প্রথমবারের মতো পেল ভবন ভাড়া দেওয়ার বিশেষ অনুমতি
দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নির্মাণাধীন টুইন টাওয়ার প্রকল্পের একটি ভবন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ অনুমোদন দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রের দাবি, দেশের কোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রে ভবন ভাড়া দিয়ে নিয়মিত আয় করার জন্য এ ধরনের বিশেষ অনুমোদনের ঘটনা এটিই প্রথম।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ার প্রকল্পে ১২ তলাবিশিষ্ট দুটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি ভবনে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য ভবনটি বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের জন্য নিয়মিত ও স্থায়ী আয়ের একটি নতুন উৎস তৈরি করতে চায় কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকটির প্রত্যাশা, বাণিজ্যিকভাবে ভবন ভাড়া দিয়ে অর্জিত আয় আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং ব্যাংকের সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হলে বর্তমানে কার্যালয় ভাড়া বাবদ যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, সেটিও সাশ্রয় হবে।
বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী, ব্যাংকিং কার্যক্রমের বাইরে ভবন ভাড়া দিয়ে নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নেই। এ কারণে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান থেকে বিশেষ অব্যাহতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে ব্যাংকটি টুইন টাওয়ার প্রকল্পের একটি ভবন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
এদিকে, ন্যাশনাল ব্যাংক বর্তমানে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকটির মোট ঋণের ৫৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এসব খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি ব্যাংকটির নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণও প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে ন্যাশনাল ব্যাংকের লোকসানের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা। এরপরও ব্যাংকটি এখনো সেই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও লোকসানের চাপ সামলে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে নতুন আয়ের উৎস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক সূত্র জানায়, ন্যাশনাল ব্যাংকের টুইন টাওয়ার প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। প্রকল্পটিতে এখন পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে টাওয়ার-১ ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্পের একটি ভবনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হলে বর্তমান প্রধান কার্যালয়ের জন্য প্রতি মাসে পরিশোধ করা প্রায় আড়াই কোটি টাকা ভাড়া সাশ্রয় হবে। এতে একদিকে যেমন ব্যাংকের নিয়মিত পরিচালন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে অপর ভবনটি বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দিয়ে নতুন আয় করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির মতো বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের জন্য নিজস্ব সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ব্যাংকটির আর্থিক সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে খেলাপি ঋণ আদায়, প্রভিশন ঘাটতি পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পুনর্গঠনও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- এস আলমের দখলে থাকা ব্যাংক নিয়ে এলো নতুন সিদ্ধান্ত
- SSC Result 2026: ফল প্রকাশের তারিখ ও দেখার নিয়ম জানুন
- শেয়ার বিজকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠাল রবি, শুরু নতুন বিতর্ক
- বাবর আজমের দলে ফেরা নিয়ে নতুন সমীকরণ
- ডিএসইতে বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা ৩৫, সবচেয়ে পুরোনোটি ২৪ বছর ধরে নিষ্ক্রিয়
- Snapdragon 8 Gen 3 ফোনে নতুন চমক, Redmi K80 নিয়ে আপডেট
- সাকিবের বাড়িতে হামলা নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ
- জেনে নিন আজকের সোনা ও রুপার সর্বশেষ দাম
- ১৮০ দিনের মূল্যায়ন শেষে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন
- SSC Result 2026: যে ৩ উপায়ে জানা যাবে ফল
- তাপমাত্রা নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- আগে দেখে নিন, আজকের সোনার নতুন দাম
- রবির বড় সাফল্য! আয় কম বাড়লেও রেকর্ড মুনাফা ও গ্রাহক বৃদ্ধি
- টিভিতে আজকের খেলা (৭ আগস্ট)
- সৌদিতে বাংলাদেশিদের আকামা নবায়নে বদলে গেল নিয়ম