১ ইউরোতে বাড়ি কিনুন ইতালিতে, তবে মানতে হবে যেসব কঠিন শর্ত
ইতালির ঐতিহাসিক সিসিলি দ্বীপের নরো শহরে মাত্র ১ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪৩ টাকায় বাড়ি কেনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত হয়ে থাকা পুরোনো ভবনগুলোতে আবার বসতি গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক শহরটিতে পর্যটন বাড়ানো এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
সিসিলির আগ্রিজেন্তো প্রদেশে অবস্থিত নরো একটি মধ্যযুগীয় ঐতিহাসিক শহর। শহরটি বারোক স্থাপত্য, পুরোনো ঐতিহাসিক ভবন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জন্য পরিচিত। তবে সময়ের সঙ্গে শহরের জনসংখ্যা কমতে থাকায় অনেক বাড়িঘর পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এসব ভবন সংস্কার করে আবার মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তুলতেই ‘এক ইউরোর বাড়ি’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
এই প্রকল্পের আওতায় ইতালির নাগরিকদের পাশাপাশি বিদেশিরাও নির্দিষ্ট স্থানীয় শর্ত পূরণ করে বাড়ি কেনার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহীরা অনলাইনে ‘কাসে ১ ইউরো নরো’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্য দেশের নাগরিকদের জন্যও এ উদ্যোগ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
তবে মাত্র ১ ইউরো দিয়ে বাড়ি কেনার খবর শুনতে যতটা চমকপ্রদ, বাস্তবে বিষয়টি ততটা সহজ নয়। ১ ইউরো মূলত বাড়িটির প্রতীকী ক্রয়মূল্য। তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর অধিকাংশই পুরোনো ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং বসবাসের উপযোগী করতে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে। বাড়ি কেনার পর সেই সংস্কারের পুরো ব্যয় ক্রেতাকেই বহন করতে হবে।
এর পাশাপাশি বাড়ির দলিল সম্পাদন, নিবন্ধন ফি, ক্যাডাস্ট্রাল বা সম্পত্তি-সংক্রান্ত করসহ বিভিন্ন সরকারি খরচও ক্রেতাকে দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থপতির মাধ্যমে বাড়ির নকশা তৈরি, ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনার বিধি মেনে সংস্কার করার ব্যয়ও যুক্ত হবে।
কিছু ক্ষেত্রে ক্রেতাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কারের কাজ শেষ করার শর্তও পূরণ করতে হতে পারে। ফলে নামমাত্র ১ ইউরোতে বাড়ি কেনা গেলেও বাড়িটিকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে প্রকৃত ব্যয় অনেক বেশি হতে পারে। তাই এই প্রকল্পে আগ্রহীদের বাড়ি কেনার আগে সংস্কার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত হিসাব করে নেওয়া জরুরি।
নরো শহরের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। শহরের দর্শনীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে চিয়ারামন্তানো দুর্গ এবং ১৩ শতকের ঐতিহাসিক ‘গোল্ডেন গেট’ বা পোর্তা দ’ওরো। পুরোনো স্থাপত্য ও মধ্যযুগীয় পরিবেশের কারণে শহরটি ইতিহাস ও সংস্কৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয়।
২০০৫ সালের একটি ভূমিধসের পর নরোর বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়। পরে স্থানীয় তরুণ শিল্পীরা ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ভবনের সম্মুখভাগে নানা ধরনের চিত্রকর্ম আঁকেন। এসব শিল্পকর্মকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে ‘এমএএন’ নামে একটি উন্মুক্ত শিল্প জাদুঘর গড়ে ওঠে। ফলে পরিত্যক্ত ভবনগুলোও শহরের সাংস্কৃতিক আকর্ষণের অংশ হয়ে ওঠে।
ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশাপাশি নরো সিসিলির ঐতিহ্যবাহী খাবারের জন্যও পরিচিত। স্থানীয় জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে ক্যাসাটা, পাস্তা রেয়ালে, আরানচিনা ও কানোলি। ফলে পুরোনো স্থাপত্য, শিল্প, খাবার এবং ভূমধ্যসাগরীয় পরিবেশ মিলিয়ে শহরটি পর্যটকদের জন্যও বেশ আকর্ষণীয়।
ইতালির বিভিন্ন ছোট শহরে জনসংখ্যা কমে যাওয়া ঠেকাতে এর আগে এক ইউরোর বাড়ির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নরোর ক্ষেত্রেও মূল উদ্দেশ্য শুধু বাড়ি বিক্রি নয়; বরং পরিত্যক্ত ভবন সংস্কার, নতুন বাসিন্দা আকৃষ্ট করা, স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা এবং পর্যটনকে আরও গতিশীল করা।
তাই ১ ইউরো বা প্রায় ১৪৩ টাকায় বাড়ি কেনার সুযোগটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় হলেও এটিকে ‘১৪৩ টাকায় প্রস্তুত বাড়ি’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি পুরোনো বাড়ি কিনে নিজের অর্থে সংস্কার করে বসবাস বা বিনিয়োগের একটি সুযোগ। প্রকল্পের শর্ত, বাড়ির অবস্থা এবং সম্ভাব্য সংস্কার ব্যয় যাচাই করেই আগ্রহীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- লাভেলোর শেয়ার নিয়ে বড় তদন্ত, জরিমানা ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের
- স্ক্রিপ নেটিং থেকে নতুন ওয়েবসাইট—পুঁজিবাজারে একসঙ্গে একাধিক পরিবর্তন
- শেয়ারবাজারে বড় ধসের আশঙ্কা, এআইকে ঘিরে নতুন শঙ্কা
- ৫ দিনের সরকারি ছুটি সামনে, কিন্তু ‘বাড়তি ছুটি’ মিলবে না যেদিন
- মাইডাসে ভয়াবহ সংকট, খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৪৩২ কোটি টাকা
- ‘সবুজ মাংস’ রহস্য, ল্যাব রিপোর্টে যে কারণের কথা বলা হলো
- এসএসসি নিয়ে সব জল্পনার অবসান? শিক্ষামন্ত্রীর নতুন বার্তা
- জেনে নিন আজকের সর্বশেষ স্বর্ণেরবাজারদর
- ক্ষোভ থেকে ১৭ বছরের কিশোরের অভিনব উদ্যোগ
- শেয়ারবাজারে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ে বড় সিদ্ধান্ত বিএসইসির
- পে স্কেলের গেজেট নিয়ে যা বললেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব
- পুলিশে বড় রদবদল, একসঙ্গে বদলি ১১ কর্মকর্তা
- সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের টাকা নিয়ে নতুন নির্দেশনা
- হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুযোগ
- বেতন বাড়বে, তবে একবারে নয়—নবম পে স্কেলে সরকারের নতুন কৌশল