ছড়াছড়ি। তাই পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং ঠকে যাওয়া থেকে বাঁচতে আসল গুড় চিনে নেওয়া জরুরি।

পুষ্টির খনি এই খেজুরের গুড়

খেজুরের গুড় কেবল মিষ্টি স্বাদই দেয় না, এতে লুকিয়ে আছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গুড়ে থাকা লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুণ কাজ করে। কৃত্রিম চিনির বিকল্প হিসেবে খেজুরের গুড় সুস্থ থাকতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।

যেভাবে তৈরি হচ্ছে ‘বিষাক্ত’ ভেজাল গুড়

প্রথাগতভাবে খেজুরের রস সংগ্রহ করে বড় পাত্রে জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় প্রাকৃতিক গুড়। তবে বর্তমানে গুড়ের মিষ্টতা বাড়াতে এবং আকর্ষণীয় করতে কিছু অসাধু চক্র দেদারসে মেশাচ্ছে চিনি, ফিটকিরি ও অস্বাস্থ্যকর রাসায়নিক রং। এই সব উপাদান মেশানোর ফলে গুড় তার নিজস্ব গন্ধ ও স্বাদ হারিয়ে ফেলছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

খাঁটি গুড় চেনার ৫টি পরীক্ষিত কৌশল

বাজার থেকে গুড় কেনার সময় বিভ্রান্তি এড়াতে নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন:

রঙের গভীরতা: আসল গুড়ের রং কখনোই খুব উজ্জ্বল হয় না। খাঁটি পাটালির রং হবে গাঢ় বাদামি কিংবা কালচে লালাভ। যদি দেখেন গুড় খুব ফ্যাকাশে বা সাদাটে, তবে বুঝবেন তাতে ভেজাল রয়েছে।

কাঠামো পরখ: আসল গুড়ের পাটালি সাধারণত বেশ নরম ও রসালো হয়। চাপ দিলে সহজেই ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তবে চিনি মেশানো গুড় পাথরের মতো খুব শক্ত হয়।

চকচকে ভাব বনাম স্বাভাবিকতা: যদি পাটালির উপরিভাগ খুব বেশি উজ্জ্বল ও চকচকে দেখেন, তবে সাবধান! এটি চিনি কিংবা ফিটকিরি মেশানোর স্পষ্ট লক্ষণ। খাঁটি গুড় দেখতে খুব বেশি চাকচিক্যময় হয় না।

স্বাদের সূক্ষ্মতা: গুড় কেনার আগে সামান্য অংশ মুখে দিয়ে দেখুন। যদি জিহ্বায় নোনতা বা তিতা ভাব অনুভূত হয়, তবে তা বর্জন করাই শ্রেয়। কারণ খাঁটি গুড়ে খেজুরের রসের স্নিগ্ধ মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যাবে।

স্ফটিকের উপস্থিতি: গুড়ের ভেতরে যদি কাঁচের দানার মতো স্বচ্ছ স্ফটিক দানা দেখা যায়, তবে নিশ্চিত হতে পারেন যে অতিরিক্ত মিষ্টতার জন্য এতে দানা চিনি মেশানো হয়েছে।

নিরাপদ থাকুন, সুস্থ থাকুন

শীতের এই মৌসুমে রসনাবিলাসকে আনন্দময় করতে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাবারের কোনো বিকল্প নেই। ভেজাল গুড় আপনার শরীরের উপকার করার বদলে ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তাই সচেতন ক্রেতা হিসেবে সঠিক উপায়ে মান যাচাই করে তবেই খেজুরের গুড় সংগ্রহ করুন।

সোহেল/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ