MD. Razib Ali
Senior Reporter
কিডনি কেন অকেজো হয়? আসল কারণ খুঁজে পেলেন গবেষকরা
কিডনি কেন অকেজো হয়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এক যুগান্তকারী আবিষ্কারের দাবি করলেন গবেষকরা। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং ইউনিভার্সিটি অফ ইউটার এক যৌথ গবেষণায় জানা গেছে, কিডনির স্বাস্থ্য নষ্ট করার নেপথ্যে প্রধান চালক হিসেবে কাজ করে এক বিশেষ চর্বিজাতীয় পদার্থ, যার নাম ‘সেরামাইড’ (Ceramide)। গবেষকরা বলছেন, রক্তে এর মাত্রা বাড়লে এটি সরাসরি অঙ্গটির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং মারাত্মকভাবে আঘাত হানে।
কোষের শক্তিঘরে সরাসরি আঘাত
গবেষকদের মতে, সবার শরীরেই অল্প পরিমাণে সেরামাইড থাকে। তবে বাইরের খাবার, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্য বা জাঙ্কফুড বেশি গ্রহণের ফলে এই স্নেহপদার্থের মাত্রা রক্তে লাগামহীনভাবে বেড়ে যায়। অতিরিক্ত সেরামাইড তখন আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের 'শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র' মাইটোকনড্রিয়াকে আক্রমণ শানায়।
মাইটোকনড্রিয়া হলো কোষের জীবনীশক্তি (এটিপি) তৈরির ঘর। এর পাশাপাশি কোষের জন্ম-মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ, ক্যালশিয়াম সঞ্চয় এবং সংকেত আদান-প্রদানে এর বড় ভূমিকা রয়েছে। সেরামাইড এই মাইটোকনড্রিয়াকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়, যার ফলে কোষের শক্তি তৈরির প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। শক্তিহীন হয়ে পড়লে কোষ তার সুরক্ষাকবচ হারায়। এই সুযোগে সেরামাইড কিডনির সুস্থ কোষগুলোকে একে একে ধ্বংস করতে থাকে।
কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকলে প্রথমে ‘অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি’ বা একেআই দেখা দেয়, যা পরে ধীরে ধীরে কিডনি বিকল হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, সেরামাইডের আধিক্য ঘটলে কিডনির সব মাইটোকনড্রিয়া কোষকে নষ্ট করে দিতে পারে, যার ফলে কিডনির সুস্থ কোষগুলো অকেজো হয়ে পড়তে বাধ্য হয়।
ইঁদুরের ওপর সফল পরীক্ষা ও আশার আলো
এই তত্ত্বের সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা করেন। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ইঁদুরের শরীরে সেরামাইডের মাত্রা বেশি থাকলেই কিডনি ফেলিওরের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। আবার সেই মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেই কিডনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। তাই গবেষকরা জোরালো দাবি করেছেন, সেরামাইডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই কিডনি রোগের ঝুঁকি পুরোপুরি কমানোর মূল চাবিকাঠি।
বিপ্লব ঘটাতে পারে ‘সেরামাইড কন্ট্রোল থেরাপি’
বর্তমানে গবেষকরা সেরামাইড নিয়ন্ত্রণের বিশেষ পথ খুঁজছেন। বিশেষ ওষুধ বা ইনজেকশনের মাধ্যমে কীভাবে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে। মানুষের ওপর পরীক্ষামূলকভাবে ‘সেরামাইড কন্ট্রোল থেরাপি’ প্রয়োগ করে দেখা হচ্ছে সেটি কতটা কার্যকর হয়।
যাদের ওপর এই থেরাপি চালানো হয়েছে, তাদের কিডনির রোগ দ্রুত নির্মূল হওয়ার দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। থেরাপি নেওয়ার পর রোগীদের শরীরে একাধিক ইতিবাচক পরিবর্তন নজরে এসেছে:
১. ক্ষতিগ্রস্ত কিডনি কোষগুলোর উল্লেখযোগ্য মেরামত হয়েছে।
২. দীর্ঘদিনের কিডনি সমস্যায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে।
৩. শরীরের সার্বিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
যদিও এই চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, তবুও গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে থেরাপিটিকে বৃহত্তর পর্যায়ে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যদি সব রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর একই রকম ইতিবাচক ফল দেয়, তবেই এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি কিডনির অসুখ সারানোর জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রয়োগ করা হবে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই ও বিএসইসি
- রাত ৮টার পর ২৩ কোটি টাকা লেনদেন, ১৬ কর্মকর্তাকে তলব
- ৫ আগস্টে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ, তবে শর্ত আছে
- দুই মিনিটের রাস্তা পেরোতেই লাগল ১৫ মিনিট, বাঁচানো গেল না সেই নবজাতককে
- সৌদিতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তরের আসল নিয়ম
- বিল নিয়ে ফেসবুকে ঝড় তুললেন আজহারি, জবাব দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- 'এমবাপ্পে বাংলাদেশে'—বড় ঘোষণার পর যা জানাল সরকার
- BCB compliance report উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ
- নবম পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি, অপেক্ষা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের
- দুই বছর পর একই মঞ্চে শেখ হাসিনা ও সাকিব, প্রকাশ্যে তালিকা
- IMEI নম্বর চেক করার সহজ উপায়; Android ও iPhone-এ IMEI দেখবেন যেভাবে
- ব্যান্ডেজ পরে আলোচনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নেপথ্যে যে ঘটনা
- ৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি
- মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান নিয়োগ
- ভবন নির্মাণে নতুন নিয়ম: বাংলাদেশ building code যা মানতে হবে