Alamin Islam
Senior Reporter
সাবধান! শীতকালে এই ৫টি ভুল আপনার শিশুর জন্য হতে পারে ‘বিষ’
হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু জনজীবন। প্রকৃতির এই প্রতিকূল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। দেখা দিচ্ছে নানা শীতকালীন রোগ। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক সময় মা-বাবার অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও ভুল রক্ষণাবেক্ষণ শিশুর স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শীতের মৌসুমে অভিভাবকরা অজান্তেই এমন ৫টি বড় ভুল করছেন, যা শিশুর জন্য মারাত্মক পরিণাম বয়ে আনতে পারে।
সুস্থতার স্বার্থে প্রতিটি মা-বাবার নিচের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা জরুরি:
১. পোশাকের আতিশয্যে ঘাম বসা
শিশুকে অতিরিক্ত ঠান্ডা থেকে বাঁচাতে অনেক সময় স্তরে স্তরে ভারী পোশাক পরিয়ে রাখা হয়। এতে শিশুর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বিঘ্নিত হয় এবং সে দ্রুত ঘেমে যায়। এই ঘাম ত্বকেই শুকিয়ে গিয়ে ‘সুয়েটিং কোল্ড’ তৈরি করে, যা পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়ার মতো কঠিন রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
করণীয়: শিশুকে একগাদা ভারী কাপড়ের বদলে কয়েক স্তরে পাতলা সুতি পোশাক পরান। এতে ঘাম হলে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং শিশু আরামবোধ করে।
২. আবদ্ধ ঘরে আগুনের উত্তাপ নেওয়া
শীতের প্রকোপ কমাতে অনেকে ঘর বন্ধ করে লাকড়ি বা কয়লা দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহান। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে বদ্ধ ঘরে কার্বন-মনোক্সাইড গ্যাস জমতে থাকে, যা শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটায়। অসাবধানতায় এটি মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
করণীয়: ঘর গরম রাখতে চাইলে নিরাপদ ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করুন এবং খেয়াল রাখুন যেন ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের সুযোগ থাকে।
৩. পানির সংস্পর্শে অসতর্কতা
শিশুরা হাত ধোয়া কিংবা হাত-মুখ পরিষ্কারের সময় সরাসরি ট্যাপের ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এই হিমশীতল পানির স্পর্শে টনসিল বা সাইনাসের সংক্রমণ নিমেষেই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
করণীয়: শিশুর পরিচ্ছন্নতার কাজে এবং গোসলের সময় সর্বদা হালকা গরম পানি নিশ্চিত করুন।
৪. ভোরের কুয়াশায় বাইরে বের করা
শীতের সকালের বাতাস সতেজ মনে হলেও কুয়াশার চাদরে ঢাকা এই পরিবেশে মিশে থাকে প্রচুর ধূলিকণা ও রোগজীবাণু। এই বিষাক্ত মিশ্রণ বা ‘স্মোগ’ সরাসরি শিশুর ফুসফুসে প্রবেশ করে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
করণীয়: কড়া রোদ না ওঠা পর্যন্ত শিশুকে কুয়াশার মধ্যে ঘরের বাইরে বের করবেন না। খুব প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক পরা নিশ্চিত করুন।
৫. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন
সামান্য ঠান্ডা বা কাশির লক্ষণ দেখলেই অনেক মা-বাবা চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি ফার্মেসি থেকে কফ সিরাপ বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে শিশুকে খাওয়ান। এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত শিশুর লিভার এবং কিডনির দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
করণীয়: অসুস্থতার যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কোনো অবস্থাতেই নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ সেবন করাবেন না।
শীতের সময় শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সংবেদনশীল থাকে। তাই অতি সাবধান হতে গিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করাই শ্রেয়। আপনার একটু সচেতনতাই পারে শিশুকে শীতের প্রকোপ থেকে সুরক্ষিত রাখতে।
সোহেল/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- ‘অদম্য বাংলাদেশ’ টি-টোয়েন্টি কাপ: ব্যাটিংয়ে দুরন্ত, সরাসরি দেখুন Live
- বাংলাদেশের বিশ্বকাপ নিয়ে আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত, আলোচনায় ভারত
- আজ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপ: চলছে দুরন্ত বনাম ধূমকেতু ম্যাচ, সরাসরি দেখুন Live
- আজকের সকল দেশের টাকার রেট ও সোনার দাম (৬ ফেব্রুয়ারি)
- আইপিএলের ক্ষতি পোষালো, বড় চুক্তিতে পিএসএলে দল পেলেন মুস্তাফিজ
- মুস্তাফিজ ইস্যুতে বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ; মুখ খুললেন নাসের হুসেইন
- আবারও ভমিকম্পে কাঁপলো বাংলাদেশ: উৎপত্তিস্থল কোথায়, মাত্রা কত?
- ১০ ফেব্রুয়ারির ছুটি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত: কারখানা মালিকদের জন্য সুখবর
- ভারতীয় ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন: আজ থেকেই কার্যকর নতুন সিস্টেম
- বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো সোনার দাম
- আজ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- উচ্চ রক্তচাপ কমাতে ওষুধের মতো কাজ করবে কলা! জানুন গবেষণার তথ্য