Alamin Islam
Senior Reporter
২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে আইসিসি বনাম ডব্লিউসিএ দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে
২০২৬ সালের পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো সময় বাকি থাকলেও, মাঠের বাইরে শুরু হয়েছে এক তীব্র স্নায়ুযুদ্ধ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) মধ্যে খেলোয়াড়দের মৌলিক অধিকার ও বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংঘাত। ডব্লিউসিএ-র দাবি, আইসিসি খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচিতি অপব্যবহারের পাঁয়তারা করছে।
বিরোধের মূলে ২০২৪ সালের চুক্তি
ঘটনার সূত্রপাত আইসিসি কর্তৃক খেলোয়াড়দের কাছে পাঠানো ‘অংশগ্রহণ সংক্রান্ত শর্তাবলি’ নিয়ে। ডব্লিউসিএ অভিযোগ করেছে, ২০২৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, আইসিসি তা লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ নতুন ও ‘শোষণমূলক’ কিছু শর্ত যুক্ত করেছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের নাম, ছবি এবং ব্যক্তিগত পরিচিতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষাকবচ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আইসিসির ভিন্ন ব্যাখ্যা
এই অভিযোগের মুখে আইসিসি তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেই চুক্তিটি সর্বজনীন ছিল না। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ওই চুক্তিটি কেবল আটটি নির্দিষ্ট সদস্য বোর্ডের (অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড) জন্য কার্যকর ছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া বাকি দেশগুলো এই চুক্তির সুবিধা পাবে না। তবে ডব্লিউসিএ এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, চুক্তিবদ্ধ সব খেলোয়াড়ই সমান নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী।
যে আটটি বিষয়ে আপত্তি
ডব্লিউসিএ-র প্রধান নির্বাহী টম মোফ্যাট এক বিশেষ মেমোতে জানিয়েছেন, আইসিসির পাঠানো নতুন শর্তাবলিতে অন্তত আটটি জায়গায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
খেলোয়াড়দের বায়োমেট্রিক তথ্যের মালিকানা আইসিসির হাতে চলে যাওয়া।
জাতীয় বোর্ডের সম্মতিতে খেলোয়াড়দের ছবি ও নাম তৃতীয় কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর।
ড্রেসিংরুমে প্রবেশাধিকার এবং পর্দার আড়ালের কনটেন্ট তৈরির বিতর্কিত নিয়ম।
বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্সিং সংক্রান্ত নতুন শর্ত।
সবচেয়ে আপত্তির জায়গা হলো—নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি শর্তাবলিতে স্বাক্ষর নাও করেন, শুধুমাত্র টুর্নামেন্টে অংশ নিলেই ধরে নেওয়া হবে যে তিনি সব শর্ত মেনে নিয়েছেন।
বিপাকে স্বল্প আয়ের ক্রিকেটাররা
টম মোফ্যাটের মতে, এই নতুন ব্যবস্থার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নবাগত বা কম পারিশ্রমিক পাওয়া ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে ইতালি বা নামিবিয়ার মতো দলের অপেশাদার খেলোয়াড়দের তথ্য ও পরিচিতি কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বাণিজ্যের কাজে লাগাতে পারবে আইসিসি। এতে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আয়ের সুযোগ খর্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্রিকেট বিশ্বের খণ্ডচিত্র
বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের পরিস্থিতি বেশ জটিল। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো বড় দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ড ডব্লিউসিএ-কে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে এসব দেশের ক্রিকেটাররা এই দরকষাকষিতে সরাসরি অংশ নিতে পারছেন না। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর নিজস্ব খেলোয়াড় সংগঠন থাকলেও আইসিসি তাদের এখনো কোনো চূড়ান্ত শর্তপত্র পাঠায়নি।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
গত ১৫ জানুয়ারি ডব্লিউসিএ-র পক্ষ থেকে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিক ই-মেইল পাঠিয়ে তাদের আপত্তির কথা জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি এর কোনো উত্তর দেয়নি। মাঠের লড়াই শুরুর আগে খেলোয়াড়দের এই অধিকার আদায়ের আন্দোলন বিশ্বকাপের আমেজে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই ও বিএসইসি
- দুই মিনিটের রাস্তা পেরোতেই লাগল ১৫ মিনিট, বাঁচানো গেল না সেই নবজাতককে
- সৌদিতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তরের আসল নিয়ম
- বিল নিয়ে ফেসবুকে ঝড় তুললেন আজহারি, জবাব দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- আজ দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম
- 'এমবাপ্পে বাংলাদেশে'—বড় ঘোষণার পর যা জানাল সরকার
- BCB compliance report উঠে এলো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ
- নবম পে-স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি, অপেক্ষা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের
- আগামী ৪ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় সতর্কবার্তা
- IMEI নম্বর চেক করার সহজ উপায়; Android ও iPhone-এ IMEI দেখবেন যেভাবে
- ৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি
- ভবন নির্মাণে নতুন নিয়ম: বাংলাদেশ building code যা মানতে হবে
- মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান নিয়োগ
- Diego Simeone নতুন চ্যালেঞ্জ প্রস্তুতিতে অ্যাটলেটিকো
- বিনিয়োগের আগে cash flowদেখবেন কেন?