Alamin Islam
Senior Reporter
তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির অস্তিত্ব টিকে থাকা নিয়ে শঙ্কায় নিরীক্ষক
পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত দুটি ভিন্ন কোম্পানি—ওষুধ খাতের সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং বস্ত্র খাতের সোনারগাঁও টেক্সটাইলস লিমিটেডের চলমান আর্থিক সংকটের কারণে তাদের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব (গোয়িং কনসার্ন) বজায় থাকবে কিনা, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন নিরীক্ষকগণ। কোম্পানি দুটির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন যাচাইয়ের পর এই উদ্বেগজনক মতামত এসেছে, যা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে।
সেন্ট্রাল ফার্মার বহুমাত্রিক সংকট
সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের আর্থিক হিসাব পর্যবেক্ষণ করেছেন আশরাফ উদ্দিন অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার মোহাম্মদ শিব্বির হোসেন। নিরীক্ষক তার প্রতিবেদনে দেখিয়েছেন যে, কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত ক্ষতি প্রায় প্রদত্ত মূলধনের সমপরিমাণ। এই আর্থিক দুর্বলতা কাটাতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নতুন করে তহবিল জোগান দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
এর ফলস্বরূপ, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস তাদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়েছে। একইসাথে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর পক্ষ থেকেও কোম্পানিটির ওপর একটি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের কর দাবি বিদ্যমান। অধিকন্তু, উচ্চ পরিচালন ব্যয় এবং উৎপাদনের সীমিত পরিধির কারণে কোম্পানির উৎপাদন খরচ আয়কে ছাড়িয়ে গেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে কোম্পানিটি তাদের ড্রাগ লাইসেন্সটিও নবায়ন করেনি। ডিএসই এবং সিডিবিএল-এর বকেয়া ফি পরিশোধে ব্যর্থতাও কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যকারিতা নিয়ে নিরীক্ষককে সংশয় প্রকাশে বাধ্য করেছে।
একনজরে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের আর্থিক অবস্থা (২০২৪-২৫):
ডিভিডেন্ড: ঘোষণা করা হয়নি।
শেয়ারপ্রতি ক্ষতি (EPS): ১৮ পয়সা (আগের বছর ছিল ৩৫ পয়সা ক্ষতি)।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAVPS): ৬ টাকা ৮৭ পয়সা (৩০ জুন)।
সর্বশেষ লেনদেন দর (বৃহস্পতিবার, ডিএসইতে): ৯ টাকা ৫০ পয়সা।
৫২ সপ্তাহের দরসীমা: ৭ টাকা ১০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৯০ পয়সা।
সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের পুঁজি ক্ষয়
অন্যদিকে, সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের আর্থিক চিত্র বিশ্লেষণ করেছেন জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার এ কে গোলাম কিবরিয়া। নিরীক্ষক উল্লেখ করেছেন, কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৮৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৫৩ টাকা। আলোচ্য অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডাররা ঋণাত্মক রিটার্ন পেয়েছেন। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরীক্ষক সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
একনজরে সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের আর্থিক অবস্থা (২০২৪-২৫):
ডিভিডেন্ড: ঘোষণা করা হয়নি।
শেয়ারপ্রতি ক্ষতি (EPS): ৮০ পয়সা (আগের বছর ছিল ২৭ পয়সা লাভ, অর্থাৎ লাভ থেকে বড় লোকসানে পতন)।
শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAVPS): ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা (৩০ জুন)।
সর্বশেষ লেনদেন দর (বৃহস্পতিবার, ডিএসইতে): ৩২ টাকা ২০ পয়সা।
৫২ সপ্তাহের দরসীমা: ২০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫২ টাকা।
নিরীক্ষকের এমন নেতিবাচক মতামত এই দুই কোম্পানির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সিদ্ধান্তে শেয়ার বাজারে বড় পতন
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ ইঙ্গিত দিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ!
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ!
- ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ, কার লাভ, কার লোকসান
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ
- বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ৯ কোম্পানির শেয়ার
- দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল নাহী অ্যালুমিনিয়াম
- সোনার দামে ইতিহাস, ভাঙল সব রেকর্ড
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬)
- ডিএসই-সিএসই বিলুপ্ত হচ্ছে, গঠিত হবে একক স্টক এক্সচেঞ্জ
- উসমানিয়া গ্লাসের EPS প্রকাশ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দারুন সুখবর: নীতিমালা জারি
- বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধের পথে ৬ এনবিএফআই, ৩টিকে সময় দিলো