দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসা করতে কত টাকা লাগে, জানুন খরচ
দুবাইয়ে কর্মরত বাংলাদেশিরা স্ত্রী-সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিজের কাছে নিতে চাইলে ফ্যামিলি রেসিডেন্স ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এ ভিসা করতে কত টাকা লাগবে, তা নির্ভর করে পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা, তাঁরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে নাকি ভেতরে আছেন, ভিসার মেয়াদ এবং মেডিকেল পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিমার মতো অতিরিক্ত খরচের ওপর। ফলে একজনের ফ্যামিলি ভিসার মোট খরচের সঙ্গে অন্য পরিবারের ব্যয়ের পার্থক্য থাকতে পারে।
দুবাইয়ের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, পরিবারের সদস্য দেশটির বাইরে থাকলে এবং ভেতরে অবস্থান করলে এন্ট্রি পারমিটের খরচে পার্থক্য হতে পারে। এ ছাড়া এন্ট্রি পারমিট পাওয়ার পর আবাসিক ভিসা, এমিরেটস আইডি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়। তাই শুধু ভিসার আবেদন ফি হিসাব করে পুরো খরচ নির্ধারণ করা ঠিক নয়।
দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসার খরচ কত?
দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব রেসিডেন্সি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (GDRFA Dubai) পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন অভিবাসন সেবা দিয়ে থাকে। সংস্থাটির প্রকাশিত সেবাতথ্যে নির্দিষ্ট কিছু আবেদন ও ভিসা প্রক্রিয়ার জন্য আলাদা ফি উল্লেখ রয়েছে।
GDRFA-এর একটি এন্ট্রি পারমিট-সংক্রান্ত নির্দেশনায় পরিবারের স্পনসরকৃত ব্যক্তি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভেতরে থাকলে ১ হাজার ৩৫ দিরহাম এবং দেশের বাইরে থাকলে ৩৬৫ দিরহাম ফি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অঙ্ককে সব ধরনের ফ্যামিলি রেসিডেন্স ভিসার সম্পূর্ণ খরচ বলা যাবে না। কারণ এটি নির্দিষ্ট সেবার ফি; পরবর্তী আবাসিক ভিসা, এমিরেটস আইডি, মেডিকেল পরীক্ষা ও বিমার খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত কি না, তা সংশ্লিষ্ট সেবার শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে।
অন্যদিকে, GDRFA-এর পরিবারকে স্পনসর করে কর্মসংস্থান ছাড়াই প্রবেশের ভিসা-সংক্রান্ত সেবায় ২০০ দিরহাম ভিসা ফি, এর ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং দেশের ভেতরে থাকা আবেদনকারীর জন্য অতিরিক্ত চার্জের কথা বলা হয়েছে। এই ফি-তালিকাটি নির্দিষ্ট সেবার জন্য প্রযোজ্য। তাই দুটি আলাদা সেবার ফি একসঙ্গে যোগ করে বা যেকোনো একটিকে সবার জন্য প্রযোজ্য ধরে মোট খরচ বলা ঠিক হবে না।
ফ্যামিলি ভিসার মোট খরচ যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে
দুবাইয়ে পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের জন্য ভিসা করাতে সাধারণত কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়। এসব ধাপে আলাদা খরচ যুক্ত হতে পারে।
১. এন্ট্রি পারমিট: পরিবারের সদস্যকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য এন্ট্রি পারমিটের আবেদন করতে হয়। আবেদনকারী দেশের বাইরে নাকি ভেতরে রয়েছেন, তার ভিত্তিতে ফি পরিবর্তিত হতে পারে।
২. রেসিডেন্স ভিসা: এন্ট্রি পারমিটের পর নির্ধারিত নিয়মে আবাসিক ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ভিসার ধরন ও মেয়াদ অনুযায়ী খরচ ভিন্ন হতে পারে।
৩. মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা: ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীদের অনুমোদিত কেন্দ্রে মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা করাতে হয়। এর জন্য আলাদা ফি দিতে হয়।
৪. এমিরেটস আইডি: পরিবারের প্রত্যেক যোগ্য সদস্যের জন্য এমিরেটস আইডির আবেদন করতে হয়। আইডির মেয়াদ ও সংশ্লিষ্ট সেবার ভিত্তিতে ফি নির্ধারিত হয়।
৫. স্বাস্থ্যবিমা: দুবাইয়ে বসবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য স্বাস্থ্যবিমার শর্ত পূরণ করতে হয়। পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা, বয়স, বিমার পরিকল্পনা ও কভারেজ অনুযায়ী খরচে পার্থক্য হতে পারে।
৬. অন্যান্য ব্যয়: নথি অনুবাদ, সত্যায়ন, আবেদনকেন্দ্রের সার্ভিস চার্জ বা ডেলিভারির মতো খরচও পরিস্থিতি অনুযায়ী যুক্ত হতে পারে।
এ কারণে দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসার জন্য নির্দিষ্ট একটি অঙ্ককে সবার মোট খরচ হিসেবে প্রকাশ করার আগে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর পরিস্থিতি এবং সরকারি ফি-তালিকা যাচাই করা জরুরি।
দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসা করতে বেতন কত হতে হয়?
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বৈধ রেসিডেন্স ভিসাধারী প্রবাসীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের স্পনসর করতে পারেন। সাধারণ নিয়মে স্পনসরের মাসিক বেতন কমপক্ষে ৪ হাজার দিরহাম হতে হয়। বিকল্প হিসেবে ৩ হাজার দিরহাম বেতনের সঙ্গে আবাসনের সুবিধা থাকলেও যোগ্যতা পূরণ হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে শুধু বেতন থাকলেই আবেদন অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। স্পনসরের বৈধ রেসিডেন্স ভিসা, আবাসনের প্রমাণ, পারিবারিক সম্পর্কের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়।
স্ত্রী ও সন্তানকে দুবাইয়ে নিতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
ফ্যামিলি রেসিডেন্স ভিসার আবেদনে সাধারণত স্পনসর ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় এবং পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ জমা দিতে হয়। প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে থাকতে পারে—
স্পনসরের বৈধ পাসপোর্ট, রেসিডেন্স ভিসা ও এমিরেটস আইডি।
স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের বৈধ পাসপোর্টের কপি।
আবেদনকারীর সাম্প্রতিক ছবি।
স্ত্রীকে স্পনসর করার ক্ষেত্রে সত্যায়িত বিবাহের সনদ, প্রয়োজন অনুযায়ী আরবি অনুবাদসহ।
সন্তানদের ক্ষেত্রে সত্যায়িত জন্মনিবন্ধন বা জন্মসনদ।
স্পনসরের চাকরির চুক্তি বা বেতন সনদ।
বাসস্থানের প্রমাণ বা সত্যায়িত ভাড়ার চুক্তি।
প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের মেডিকেল ফিটনেস সনদ।
প্রযোজ্য স্বাস্থ্যবিমার নথি।
কর্তৃপক্ষ, আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও নথির ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে। তাই আবেদন করার আগে GDRFA Dubai বা অনুমোদিত Amer সেন্টারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথির তালিকা যাচাই করা উচিত।
দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসা করার নিয়ম
দুবাইয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের রেসিডেন্স ভিসা করার প্রক্রিয়ায় প্রথমে এন্ট্রি পারমিটের আবেদন করতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা, রেসিডেন্স ভিসা এবং এমিরেটস আইডির আবেদন সম্পন্ন করতে হয়।
প্রক্রিয়াটি সহজ রাখতে স্পনসরের বৈধ ভিসা, বেতন ও বাসস্থানের প্রমাণ এবং পরিবারের সদস্যদের নথি আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা ভালো। আবেদন করার সময় ফি পরিশোধের আগে কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
দুবাইয়ের ফ্যামিলি ভিসা করতে গিয়ে যে ভুল এড়াবেন
অনেকেই শুধু এন্ট্রি পারমিটের ফি জেনে পুরো ভিসার খরচ হিসাব করেন। কিন্তু এন্ট্রি পারমিট ও রেসিডেন্স ভিসা এক বিষয় নয়। একইভাবে মেডিকেল পরীক্ষা, এমিরেটস আইডি এবং স্বাস্থ্যবিমার খরচও আলাদা হতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, অনলাইনে পাওয়া কোনো পুরোনো ফি-তালিকা বর্তমান আবেদনের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। ভিসার মেয়াদ, আবেদনকারীর অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট সেবার ধরন অনুযায়ী ফি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি পোর্টালে সর্বশেষ ফি যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসা করতে কত টাকা লাগে, তা নির্ধারণের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা, তাঁদের অবস্থান, ভিসার মেয়াদ এবং প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সেবার খরচ একসঙ্গে হিসাব করতে হবে। শুধু একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের ওপর নির্ভর না করে GDRFA Dubai-এর বর্তমান ফি ও শর্ত যাচাই করে আবেদন করলে অপ্রত্যাশিত খরচের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র: সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকারি পোর্টাল, দুবাইয়ের সরকারি পোর্টাল এবং General Directorate of Residency and Foreigners Affairs (GDRFA Dubai)।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসা করতে কত টাকা লাগে?
মোট খরচ নির্ভর করে আবেদনকারীর অবস্থান, ভিসার মেয়াদ, মেডিকেল পরীক্ষা, এমিরেটস আইডি ও স্বাস্থ্যবিমার ওপর। সরকারি ফি যাচাই করে সব খাতের ব্যয় যোগ করতে হবে।
২. দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসা করতে মাসিক বেতন কত লাগে?
সাধারণ নিয়মে স্পনসরের মাসিক বেতন কমপক্ষে ৪ হাজার দিরহাম অথবা ৩ হাজার দিরহামের সঙ্গে আবাসনের সুবিধা থাকতে হয়। অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।
৩. দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসা করতে কত দিন সময় লাগে?
সময় নির্ভর করে আবেদন, নথি যাচাই, অনুমোদন এবং মেডিকেল পরীক্ষার ওপর। তাই সব আবেদনকারীর জন্য নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করে বলা যায় না।
৪. দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসার জন্য মেডিকেল পরীক্ষা লাগে কি?
হ্যাঁ। সাধারণ নিয়মে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী আবেদনকারীদের অনুমোদিত কেন্দ্রে মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা করাতে হয়।
৫. দুবাইয়ে ফ্যামিলি ভিসার আবেদন কোথায় করতে হয়?
দুবাইয়ের সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ GDRFA Dubai-এর অনলাইন সেবা অথবা অনুমোদিত Amer সেন্টারের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। আবেদনের আগে সর্বশেষ ফি ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা উচিত।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- সব ওয়ারিশের নাম খতিয়ানে নেই? জমির কী হবে জানুন
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ১টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- নতুন Pulsar N250: ৫টি রাইডিং মোড ও ৬-স্পিড গিয়ার
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- iQOO Neo 12: ৯০০০mAh ব্যাটারি ও ১৮৫Hz ডিসপ্লে
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৪টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- পুরনো জমির মালিক কে ছিলেন? জানুন তথ্য বের করার উপায়
- আজকের টাকার রেট কত: কমেছে ১৫টি দেশের টাকার বিনিময় হার