স্টুডেন্ট ভিসায় বড় পরিবর্তনের পথে অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন কমানোর উদ্যোগে এবার বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেশটিতে প্রবেশের সুযোগও সীমিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। লেবার সরকারের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় ভিসা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশ থেকে মানুষের আগমন কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ রাখা হচ্ছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার এই অভিবাসন পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা এবং আবেদনকারীদের দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার মতো বিষয়েও নতুন নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে।
একাই অস্ট্রেলিয়ায় যেতে হতে পারে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে
বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি নতুন পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। গত বছর অস্ট্রেলিয়া ৩ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসা অনুমোদন করেছিল। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজার জন ভিসা পেয়েছেন।
প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে এই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। এর ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিদেশি শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্য ছাড়া একাই অস্ট্রেলিয়ায় আসতে হবে।
অভিবাসনের সংখ্যা কমানোর লক্ষ্য
অস্ট্রেলিয়া সরকার একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অভিবাসন প্রবাহও কমাতে চায়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে ১ লাখ ৮৫ হাজার স্থায়ী অভিবাসী নেওয়ার পাশাপাশি আগামী দুই বছরে নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫ হাজার থেকে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও ওয়ার্কিং হলিডেমেকারদের মাধ্যমে প্রত্যাশার তুলনায় বেশি মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় আসার প্রবণতা কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে। এই প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে আনতেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ভিসা ব্যবস্থায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে
নতুন পরিকল্পনার আওতায় ভিসার কয়েকটি শ্রেণির নিয়ম পরিবর্তনের কথাও রয়েছে। বর্তমানে চাহিদানির্ভর ব্যবস্থার আওতায় থাকা কিছু ভিসা শ্রেণিকে সেই কাঠামো থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় এক বছরে কত মানুষ প্রবেশ করবেন এবং কতজন দেশ ছেড়ে যাবেন—এই দুই ক্ষেত্রেই সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আগমনের সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে আইন প্রণয়নের পরিকল্পনাও করছে লেবার সরকার।
দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ায়ও আসতে পারে সীমাবদ্ধতা
অভিবাসন পরিকল্পনার আরেকটি সম্ভাব্য দিক হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকানো। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে চলা আপিল প্রক্রিয়াও সীমিত করার উদ্যোগ পরিকল্পনায় থাকতে পারে।
অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় শুধু নতুন করে কত মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় আসবেন, সেটিই নয়; ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থান এবং আবেদন-সংক্রান্ত দীর্ঘ প্রক্রিয়াতেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
অর্থনীতিতে কম প্রভাব রেখে নিয়ন্ত্রণ চান বার্ক
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক মনে করেন, দেশটির নিট বিদেশি অভিবাসন কমানো দরকার। তবে এ ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে চান তিনি, যাতে অর্থনীতিতে ক্ষতির মাত্রা সবচেয়ে কম থাকে।
বার্কের বক্তব্য অনুযায়ী, সামগ্রিক অভিবাসন সংখ্যা কমানোর কাজটি বুদ্ধিদীপ্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক উপায়ে করতে চান তিনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ হতে যাওয়া অভিবাসন পরিকল্পনায় সেই নিয়ন্ত্রণের কাঠামোই তুলে ধরা হবে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মাত্র দুই দিন শেয়ার কিনলেই শেয়ারপ্রতি ১৮ টাকা বোনাস পাচ্ছে বিনিয়োগকারীরা
- শেয়ারবাজারের সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ, একগুচ্ছ প্রস্তাব
- কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে ছয় মাস পর উৎপাদনে ফিরল এক কোম্পানি
- সালমান এফ রহমান মুক্ত হচ্ছে শেয়ারবাজার!
- শেয়ারবাজারে নজরদারি বাড়াল বিএফআইইউ, মানতে হবে নতুন নিয়ম
- বাংলাদেশ বনাম উত্তর কোরিয়া: গোল বন্যায় শেষ হলো ম্যাচ
- এজিএমে ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্সের নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন
- দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ২০২৬: কবে থেকে, কত দিন জানুন এক নজরে
- আজ বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে কত জেনে নিন
- শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নতুন সুযোগ, আসছে ডাইরেক্ট লিস্টিং
- ভারত বনাম আফগানিস্তান দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি: ব্যাটিংয়ে ভারত সরাসরি দেখুন Live
- প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করলো আমরা টেকনোলজিস
- আইপিও আবেদন ও ডাইরেক্ট লিস্টিং নিয়ে নতুন বার্তা দিল বিএসইসি
- আজ বাংলাদেশে১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট সোনার দাম জেনে নিন
- ডিএসই: শেয়ারবাজার নিয়ে আজকের ৩ গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা