ঢাকা, সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

প্রতিদিন ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার জাদুকরী উপকারিতা

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১৪:৫৬:৩৮
প্রতিদিন ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার জাদুকরী উপকারিতা

খাদ্যরসিকদের কাছে কিশমিশ কেবল পায়েস বা পোলাওয়ের স্বাদ বাড়ানোর উপকরণ নয়, বরং এটি শক্তির এক অনন্য উৎস। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিশমিশ রাখা স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, তা নিয়ে জনমনে আগ্রহের কমতি নেই। শুকনো এই ফলটি ফাইবার, আয়রন, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের মতো জরুরি উপাদানে ঠাসা। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এটি খাওয়ার সঠিক নিয়ম না জানলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।

শুকনো আঙুর যখন পুষ্টির আধার

মূলত আঙুর শুকিয়েই কিশমিশ তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ফলটির ভেতরকার প্রাকৃতিক শর্করা এবং অন্যান্য খনিজ উপাদানগুলো আরও ঘনীভূত হয়। ফলে এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে টনিকের মতো কাজ করে। বিশেষ করে রাতে ভিজিয়ে রাখা কিশমিশ সকালে খেলে শরীরের শোষণ ক্ষমতা বাড়ে এবং এটি হজমের জন্য অনেক বেশি উপযোগী হয়ে ওঠে।

শরীরের ভেতরে কিশমিশের জাদুকরী প্রভাব

১. হজম প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা: কিশমিশে থাকা ডায়েটারি ফাইবার পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে। যারা দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য নিয়মিত কিশমিশ খাওয়া অত্যন্ত কার্যকর। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা 'গাট হেলথ' উন্নত করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

২. রক্তাল্পতা ও হিমোগ্লোবিন: আয়রনের ঘাটতি মেটাতে কিশমিশের জুড়ি নেই। এতে বিদ্যমান উদ্ভিজ্জ আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। আয়রন শোষণের মাত্রা আরও বাড়াতে কিশমিশের পাশাপাশি ভিটামিন 'সি' যুক্ত খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

৩. হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কিশমিশে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রেখে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এর শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করে হৃদ্যন্ত্র ও ত্বককে দীর্ঘকাল সজীব রাখে।

সতর্কতা: সবার জন্য কি এটি সমান উপকারী?

কিশমিশ অতি গুণী খাবার হলেও নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এটি বিপদের কারণ হতে পারে।

ডায়াবেটিস ঝুঁকি: কিশমিশে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে এবং এর গ্লাইসেমিক লোডও তুলনামূলক উচ্চ। তাই শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডায়াবেটিস রোগীদের এটি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

কিডনি ও আইবিএস সমস্যা: উচ্চ পটাশিয়ামের উপস্থিতির কারণে কিডনি রোগীদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবার যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) বা অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, কিশমিশ তাদের পেটের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।

ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা: কিশমিশ ক্যালোরি-সমৃদ্ধ খাবার। ফলে যারা ওজন কমানোর লড়াইয়ে আছেন, তাদের জন্য যথেচ্ছ কিশমিশ খাওয়া লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে।

সঠিক পরিমাণ কতটুকু?

পুষ্টিবিদদের মতে, কিশমিশ কোনো জাদুকরী ওষুধ নয় যে রাতারাতি সব বদলে দেবে। সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি কিশমিশ নিয়মিত খাওয়াই যথেষ্ট। মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার বদলে পরিমিত বোধ এবং সঠিক নিয়ম মেনে চলাই হলো কিশমিশের প্রকৃত সুফল পাওয়ার একমাত্র উপায়।

সোহেল/

ট্যাগ: সকালে খালি পেটে কিশমিশ কিশমিশের উপকারিতা ভেজানো কিশমিশ খাওয়ার উপকারিতা কিশমিশ খাওয়ার নিয়ম শুকনো ফলের গুণাগুণ রক্তস্বল্পতা দূর করার উপায় হজমশক্তি বাড়ানোর খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কিশমিশ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কিশমিশ হিমোগ্লোবিন বাড়াতে কি খাবার খাবেন কিশমিশ খাওয়ার অপকারিতা ডায়াবেটিস রোগী কি কিশমিশ খেতে পারে? কিডনি রোগীদের কিশমিশ খাওয়ার নিয়ম দিনে কয়টি কিশমিশ খাওয়া উচিত কিশমিশ খাওয়ার সতর্কতা সকালে ভেজানো কিশমিশ খেলে কি হয়? কিশমিশ ভিজিয়ে খাওয়ার সঠিক নিয়ম কি? ডায়াবেটিস থাকলে কি কিশমিশ খাওয়া যাবে? রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে কিশমিশ খাওয়ার উপায় এক মুঠো কিশমিশে কত ক্যালোরি থাকে? Benefits of raisins Soaked raisins benefits Eating raisins on empty stomach Health benefits of kishmish Best time to eat raisins Raisins for anemia Raisins for digestion and gut health Raisins to increase hemoglobin Dry grapes for constipation Raisins for blood pressure control Side effects of eating too many raisins Are raisins safe for diabetic patients? Kidney disease and raisins Nutritional value of raisins How many raisins per day for weight loss

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ