ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিটামিন ডি কমে গেলে শরীরে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৩ ১৯:২৫:১৪
ভিটামিন ডি কমে গেলে শরীরে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলেও অনেক সময় আলাদা করে বোঝার মতো কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। বরং দিনের পর দিন ক্লান্তি, হাড় বা শরীরে ব্যথা এবং পেশিতে শক্তি কমে যাওয়ার মতো সাধারণ সমস্যার মধ্য দিয়ে এর ইঙ্গিত মিলতে পারে। আবার একই ধরনের উপসর্গ অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে বিষয়টি দীর্ঘদিন অবহেলা করারও কারণ নেই। হাড় ও পেশির সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার মাধ্যমে এটি শক্তিশালী হাড় ও দাঁত তৈরিতে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ সময় ঘাটতি থাকলে শিশুদের রিকেটস এবং প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওম্যালেশিয়ার মতো হাড়ের সমস্যা হতে পারে।

দৈনন্দিন চলাফেরায় পরিবর্তন হলে খেয়াল করুন

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির একটি সম্ভাব্য প্রকাশ হতে পারে পেশির দুর্বলতা। আগে যে কাজগুলো সহজেই করা যেত, সেগুলো করতে গিয়ে হঠাৎ বেশি পরিশ্রম লাগছে কি না, সেটি খেয়াল করার বিষয়।

সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা, বসা অবস্থান থেকে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ানো কিংবা স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সময় আগের তুলনায় বেশি অসুবিধা হওয়া—এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে পেশির দুর্বলতার কারণে।

এর পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের ব্যথাও একটি লক্ষণ হতে পারে। পিঠ, কোমর, পা বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘাটতি গুরুতর হলে হাড় দুর্বল হয়ে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

শুধু ক্লান্তি মানেই ভিটামিন ডি কম নয়

অনেকের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সঙ্গে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শরীর খারাপ লাগার অনুভূতি থাকতে পারে। কিন্তু এই উপসর্গকে এককভাবে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির পরিচায়ক বলা যায় না।

কারণ ঘুমের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা কিংবা অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন ক্লান্ত লাগলেই ভিটামিন ডি কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ আলাদা হতে পারে

শিশুদের শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ডি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর ঘাটতি হলে রিকেটস দেখা দিতে পারে। এ সমস্যায় হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক হাড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

এ সময় পা বাঁকা হয়ে যাওয়া, হাড়ে ব্যথা, হাঁটতে অনীহা অথবা দেরিতে হাঁটার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

কারা ঘাটতির ঝুঁকিতে

সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির একটি উৎস। তাই নিয়মিত সূর্যের আলোতে না থাকা মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির পরিমাণ কম হতে পারে।

এ ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তি, শরীরের অধিকাংশ অংশ পোশাকে ঢেকে রাখেন এমন মানুষ এবং গাঢ় ত্বকের ব্যক্তিদের সূর্যের আলো থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি তৈরিতে সমস্যা হতে পারে।

স্থূলতার ক্ষেত্রেও ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। একইভাবে শরীরে চর্বি শোষণে সমস্যা সৃষ্টি করে এমন কিছু রোগ থাকলেও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সম্ভাবনা বাড়ে।

রক্ত পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া যায় না

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির বিষয়টি কেবল লক্ষণ মিলিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন হাড়ে ব্যথা, পেশির দুর্বলতা বা এ ধরনের অন্যান্য সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে ভিটামিন ডি-এর অবস্থা নির্ণয় করা হয়। সাধারণত ২৫-হাইড্রক্সিভিটামিন ডি [২৫(ওএইচ)ডি]-এর মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।

তাই উপসর্গ দেখে নিজে থেকেই ভিটামিন ডি-এর ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানো উচিত।

কোথা থেকে পাওয়া যায় ভিটামিন ডি

শরীর সূর্যের আলোতে থাকা অতিবেগুনি রশ্মি বা ইউভিবির সংস্পর্শে নিজে ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি খাদ্য থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া সম্ভব।

চর্বিযুক্ত মাছ, ডিমের কুসুম এবং ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ কিছু খাবার এর উৎস। তবে সবার ক্ষেত্রে একই সময় ধরে রোদে থাকলেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি হবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।

কারণ ত্বকের ধরন, বয়স, পোশাক এবং সূর্যের আলোতে থাকার পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর শরীরে ভিটামিন ডি তৈরির পরিমাণ নির্ভর করে।

ঘাটতি থাকলে সাপ্লিমেন্ট লাগতে পারে, তবে ইচ্ছেমতো নয়

পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থাকলে সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বেশি উপকার পাওয়ার আশায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করা নিরাপদ নয়।

অতিরিক্ত ভিটামিন ডি শরীরে রক্তের ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে বমি, দুর্বলতা, অতিরিক্ত পিপাসা এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির ক্ষতিও হতে পারে।

লক্ষণ থাকলে কী করবেন

হাড়ে ব্যথা, পেশির দুর্বলতা, ক্লান্তি বা শরীর খারাপ লাগার মতো সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে সেটিকে একেবারে উপেক্ষা করা উচিত নয়। আবার এসব লক্ষণকে সরাসরি ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বলেও ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

কারণ একই উপসর্গের পেছনে ঘুমের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, রক্তস্বল্পতা কিংবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে। তাই সমস্যা স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানোই নিরাপদ পদ্ধতি।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: