ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

যৌনক্ষমতা নিয়ে দুশ্চিন্তা? খাদ্যতালিকায় রাখুন যেসব খাবার

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১২:১২:২১
যৌনক্ষমতা নিয়ে দুশ্চিন্তা? খাদ্যতালিকায় রাখুন যেসব খাবার

যৌনস্বাস্থ্য ভালো রাখার ক্ষেত্রে শুধু কোনো একটি খাবারকে ‘যৌন শক্তি বৃদ্ধির খাবার’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম, মানসিক চাপ কমানো এবং ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার সঙ্গে যৌনস্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পুরুষের ইরেকশন বা উত্থানজনিত সমস্যার সঙ্গে হৃদ্‌যন্ত্র, রক্তনালি, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

জাতীয় ডায়াবেটিস, ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস ইনস্টিটিউট (NIDDK)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা ED হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং বিদ্যমান সমস্যার উপসর্গ উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে শাকসবজি, ফল, ডালজাতীয় খাবার, বাদাম-বীজ, স্বাস্থ্যকর চর্বি, মাছ ও পূর্ণশস্যভিত্তিক খাদ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোন খাবার যৌনস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে?

১. শাকসবজি

সবুজ শাক, বাঁধাকপি, বিটসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব খাবারে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশ থাকে। নিয়মিত সবজি খাওয়া সামগ্রিক হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, যা স্বাভাবিক যৌন কার্যকারিতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

কারা উপকার পেতে পারেন: সাধারণভাবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা নিয়মিত পরিমাণমতো খেতে পারেন।

যাদের সতর্কতা দরকার: কিডনি রোগ, বিশেষ খাদ্য-নিয়ন্ত্রণ বা নির্দিষ্ট পটাশিয়াম/অক্সালেট সীমাবদ্ধতা থাকলে সব ধরনের শাকসবজি নিজের ইচ্ছায় বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করা ভালো।

২. ফলমূল

আপেল, কমলা, বেরি জাতীয় ফলসহ বিভিন্ন ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ। ফলের মধ্যে থাকা আঁশ, ভিটামিন ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ উপাদান সামগ্রিক বিপাকীয় ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। গবেষণাতেও বেশি ফল ও সবজি খাওয়ার সঙ্গে ইরেকটাইল সমস্যার তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ডায়াবেটিসে সতর্কতা: ফল উপকারী হলেও ‘ফল মানেই যত খুশি খাওয়া যাবে’—এমন ধারণা ঠিক নয়। ফলের প্রাকৃতিক কার্বোহাইড্রেট রক্তে গ্লুকোজ বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণ ও ব্যক্তিগত খাদ্য পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।

৩. বাদাম ও বীজ

কাঠবাদাম, আখরোটসহ বিভিন্ন বাদাম এবং বীজে অসম্পৃক্ত চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে। গবেষণায় বাদাম খাওয়ার সঙ্গে ED-এর কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এটিকে কোনো ‘তাৎক্ষণিক যৌন শক্তিবর্ধক’ খাবার বলা যাবে না।

কারা খাবেন না বা সতর্ক থাকবেন: যাদের বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য বাদাম বিপজ্জনক হতে পারে। কিডনি রোগে নির্দিষ্ট পুষ্টি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হলে বাদামের পরিমাণও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করতে হবে।

৪. মাছ

বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ মাছ একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। মাছ, ফল, সবজি, বাদাম, পূর্ণশস্য ও স্বাস্থ্যকর তেলকে গুরুত্ব দেওয়া Mediterranean ধরনের খাদ্যাভ্যাস যৌনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে।

তবে মাছের ক্ষেত্রেও পরিমাণ ও মাছের ধরন গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি বা অন্য কোনো রোগের জন্য বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. ডাল, ছোলা ও অন্যান্য Legumes

মসুর ডাল, মটরশুঁটি, বিভিন্ন ধরনের বিনস ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এগুলো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও আঁশের উৎস। NIDDK-ও ED ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় legumes অন্তর্ভুক্ত করেছে।

ডায়াবেটিস থাকলেও ডাল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে, তবে মোট কার্বোহাইড্রেট ও খাবারের পরিমাণ ব্যক্তিভেদে নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

৬. পূর্ণশস্য

ওটস, ব্রাউন রাইস, কুইনোয়া ও অন্যান্য whole-grain খাবার পরিশোধিত শর্করার তুলনায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাদা ভাত পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং মোট পরিমাণ, সবজি, ডাল, মাছ বা অন্য স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

Mediterranean diet কেন আলোচনায়?

যৌনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে শুধু একটি খাবারের চেয়ে পুরো খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ। Mediterranean ধরনের খাদ্যাভ্যাসে সাধারণত বেশি থাকে ফল, সবজি, ডাল, বাদাম, পূর্ণশস্য, মাছ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি; অন্যদিকে অতিরিক্ত লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং পরিশোধিত শস্য কম থাকে। বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যালোচনায় এই খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ভালো ইরেকটাইল ফাংশনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

২০২৬ সালের একটি হালনাগাদ পর্যালোচনাতেও Mediterranean খাদ্যাভ্যাস ও যৌনস্বাস্থ্যের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে গবেষকরা এটিও উল্লেখ করেছেন যে বিদ্যমান গবেষণার ধরন ও ফলাফল একেবারে একরকম নয়; কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।

কোন খাবার কমানো ভালো?

যৌনস্বাস্থ্যের জন্য শুধু কী খাবেন তা নয়, কী কমাবেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

NIDDK-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব খাবার ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, সেগুলো ED-এর ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তাই অতিরিক্ত—

ভাজাপোড়া ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার

অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার

অতিরিক্ত মিষ্টি ও added sugar

অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার

প্যাকেটজাত ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার

অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট

অতিরিক্ত অ্যালকোহল

কমিয়ে আনা ভালো।

তাহলে কি মাংস, ডিম বা দুধ খাওয়া যাবে না?

এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই যে যৌনস্বাস্থ্য ভালো রাখতে মাংস, ডিম বা দুধ পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। মূল বিষয় হলো খাদ্যের সামগ্রিক ভারসাম্য এবং অতিরিক্ত চর্বি, ক্যালরি, লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলা।

বিশেষ করে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত বেশি খাওয়ার বদলে মাছ, ডাল, বাদাম, বীজ, শাকসবজি ও পূর্ণশস্যকে খাদ্যতালিকায় বেশি জায়গা দেওয়া স্বাস্থ্যকর হতে পারে।

যাদের ডায়াবেটিস আছে

ডায়াবেটিস ও যৌনস্বাস্থ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন রক্তে গ্লুকোজ বেশি থাকলে রক্তনালি, স্নায়ু ও অন্যান্য শারীরিক ব্যবস্থায় ক্ষতি হয়ে যৌন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত ওজন, কম শারীরিক পরিশ্রম ও অতিরিক্ত অ্যালকোহলও ঝুঁকি বাড়ায়।

তাই ডায়াবেটিসের রোগীর জন্য শুধু ‘যৌন শক্তি বাড়ানোর খাবার’ খোঁজা যথেষ্ট নয়। রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ, ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদ্‌রোগ বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে

ইরেকশন একটি রক্তপ্রবাহ-নির্ভর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও রক্তনালির সমস্যার সঙ্গে ED-এর সম্পর্ক রয়েছে।

এ কারণে এ ধরনের রোগীদের জন্য যৌনক্ষমতা বাড়ানোর নামে অতিরিক্ত চর্বি, লবণ বা চিনি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উল্টো ক্ষতিকর হতে পারে। তাদের জন্য হৃদ্‌স্বাস্থ্যবান খাদ্যাভ্যাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে কেন সতর্কতা জরুরি?

স্বাস্থ্যকর মানুষের জন্য উপকারী কোনো খাবারই কিডনি রোগীর জন্য একইভাবে উপকারী হবে—এমন নয়। কিডনি রোগের পর্যায়, রক্তের পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে।

তাই কিডনি রোগী যদি যৌনস্বাস্থ্যের জন্য বেশি বাদাম, ফল, শাকসবজি বা অন্য কোনো খাবার খাওয়া শুরু করতে চান, আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

অ্যালার্জি থাকলে ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবারও ক্ষতিকর হতে পারে

বাদামসহ কোনো নির্দিষ্ট খাবারে অ্যালার্জি থাকলে শুধু যৌনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সেই খাবার খাওয়া উচিত নয়। অ্যালার্জির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবারও গুরুতর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

অর্থাৎ ‘যৌন শক্তির জন্য ভালো’—এমন প্রচারণা দেখে নিজের অ্যালার্জি বা চিকিৎসাগত সমস্যা উপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।

শুধু খাবার খেলেই কি যৌনশক্তি বাড়বে?

না। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।

খাদ্যাভ্যাস যৌনস্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখলেও ED-এর কারণ হতে পারে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, হরমোনের সমস্যা, কিছু ওষুধ, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ।

NIDDK-এর মতে, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের রক্তপ্রবাহ বাড়াতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। ধূমপান বন্ধ করা, অ্যালকোহল কমানো বা বন্ধ করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও ED ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ জীবনযাপন পরিবর্তনের অংশ।

বাজারের ‘যৌন শক্তিবর্ধক’ খাবার ও সাপ্লিমেন্ট নিয়ে সতর্কতা

‘প্রাকৃতিক যৌন শক্তিবর্ধক’, ‘তাৎক্ষণিক শক্তি’, ‘পুরুষত্ব বাড়ায়’—এ ধরনের প্রচারণা দেখেই কোনো পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। খাবার ও সাপ্লিমেন্ট এক জিনিস নয়। কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে বিশেষ করে অন্য কোনো রোগ বা নিয়মিত ওষুধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। Mayo Clinic-ও বিকল্প বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করার পরামর্শ দেয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?

এক-দুবার যৌনমিলনের সময় ইরেকশন ঠিকমতো না হওয়া মানেই বড় রোগ—এমন নয়। মানসিক চাপ, ক্লান্তি বা অতিরিক্ত অ্যালকোহলের কারণেও সাময়িক সমস্যা হতে পারে। কিন্তু সমস্যা যদি বারবার হয়, তাহলে বিষয়টিকে শুধু খাবারের ঘাটতি মনে করে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

কারণ নিয়মিত ED কখনো কখনো ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সংকেত হতে পারে।

যৌনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ‘একটি খাবার’ খোঁজার চেয়ে পুরো খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম-বীজ, পূর্ণশস্য ও মাছভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ খাবার নিয়মিত খাওয়া, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও চিনি-লবণ কমানো, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা—এসব একসঙ্গে যৌন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ, খাদ্য অ্যালার্জি বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে সবার জন্য একই খাদ্যতালিকা প্রযোজ্য নয়। আর বারবার ইরেকশন সমস্যা হলে ‘শক্তিবর্ধক খাবার’ খোঁজার আগে সমস্যার মূল কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

FAQ

প্রশ্ন: কোন খাবার দ্রুত যৌনশক্তি বাড়ায়?

উত্তর: কোনো নির্দিষ্ট খাবারকে দ্রুত বা তাৎক্ষণিক যৌন শক্তিবর্ধক হিসেবে প্রমাণ করার মতো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: যৌনশক্তি বাড়াতে প্রতিদিন বাদাম খাওয়া যাবে?

উত্তর: সাধারণভাবে বাদাম স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে বাদামে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়া যাবে না। কিডনি রোগসহ কিছু শারীরিক সমস্যায় পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

প্রশ্ন: ডায়াবেটিস রোগীরা যৌনস্বাস্থ্যের জন্য ফল খেতে পারবেন?

উত্তর: সাধারণভাবে ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ হতে পারে। তবে ডায়াবেটিসে ফলের ধরন, পরিমাণ এবং দিনের মোট কার্বোহাইড্রেটের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: যৌনক্ষমতা কমে গেলে শুধু খাবার পরিবর্তন করলেই হবে?

উত্তর: সবসময় নয়। দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার ইরেকশন সমস্যা হলে ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, রক্তনালি, হরমোন, ওষুধ বা মানসিক স্বাস্থ্যের মতো কারণ থাকতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: যৌন শক্তিবর্ধক সাপ্লিমেন্ট কি নিরাপদ?

উত্তর: সব সাপ্লিমেন্ট নিরাপদ নয়। বিশেষ করে অন্য ওষুধ গ্রহণ করলে বা কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রশ্ন: যৌনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?

উত্তর: একটি নির্দিষ্ট খাবারের চেয়ে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ