ঘুমের ঘরে এসব থাকলে বাড়তে পারে অস্বস্তি, জানুন কারণ
রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও যদি ঘুম আসতে দেরি হয়, বারবার ঘুম ভেঙে যায় বা সকালে উঠে মনে হয় বিশ্রাম ঠিকমতো হয়নি, তাহলে শুধু ঘুমের সময় নয়—শোবার ঘরের পরিবেশও খেয়াল করা দরকার। অতিরিক্ত আলো, শব্দ, অস্বস্তিকর তাপমাত্রা, বিছানার অস্বস্তি কিংবা ঘুমের সময় ফোনের নোটিফিকেশন—এসব বিষয় ঘুমের স্বাভাবিক ধারায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
বিশেষ করে ঘুমের ঘরকে বিশ্রামের জায়গা হিসেবে তৈরি না করে সেখানে টেলিভিশন, কাজের পরিবেশ বা অতিরিক্ত আলো-শব্দের ব্যবস্থা থাকলে রাতে শরীর ও মস্তিষ্ককে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করা কঠিন হতে পারে। তাই ভালো ঘুমের জন্য ঘরে কী আছে, তার পাশাপাশি কোন বিষয়গুলো ঘুমের সময় বিরক্তি তৈরি করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমের ঘরে অতিরিক্ত আলো
ঘুমানোর সময় ঘরে উজ্জ্বল আলো বা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের আলো থাকলে তা ঘুমের পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ফোন, টেলিভিশন, কম্পিউটার বা অন্যান্য আলোকিত স্ক্রিন থেকে আসা আলো ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
NIH-এর পরামর্শ অনুযায়ী, ঘুমের জায়গা যতটা সম্ভব অন্ধকার, শান্ত ও ঠান্ডা রাখা ভালো। প্রয়োজন হলে জানালার বাইরের আলো আটকাতে পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে।
তবে সবার জন্য পুরোপুরি অন্ধকারে ঘুমানো বাধ্যতামূলক নয়। প্রয়োজন হলে খুব মৃদু আলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস
বিছানার পাশে ফোন রাখা নিজে থেকেই সবার ঘুম নষ্ট করবে—এমন কথা বলা ঠিক নয়। তবে ফোনের স্ক্রিনের আলো এবং বিশেষ করে কল, মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন ঘুমের সময় বিরক্ত করতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ বা ফোনকে এমনভাবে রাখা ভালো, যাতে ঘুমের মধ্যে বারবার শব্দ বা আলো দিয়ে জাগিয়ে না দেয়।
CDC ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়।
বাইরের শব্দ বা ঘরের ভেতরের কোলাহল
গাড়ির শব্দ, মানুষের কথাবার্তা, টেলিভিশন, পোষা প্রাণীর আওয়াজ কিংবা ফোনের রিং—যেকোনো বিরক্তিকর শব্দ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। শব্দ শুধু ঘুমাতে যাওয়ার সময়ই সমস্যা তৈরি করে না; ঘুমের মধ্যেও বারবার জাগিয়ে দিতে পারে বা ঘুমকে হালকা করে দিতে পারে।
এ কারণে সম্ভব হলে শোবার ঘরকে শান্ত রাখা উচিত। বাইরের শব্দ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কানের প্লাগ বা অন্য শব্দ-নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।
খুব গরম বা খুব ঠান্ডা ঘর
ঘরের তাপমাত্রাও আরামদায়ক ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ ঘুমের স্বাভাবিক ধারায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। গবেষণাভিত্তিক স্বাস্থ্য নির্দেশনায় সাধারণত শোবার ঘরকে আরামদায়ক ও তুলনামূলক ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে সবার আরামদায়ক তাপমাত্রা এক নয়। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শরীর অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা অনুভব না করে।
অস্বস্তিকর গদি ও বালিশ
ঘরের পরিবেশ ঠিক থাকলেও বিছানা যদি শরীরের জন্য আরামদায়ক না হয়, তাহলে ঘুমে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত গদি, অতিরিক্ত শক্ত বা নরম বালিশ কিংবা নিজের ঘুমের অবস্থানের সঙ্গে মানানসই নয় এমন বিছানাপত্র আরামের পথে বাধা হতে পারে।
গদিতে দেবে যাওয়া অংশ, অস্বাভাবিক শব্দ বা সকালে ঘুম থেকে উঠে নিয়মিত শরীরে শক্তভাব অনুভূত হলে বিছানার আরাম ও উপযোগিতা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে। একইভাবে বালিশও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি।
ধুলা ও অ্যালার্জেন জমে থাকা
শোবার ঘরে ধুলা জমে থাকলেও অস্বস্তি বাড়তে পারে। বিশেষ করে গদি, বালিশ ও বিছানাপত্র নিয়মিত পরিষ্কার না রাখলে ধুলার মাইটসহ বিভিন্ন অ্যালার্জেনের উপস্থিতি বাড়তে পারে। ঘর ও বিছানাপত্র পরিষ্কার রাখা তাই ঘুমের পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে কারও অ্যালার্জি আছে কি না, তার ওপর এ ধরনের সমস্যার প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
অতিরিক্ত জিনিসপত্র ও অগোছালো পরিবেশ
শোবার ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ভিড় থাকলে জায়গাটি বিশ্রামের বদলে কাজ বা ব্যস্ততার পরিবেশের মতো মনে হতে পারে। সাম্প্রতিক ঘুম-পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শে ঘরকে তুলনামূলক গোছানো, শান্ত এবং আরামদায়ক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন? সকাল নাকি রাত, জানুন
প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে কী পরিবর্তন আসে, কতটি খাওয়া ঠিক?
খাবারের পর চা পান করলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে? জানুন সঠিক সময়
তাই ঘুমের জায়গায় প্রয়োজনীয় জিনিস রেখে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখা অনেকের জন্য আরও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
শোবার ঘরকে কাজের জায়গা বানানো
বিছানায় বসে নিয়মিত কাজ করা, টেলিভিশন দেখা বা দীর্ঘ সময় অন্যান্য ব্যস্ততার মধ্যে থাকা ঘুমের সঙ্গে শোবার ঘরের স্বাভাবিক সম্পর্ককে দুর্বল করতে পারে। CDC-এর ঘুমবিষয়ক নির্দেশনায় ঘুমের জায়গাকে মূলত ঘুম ও বিশ্রামের সঙ্গে যুক্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ঘুমের আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করলে আলো এবং ব্যবহারের বিষয়বস্তু—দুই দিক থেকেই ঘুমের প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে। জাতীয় ঘুম ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞদের একটি ঐকমত্যভিত্তিক পর্যালোচনাতেও স্ক্রিন ব্যবহারের ঘুমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
কেমন হওয়া উচিত ঘুমের ঘর?
ভালো ঘুমের জন্য ঘরকে জটিলভাবে সাজানোর প্রয়োজন নেই। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শান্ত, অন্ধকার, আরামদায়ক ও তুলনামূলক ঠান্ডা পরিবেশ তৈরি করা।
ঘুমানোর আগে অপ্রয়োজনীয় আলো ও শব্দ কমানো, ফোনের বিরক্তিকর নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, আরামদায়ক গদি-বালিশ ব্যবহার করা এবং ঘর পরিষ্কার রাখা—এসব ছোট পরিবর্তন ঘুমের পরিবেশকে আরও উপযোগী করে তুলতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ঘুমাতে সমস্যা হলে শুধু ঘরের পরিবেশ পরিবর্তন করেই বিষয়টি সমাধান হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়মিত ঘুমের সমস্যা থাকলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন হতে পারে।
FAQ
প্রশ্ন: ঘুমের ঘরে আলো থাকলে কি ঘুমের সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: উজ্জ্বল আলো এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসের আলো ঘুম-জাগরণের স্বাভাবিক চক্রে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমের সময় ঘর যতটা সম্ভব অন্ধকার রাখা ভালো।
প্রশ্ন: ঘুমানোর ঘরের তাপমাত্রা কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: ঘর খুব গরম বা খুব ঠান্ডা না রেখে আরামদায়ক ও তুলনামূলক ঠান্ডা রাখা ভালো। ব্যক্তিভেদে আরামদায়ক তাপমাত্রা আলাদা হতে পারে।
প্রশ্ন: ঘুমের সময় ফোন পাশে রাখা কি সমস্যা?
উত্তর: ফোনের আলো এবং কল বা নোটিফিকেশনের শব্দ ঘুমে বিরক্তি তৈরি করতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা এবং ঘুমের আগে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার কমানো ভালো।
প্রশ্ন: অগোছালো বা ধুলোময় ঘর কি ঘুমের অস্বস্তি বাড়াতে পারে?
উত্তর: অগোছালো পরিবেশ স্বস্তি কমাতে পারে এবং ধুলা ও অ্যালার্জেন কিছু মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিয়মিত ঘর ও বিছানাপত্র পরিষ্কার রাখা উপকারী।
প্রশ্ন: ঘুমের ঘর কেমন রাখা সবচেয়ে ভালো?
উত্তর: সাধারণভাবে শান্ত, অন্ধকার, আরামদায়ক ও তুলনামূলক ঠান্ডা পরিবেশ ঘুমের জন্য উপযোগী।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজ ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া: কখন, কোথায় ও কীভাবে লাইভ দেখবেন
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- কলা খাওয়ার সঠিক সময় কখন? সকাল নাকি রাত, জানুন
- ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- চলছে বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ: সরাসরি দেখুন Live
- HONOR X9e Pro: ১১,০০০mAh ব্যাটারি ও ১০,০০০ নিটস ডিসপ্লে
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর: শেষ হাসি হাসল কোন দল?
- বাংলাদেশ বনাম সিঙ্গাপুর ম্যাচ আজ, সময় ও লাইভ দেখার উপায়
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ১৯টি দেশের টাকার মান