MD Zamirul Islam
Senior Reporter
রোজা রাখলে শরীরে কী ঘটে? জানুন ৬টি বিস্ময়কর তথ্য!
উপবাস বা রোজা রাখা কেবল একটি আত্মিক চর্চাই নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি শরীরকে ভেতর থেকে নবজীবন দান করার একটি শক্তিশালী প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকলে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো নিজস্ব মেরামত শুরু করে, যা দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতার চাবিকাঠি।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণার আলোকে রোজার বহুমাত্রিক স্বাস্থ্যসুবিধাগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
হৃদযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা
রক্ত সংবহনতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে রোজার ভূমিকা অপরিসীম। এটি রক্তে ক্ষতিকর চর্বি বা এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে আনে এবং ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণে রাখে। একইসঙ্গে এটি উপকারী কোলেস্টেরল বা এইচডিএল (HDL) এর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে এবং স্ট্রোকের মতো জটিল পরিস্থিতি থেকে হৃদযন্ত্র সুরক্ষিত থাকে।
বাড়তি মেদ ঝরানো ও মেটাবলিজম বৃদ্ধি
ওজন নিয়ন্ত্রণে যারা হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য রোজা হতে পারে প্রাকৃতিক সমাধান। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার ফলে দেহ তার প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য জমানো চর্বি পোড়াতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের বিপাকীয় হার বা মেটাবলিক রেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের বাড়তি মেদ কমিয়ে শরীরকে সুগঠিত করতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ইনসুলিনের কার্যকারিতা
রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি বা 'সুগার স্পাইক' রোধে রোজা অত্যন্ত কার্যকর। এটি ইনসুলিন নামক হরমোনের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে এটি একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
পাচনতন্ত্রের বিরতি ও কোষীয় শুদ্ধিকরণ
আমাদের পরিপাকতন্ত্র সারা বছর অবিরাম কাজ করে। রোজা রাখার মাধ্যমে এই অঙ্গগুলো প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায়। এই বিরতির সময় শরীর তার অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে মনোনিবেশ করে এবং শরীরের জমে থাকা টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়। এটি সামগ্রিকভাবে হজম ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
মস্তিষ্কের সক্ষমতা ও মানসিক স্থিরতা
রোজার ইতিবাচক প্রভাব মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মস্তিষ্কে বিডিএনএফ (BDNF) নামক বিশেষ প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ায়, যা স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এর ফলে মনে গভীর প্রশান্তি আসে এবং মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (অটোফ্যাজি)
রোজার সবচেয়ে চমৎকার দিক হলো এটি শরীরে 'অটোফ্যাজি' বা কোষীয় পরিচ্ছন্নতা প্রক্রিয়াকে উদ্দীপ্ত করে। এই প্রক্রিয়ায় শরীর তার ত্রুটিপূর্ণ বা মৃত কোষগুলো ধ্বংস করে নতুন কোষ গঠনে মনোযোগী হয়। এর মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সুস্থ থাকতে তাই বছরের নির্দিষ্ট সময় ছাড়াও নিয়মিত রোজা বা উপবাসের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার ধুম
- আপনার ফান্ডের কী হবে? বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত
- শেয়ারবাজারে আসছে বড় পরিবর্তন
- ৫ কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা: আসছে ডিভিডেন্ড ও ইপিএস
- বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসই সতর্কবার্তা
- ধেয়ে আসছে ‘সুপার এল নিনো’: ১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন
- সময় বাড়ানোর আগে ব্রোকারদের ‘আমলনামা’ চায় বিএসইসি
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬)
- আবহাওয়ার খবর: তীব্র গরমে বড় সুখবর, ৪ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস
- দলে ফিরলেন সাব্বির-সৌম্য
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট (১৩এপ্রিল ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি:পেশোয়ার বনাম মুলতান
- আর্জেন্টিনার কপালে চিন্তার ভাঁজ: ৩ তারকার চোট!
- আজকের খেলার সময়সূচি:অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা