ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারের নতুন উদ্যোগ, কী থাকছে আইনে?

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১০:৫৩:৫০
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা বাড়াতে সরকারের নতুন উদ্যোগ, কী থাকছে আইনে?

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং অব্যবহৃত আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে নীতিগত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)-কে একটি সংবিধিবদ্ধ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অব্যবহৃত নগদ লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার, রাইটস শেয়ার, আইপিও ও কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) অনাদায়ী অর্থসহ বিভিন্ন আর্থিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে।

খসড়া আইন অনুযায়ী, প্রকৃত মালিক বা বৈধ উত্তরাধিকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পাওনা অর্থ বা সম্পদ ফেরত দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনটি কার্যকর হলে সিএমএসএফ দেশের পুঁজিবাজারে একটি আধুনিক কেন্দ্রীয় নগদ লভ্যাংশ বিতরণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও সহজ হবে।

এ ছাড়া বিনিয়োগকারীরা একটি অর্থবছরে প্রাপ্ত লভ্যাংশের বিপরীতে উৎসে কর্তন করা করের চালান ও কর কর্তন সনদ (টিডিএস সার্টিফিকেট) একক প্ল্যাটফর্ম থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে করসংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।

প্রস্তাবিত আইনে সিএমএসএফ পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। পর্ষদে চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতিনিধি, আর্থিক ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) নেতৃত্বে ফান্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, সিএমএসএফের অর্থ কেবল পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বিএসইসির অনুমোদনক্রমে নিরাপদ ও অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করা যাবে।

ফান্ড পরিচালনায় নিরীক্ষা, হিসাব সংরক্ষণ, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

খসড়া আইনে তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান বা ফান্ড-সংশ্লিষ্ট সম্পদের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে কার্যকর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড) বিধিমালা, ২০২১ বাতিল করে নতুন আইন কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সিএমএসএফের অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াসি আজম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে সিএমএসএফ একটি আধুনিক নগদ লভ্যাংশ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এতে লভ্যাংশ বিতরণ আরও দ্রুত, ডিজিটাল ও স্বচ্ছ হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা করসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিও একক প্ল্যাটফর্মে পাবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে অব্যবহৃত বিনিয়োগকারীর সম্পদের সুশাসন নিশ্চিত হবে, লভ্যাংশ ব্যবস্থাপনা সহজ হবে এবং দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ