ঢাকা, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

শীতে গোসলের আগে ও পরে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ নভেম্বর ০৬ ২১:১৯:৩৮
শীতে গোসলের আগে ও পরে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

শীতের সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে গিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। আবার ঠান্ডা এড়াতে কেউ কেউ অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করেন, যা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে শুষ্কতা, চুলকানি ও জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। তাই শীতকালে গোসলের ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা, সময় এবং গোসলের পর ত্বকের যত্ন—তিনটি বিষয়েই বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শীতের সময় খুব গরম পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। গোসল দীর্ঘ না করে অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং পরে শরীর ভালোভাবে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগালে ত্বকের শুষ্কতা কমানো যায়। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল বা আগে থেকেই শুষ্কতার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের গোসলের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা উপকারী।

গোসলের পানির তাপমাত্রা কেমন হওয়া উচিত?

শীতকালে আরাম পেতে অনেকে অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করেন। কিন্তু খুব গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সুরক্ষামূলক স্তর নষ্ট করতে পারে। ফলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুলকানি বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

এ কারণে গোসলের জন্য কুসুম গরম পানি বেছে নেওয়া ভালো। পানি যেন শরীরের জন্য আরামদায়ক হয়, কিন্তু অতিরিক্ত গরম না হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং সংবেদনশীল ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

গোসল বেশি সময় ধরে করবেন না

শীতকালে দীর্ঘ সময় ধরে গরম পানিতে গোসল করলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এতে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

তাই গোসল অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা ভালো। সাধারণভাবে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে গোসল শেষ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় ধরে পানির নিচে থাকা বা বারবার গরম পানি ব্যবহার করা এড়িয়ে চলা উচিত।

সাবান ও বডি ওয়াশ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

সব ধরনের সাবান ত্বকের জন্য সমান উপযোগী নয়। কিছু সাবান ও ক্লিনজার ত্বকের স্বাভাবিক তেল বেশি পরিমাণে দূর করে দিতে পারে। শীতকালে এমন পণ্য ব্যবহারে ত্বকের শুষ্কতা আরও বাড়তে পারে।

এ সময় মৃদু, সুগন্ধিবিহীন বা ত্বকের জন্য উপযোগী ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো। প্রতিদিন শরীরের সব অংশে বারবার সাবান ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে যেসব স্থানে ঘাম ও ময়লা বেশি জমে, সেসব স্থানে পরিষ্কার করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

গোসলের পরপরই ময়েশ্চারাইজার লাগান

শীতকালে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি হলো গোসলের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা। গোসল শেষে তোয়ালে দিয়ে শরীর আলতোভাবে মুছে ত্বক সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্রিম, লোশন বা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে। যাঁদের ত্বক বেশি শুষ্ক, তাঁরা তুলনামূলক ঘন ময়েশ্চারাইজার বেছে নিতে পারেন। হাত, পা, কনুই ও হাঁটুর মতো শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে এমন অংশে বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

গোসলের পর শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন

গোসলের পর শরীর ভেজা রেখে দিলে ঠান্ডা লাগার অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিষ্কার ও নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর আলতোভাবে মুছে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক, বগল ও শরীরের ভাঁজগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তবে তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে শরীর মুছবেন না। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। আলতোভাবে চাপ দিয়ে পানি মুছে নেওয়াই ভালো।

গোসলের সময় ও পরিবেশের দিকে খেয়াল রাখুন

শীতকালে গোসলের জন্য এমন সময় বেছে নেওয়া ভালো, যখন পরিবেশ তুলনামূলক আরামদায়ক থাকে। খুব ভোরে বা অতিরিক্ত ঠান্ডার সময় গোসল করতে গিয়ে অস্বস্তি হলে দিনের উষ্ণ সময় বেছে নেওয়া যেতে পারে।

গোসলের ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকা প্রয়োজন। তবে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শরীরে লাগছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। গোসল শেষে দ্রুত শুকনো ও আরামদায়ক পোশাক পরে নেওয়া ভালো।

শিশু ও বয়স্কদের গোসলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শীতকালে গোসলের সময় বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। শিশুদের ত্বক তুলনামূলক সংবেদনশীল হওয়ায় অতিরিক্ত গরম পানি ও কড়া সাবান ব্যবহার করা উচিত নয়। গোসলের সময় পানির তাপমাত্রা আগে পরীক্ষা করে নিতে হবে।

বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করা বা খুব গরম পানিতে গোসল করা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। যাঁদের চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বাথরুমে পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে মেঝে শুকনো রাখা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা জরুরি।

যাঁদের ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা কী করবেন?

একজিমা, অতিরিক্ত শুষ্ক ত্বক বা চুলকানির সমস্যা থাকলে শীতকালে গোসলের অভ্যাসে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। খুব গরম পানি, সুগন্ধিযুক্ত সাবান এবং ত্বক ঘষে পরিষ্কার করার অভ্যাস এসব সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ ধরনের সমস্যা থাকলে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার, অল্প সময় গোসল এবং নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস উপকারী হতে পারে। ত্বকে দীর্ঘদিন চুলকানি, লালচে ভাব, ফাটল বা ক্ষত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শীতকালে সুস্থ থাকতে গোসল বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, গোসলের সময় কমানো এবং পরে ত্বকের যত্ন নেওয়ার মতো ছোট অভ্যাসই ত্বককে শুষ্কতা ও অস্বস্তি থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: শীতকালে গোসলের জন্য কেমন পানি ব্যবহার করা ভালো?

উত্তর: খুব গরম পানির পরিবর্তে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। এতে গোসলের সময় আরাম পাওয়া যায় এবং ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতা এড়ানো সহজ হয়।

প্রশ্ন: শীতকালে কতক্ষণ গোসল করা উচিত?

উত্তর: সাধারণভাবে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের মধ্যে গোসল শেষ করার চেষ্টা করা ভালো। দীর্ঘ সময় গরম পানিতে থাকলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে।

প্রশ্ন: গোসলের পর কখন ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে?

উত্তর: গোসল শেষে শরীর আলতোভাবে মুছে ত্বক সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো।

প্রশ্ন: শীতকালে প্রতিদিন গোসল করা কি প্রয়োজন?

উত্তর: গোসলের প্রয়োজন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, ঘাম, কাজকর্ম ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। প্রতিদিন গোসল করলেও কুসুম গরম পানি ও মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো।

প্রশ্ন: শীতকালে গরম পানিতে গোসল করলে কি ত্বকের ক্ষতি হয়?

উত্তর: অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা, চুলকানি ও জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে। তাই আরামদায়ক কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা উচিত।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ