ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

১০ টাকার কলা বনাম ১৫০ টাকার ডাব, পুষ্টিতে কে এগিয়ে?

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২১ ১৭:৩২:২৩
১০ টাকার কলা বনাম ১৫০ টাকার ডাব, পুষ্টিতে কে এগিয়ে?

বাজারে একটি সাধারণ কলা পাওয়া যায় প্রায় ১০ টাকায়। বিপরীতে একটি ডাব কিনতে খরচ হতে পারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, কখনো তারও বেশি। দামের এই বড় ব্যবধান দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে—দাম যখন এত বেশি, তখন কি ডাবের পুষ্টিগুণও কলার তুলনায় অনেক বেশি?

পুষ্টির দিক থেকে দেখলে বিষয়টি এতটা সরল নয়। কলা ও ডাবের পানিতে কিছু মিল থাকলেও দুটির শরীরে ভূমিকা এক নয়। একটিতে যেমন ফাইবার, ভিটামিন বি৬ ও ক্যালরি পাওয়া যায়, অন্যটি শরীরে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট সরবরাহের ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা দেয়।

পেট ভরানো ও শক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কলার সুবিধা

ক্ষুধার সময় শুধু একটি পানীয়ের বদলে এমন খাবার প্রয়োজন হতে পারে, যা কিছুটা পেটও ভরাবে। এ ক্ষেত্রে কলার আলাদা সুবিধা রয়েছে।

একটি মাঝারি কলায় প্রায় ১০০ থেকে ১০৫ ক্যালরি থাকতে পারে। তাই সকালে হাতে সময় কম থাকলে কিংবা হালকা নাশতার প্রয়োজন হলে একটি কলা খাওয়া সহজ একটি উপায় হতে পারে। কলা খেলে কিছুটা পেট ভরা অনুভূতিও হয় এবং শরীর শক্তি পেতে পারে।

এর সঙ্গে রয়েছে ভিটামিন বি৬। শরীরের বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য এই ভিটামিন প্রয়োজন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ফাইবার। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকতে পারে। এটি হজমে সহায়তা করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতেও উপকারী। প্রতিদিনের খাবারে ফাইবার যোগ করার সহজ উপায় হিসেবেও তাই কলা রাখা যেতে পারে।

ডাবের পানি যেখানে এগিয়ে

ডাবের পানির সুবিধাটি মূলত অন্য ধরনের। শরীরে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট সরবরাহ করতে এটি কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে বেশি ঘাম বের হলে কিংবা পানির ঘাটতি দেখা দিলে ডাবের পানি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

তবে ক্ষুধা মেটানোর ক্ষেত্রে ডাবের পানি ও কলাকে একইভাবে দেখা যায় না। শুধু ডাবের পানি পান করলে কলা খাওয়ার মতো পেট ভরা অনুভূতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

অর্থাৎ, ডাবের পানির মূল সুবিধা যেখানে শরীরের তরল ও কিছু ইলেকট্রোলাইটের চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত, সেখানে কলা একই সঙ্গে ফাইবার, ক্যালরি ও ভিটামিন বি৬ সরবরাহ করতে পারে।

পটাশিয়ামে দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য নেই

দুটির তুলনায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর একটি হলো পটাশিয়াম। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকতে পারে। প্রায় একই পরিমাণ পটাশিয়াম পাওয়া যেতে পারে এক গ্লাস ডাবের পানিতেও।

ফলে শুধু পটাশিয়ামের পরিমাণ বিবেচনা করে ডাবের পানিকে কলার চেয়ে অনেক বেশি পুষ্টিকর বলা যায় না। বরং এই জায়গায় দুটিই ভালো।

তবে পটাশিয়ামের পাশাপাশি অন্য পুষ্টি উপাদানগুলো বিবেচনায় নিলে তাদের পার্থক্য স্পষ্ট হয়। কলায় ফাইবার, ভিটামিন বি৬ ও ক্যালরি রয়েছে; ডাবের পানির ক্ষেত্রে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

সবার জন্য কি একই খাবার উপযুক্ত?

কলা কিংবা ডাবের পানি—দুটিই সবার জন্য একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে অথবা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকলে এগুলো বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ডায়াবেটিস থাকলেও কলা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এ ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া হচ্ছে, সেটি কতটা পাকা এবং সারাদিনে আর কী কী খাবার খাওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দাম নয়, প্রয়োজনটাই মূল বিষয়

১০ টাকার কলা আর ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বা তারও বেশি দামের ডাবের মধ্যে তুলনা করতে গেলে শুধু দামের দিকে তাকালে চলবে না। দুটির উপকারিতা ভিন্ন।

দৈনন্দিন পুষ্টির ক্ষেত্রে কলা ফাইবার, ভিটামিন বি৬, ক্যালরি ও কিছুটা পেট ভরা রাখার সুবিধা দিতে পারে। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে বেশি ঘাম হলে বা শরীরে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইটের প্রয়োজন হলে ডাবের পানি ভালো একটি বিকল্প হতে পারে।

তাই বেশি দাম মানেই বেশি পুষ্টি—এমন সরল হিসাব এখানে প্রযোজ্য নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী কলা বা ডাবের পানি বেছে নেওয়াই মূল বিষয়।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ