ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৪ ১৬:১০:৪৩
৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বিপজ্জনক পরিমাণে মার্কারি (পারদ) পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর বিক্রি, বিতরণ ও মজুদ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ভোক্তাদের এসব প্রসাধনী ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, বাংলাদেশ মান (বিডিএস-১৩৮২) অনুযায়ী প্রসাধনীতে মার্কারির সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা ১ পিপিএম। তবে পরীক্ষায় কয়েকটি ব্র্যান্ডের ক্রিমে এই সীমার তুলনায় বহু গুণ বেশি মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।

বিএসটিআইর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নুর এন্টারপ্রাইজের নুর হোয়াইটেনিং ক্রিমে ৮২.৭৬ পিপিএম, ক্রিয়েটিভ কসমেটিকসের ডিউ বিউটি ক্রিমে ১২৩.৩৭ পিপিএম, গৌরি কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গৌরি বিউটি ক্রিমে ৫৬.৯৩ পিপিএম এবং চীনের জিএলডিজেবি (হারবিন) কসমেটিকস কো. লিমিটেডের ন্যাচারাল পার্ল স্কিন ক্রিমে ৬৭.৪৯ পিপিএম মার্কারি পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডের নমুনাতেও নির্ধারিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত মার্কারি শনাক্ত হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম বৈধ আমদানি প্রক্রিয়ার বাইরে লাগেজ বা অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করছে। ফলে এসব পণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত প্রসাধনী উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, নিরাপদ বাজার নিশ্চিত করতে বিএসটিআই নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ, বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট ও সার্ভিল্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিএসটিআই ভোক্তাদের অজ্ঞাত বা অনুমোদনহীন ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি প্রসাধনী কেনার আগে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও পণ্যের বৈধতা যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন মার্কারিযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি, অ্যালার্জি, স্থায়ী দাগ, কিডনির জটিলতা, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি এবং গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ