Zakaria Islam
Senior Reporter
পঞ্চাশের পর সুস্থ থাকতে যেসব টিকা নেওয়া জরুরি
বয়স পঞ্চাশের ঘর পেরোলেই শরীরের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় অনেকেই ভাবেন টিকা কেবল শিশুদের জন্যই প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, আর সেই ঝুঁকি কমাতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষেধক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স পঞ্চাশ পার হওয়ার পর নিয়মিত স্বাস্থ্যসুরক্ষার অংশ হিসেবে কয়েকটি টিকা নেওয়া প্রয়োজন। এতে শরীর যেমন সুরক্ষিত থাকে, তেমনি ভবিষ্যতে চিকিৎসা খরচের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে আসে। অর্থাৎ সময়মতো টিকা নিলে শরীরের পাশাপাশি পকেটও সুরক্ষিত থাকে।
বয়স্কদের জন্য বাড়তি যত্ন জরুরি
সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাত্রা ও শারীরিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া অনেক সময় বয়স্ক মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের সুস্থ, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করতে তাদের স্বাস্থ্যসেবার দিকে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে বয়সজনিত নানা রোগ থেকে সুরক্ষা পেতে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর সেই প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নির্দিষ্ট কিছু টিকা গ্রহণ।
ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা
পঞ্চাশ বছর পার হওয়ার পর যে টিকাটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়, তা হলো ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস প্রায় প্রতি বছরই তার ধরন পরিবর্তন করে। ফলে একবার টিকা নিলে দীর্ঘদিন সুরক্ষা পাওয়া যায় না।
এই কারণে প্রতি বছর নিয়ম মেনে ০.৫ মিলিলিটার ডোজের ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত এই টিকা নিতে খরচ হতে পারে প্রায় ১২০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে।
নিউমোনিয়ার ঝুঁকি ও প্রতিরোধ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সমীক্ষা অনুযায়ী, নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষ। এই দুই বয়সসীমার মানুষের মধ্যেই এ রোগে মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি।
বাংলাদেশেও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। তাদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ রোগী ‘ইনভেসিভ নিউমোনিয়া’তে আক্রান্ত হন। এই ধরনের নিউমোনিয়ায় রোগের জীবাণু রক্ত ও শরীরের বিভিন্ন তরলের মাধ্যমে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে সেপসিসের মতো মারাত্মক অবস্থাও তৈরি করতে পারে।
এ কারণেই চিকিৎসকেরা বলছেন, বয়স পঞ্চাশ পার হওয়ার পর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে টিকা নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
নিউমোনিয়ার টিকার ধরন
নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সাধারণত দুই ধরনের টিকা ব্যবহৃত হয়—
নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (পিসিভি)
নিউমোকক্কাল পলিস্যাকারাইড ভ্যাকসিন (পিপিএসভি)
এর মধ্যে পিসিভি টিকা শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদের জন্যও দেওয়া হয়। বিশেষ করে যাদের হাঁপানি, সিওপিডি কিংবা ফুসফুসসংক্রান্ত কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই টিকা গ্রহণ করতে সাধারণত তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মতো খরচ হতে পারে।
সুস্থ থাকতে আগাম প্রস্তুতি
চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় টিকা—এই তিনটি বিষয় মেনে চললে বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবনযাপন করা অনেক সহজ হয়।
তাই পঞ্চাশ পার হওয়ার পর দেরি না করে প্রয়োজনীয় টিকা নিয়ে রাখলে অনেক গুরুতর রোগের ঝুঁকি আগেই কমিয়ে আনা সম্ভব।
ফারজানা আহমেদ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- আপনার মাথায় কত টাকার সরকারি ঋণ? সংসদে মিলল সুনির্দিষ্ট হিসাব
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- তাপমাত্রা নিয়ে যা বলছে আবহাওয়া অফিস
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান
- সোনা ও রুপার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ