ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

আমদানি বাণিজ্যে নতুন নিয়ম জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ১৬ ১৮:১২:০২
আমদানি বাণিজ্যে নতুন নিয়ম জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) কেন্দ্রিক আমদানি বাণিজ্য আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে এফটিজেডে পণ্য আমদানি, অর্থায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম সহজ করার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা হবে।

নতুন ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিধিমালা অনুসরণ করে এফটিজেড-সংক্রান্ত সব ধরনের লেনদেন পরিচালনা করতে পারবে। এ সুবিধার আওতায় থাকবে উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অনুমোদিত ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান এবং এফটিজেডে কর্মরত লজিস্টিকস সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

নতুন নীতিমালায় কনসাইনমেন্ট ভিত্তিক আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার বা বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত ওই পণ্যের মালিকানা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছেই থাকবে। মালিকানা হস্তান্তরের আগে ব্যাংক এসব পণ্যকে প্রতিষ্ঠানের মজুত হিসেবে বিবেচনা করবে না এবং এ বিষয়ে ঋণঝুঁকিও নেবে না।

এফটিজেড থেকে দেশের অভ্যন্তরে কোনো ক্রেতা পণ্য কিনলে সেটিকে আমদানি হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে এফটিজেডে থাকা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওই বিক্রয় রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে যথাযথভাবে এক্সপি ও আইএমপি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং সব ধরনের অর্থপ্রদান অবাধে রূপান্তরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রায় সম্পন্ন করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে আমদানি করা পণ্য এফটিজেড এলাকায় সর্বোচ্চ ৪৮ থেকে ৬০ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। এছাড়া বায়ার্স ক্রেডিট ও সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটসহ বিলম্বে মূল্য পরিশোধের ভিত্তিতে আমদানির মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

এছাড়া অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো এফটিজেডে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন সুবিধা দিতে পারবে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটগুলো প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থায়ন করতে পারবে।

ব্যাংক ও ব্যবসায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এই ফ্রেমওয়ার্ক কার্যকর হলে ফ্রি ট্রেড জোনভিত্তিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্প, স্থানীয় উৎপাদন খাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ