ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাবেক আইজিপি বেনজীরের জামিন মঞ্জুর, তবে মানতে হবে যেসব শর্ত

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ০২ ১৫:১৮:৫৫
সাবেক আইজিপি বেনজীরের জামিন মঞ্জুর, তবে মানতে হবে যেসব শর্ত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্ত হয়েছেন—এমন খবর প্রকাশ করেছে কয়েকটি গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়টি তারা যাচাই করছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। অনলাইন গণমাধ্যম এশিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনজীর জামিনে মুক্ত হয়েছেন এবং তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আদালত তার জামিনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে শর্তসাপেক্ষে জামিনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানা যায়। বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আইজিপি পদ থেকে অবসরের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। পরে দুদক তদন্ত শুরু করলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে অবস্থান নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে তার বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণও প্রশাসনের হাতে যায়। বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ