ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ১১ ২০:৫৬:২৭
গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করার দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ

গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকার মধ্যে রাখার দাবিতে সরকারকে আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে আমদানি নীতিতে পরিবর্তন এনে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল মাংস আমদানির সুযোগ চালু করার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। একই সঙ্গে আমদানি শুল্ক যৌক্তিক পর্যায়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার কথা জানানো হয়েছে আইনি নোটিশে।

রোববার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি সংস্থার ছয় কর্মকর্তাকে এর প্রাপক করা হয়েছে।

উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে বাধা

দেশের বাজারে গরুর মাংসের বর্তমান মূল্য নিয়ে আপত্তি তুলে নোটিশে বলা হয়েছে, প্রতি কেজি মাংস কিনতে এখন ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এই দামে পণ্যটি কেনা দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য কঠিন। নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্যও গরুর মাংস কেনার সামর্থ্য ধরে রাখা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

নোটিশে বিষয়টিকে শুধু পণ্যের দামসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখা হয়নি; পুষ্টির চাহিদা পূরণের সঙ্গেও এর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় প্রাণিজ আমিষের জোগান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদেশ থেকে কম খরচে মাংস আনার যুক্তি

গরুর মাংসের দাম কমানোর সম্ভাব্য উপায় ব্যাখ্যা করতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছে আইনি নোটিশে। এতে বলা হয়েছে, যে দেশে কোনো পণ্য উৎপাদনের খরচ তুলনামূলক কম, সেখান থেকে সেটি আমদানি করা গেলে ক্রেতাদের কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রসঙ্গ টেনে নোটিশে এই যুক্তি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশের তৈরি পোশাক খাত যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে নিজস্ব সুবিধা কাজে লাগায়, তেমনি বিদেশ থেকে কম ব্যয়ে উৎপাদিত গরুর মাংস আমদানির সুযোগ থাকলে বাংলাদেশের বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের তুলনায় অন্য দেশে উৎপাদন ব্যয় কম হওয়ার কারণ

নোটিশে বাংলাদেশের গরুর মাংস উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ার পেছনে কয়েকটি সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত চারণভূমির অভাব, পশুখাদ্যের উচ্চ দাম এবং গবাদিপশু লালন-পালনে বেশি ব্যয়।

অন্যদিকে, বিশ্বের কয়েকটি দেশে বড় আকারের চারণভূমি রয়েছে এবং ব্যাপক পরিসরে গবাদিপশু পালনের ব্যবস্থা আছে। এসব সুবিধার কারণে সেখানে তুলনামূলক কম খরচে মাংস উৎপাদন করা সম্ভব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে বিদেশ থেকে মাংস আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে উপস্থাপিত যুক্তি অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দেশের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

খাদ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে সংবিধানের উল্লেখ

দাবির পক্ষে আইনি নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মানুষের জীবনধারণের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি এতে গুরুত্ব পেয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টির মান উন্নত করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়। এই দায়িত্বের বিষয়টি সামনে রেখেই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে গরুর মাংসের দাম রাখার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

আইনি নোটিশে সরকারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। প্রথমত, জীবিত গরু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি আমদানি শুল্ক যৌক্তিক করতে হবে। তৃতীয়ত, প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. গরুর মাংসের দাম ২৫০ টাকা করার দাবি জানিয়ে কে আইনি নোটিশ দিয়েছেন?

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন রোববার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে নোটিশটি পাঠান।

২. আইনি নোটিশে বর্তমান গরুর মাংসের দাম কত বলা হয়েছে?

নোটিশে প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

৩. গরুর মাংসের দাম কমাতে কী কী পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে?

জীবিত গরু ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আমদানি শুল্ক যৌক্তিকীকরণ এবং প্রতি কেজির দাম ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে।

৪. সরকারকে কত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে?

আইনি নোটিশে সরকারকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

৫. সরকার ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

নির্ধারিত সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ