ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাতিল, এবার কী হবে মহাসড়কে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৯:২০:২৯
গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাতিল, এবার কী হবে মহাসড়কে

যে প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার যাত্রীর দ্রুত যাতায়াতের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, সেই বাস র‍্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) বাসই শেষ পর্যন্ত চালু হয়নি। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কে ১৪ বছর ধরে নির্মাণকাজ চলেছে, ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। অথচ যানজট কমার পরিবর্তে সড়ক সংকুচিত হওয়া, অসমাপ্ত স্থাপনা ও নির্মাণজনিত জটিলতায় যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিআরটি প্রকল্প বাদ দিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোকে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত রোববার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক পত্রে সিদ্ধান্তগুলো জানানো হয়। নতুন পরিকল্পনায় বিআরটি স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে সড়কটিকে তিন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি দুই লেনের উড়ালসড়ককে চার লেনে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকল্পটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এর পরিচালনাব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসছে। বিআরটি পরিচালনার জন্য গঠিত ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি বিলুপ্ত করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীনে নেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। উন্নয়নসহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত জটিলতা দূর করা এবং প্রকল্প বন্ধের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।

ব্যয় ও মেয়াদ বাড়লেও আসেনি বিশেষ বাস

২০১২ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের শিববাড়ী পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরের ১৫ দশমিক শূন্য ৭ কিলোমিটার সড়কপথ এবং বাকি অংশ উড়ালপথ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

মূল সড়কের মাঝখানে পৃথক দুটি লেনে বিশেষ বাস চালানোর কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাসগুলোকে সাধারণ যানবাহনের যানজট কিংবা ট্রাফিক সিগন্যালে আটকে থাকতে হতো না। এতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার যাত্রী চলাচলের সুযোগ পেতেন বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।

কিন্তু পরিকল্পিত সেবার পরিবর্তে প্রকল্পটির দীর্ঘ নির্মাণকালই যাত্রীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে কাজ শেষ করে ২০১৭ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় দরজার বিশেষ বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

তিন দফা সংশোধনের পর প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা হয়। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে চতুর্থবারের মতো সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হলে ব্যয় বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত করার কথা বলা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি। পরিবর্তে প্রকল্পটির বিকল্প নির্ধারণ এবং নকশাগত ত্রুটির জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রকল্প বাঁচানোর চারটি পথ, বেছে নেওয়া হলো বাতিলের সিদ্ধান্ত

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিআরটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চারটি সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল প্রকল্প বাতিল করা, বাকি কাজ শেষ করে বিশেষ বাস চালু করা, বিদ্যমান অবকাঠামো রেখে বিশেষ ও বেসরকারি বাস একসঙ্গে চলতে দেওয়া এবং বিআরটি পথ টোলের আওতায় এনে পরিচালনা করা।

শেষ পর্যন্ত সরকার প্রকল্পটি বাতিল করে সাধারণ মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের পথ বেছে নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সড়কের মাঝখানে নির্মিত স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করতে হবে। ভবিষ্যতে উড়ালপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকার দাবি তুলে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করছে গাজীপুর ঐতিহ্য ও উন্নয়ন নামের একটি সংগঠন। বিআরটি সম্পন্ন করে বিশেষ বাস চালুর দাবিতে সংগঠনটি একাধিক সংবাদ সম্মেলন করেছে এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি মো. শামসুল হক মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ১৪ বছর ধরে গাজীপুরের মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রকল্পের কাজ ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পর এটি বাতিল করা উচিত নয়। সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা চিঠি দেবেন বলেও জানান তিনি।

যাত্রীসেবার পরিকল্পনায় ছিল বড় অসংগতি

বিআরটি প্রকল্পের কারিগরি দিক বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল এটি বাতিলের সুপারিশ করেছে। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক। গত বছরের অক্টোবর মাসে তাঁরা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের গঠিত দুটি কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞ দলটি বিদ্যমান অবকাঠামোকে উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। প্রতিবেদনে প্রকল্পটিকে দেশের অবকাঠামো পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘পদ্ধতিগত ব্যর্থতার’ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে, পর্যাপ্ত কারিগরি যাচাই না করা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং জবাবদিহির অভাব প্রকল্পটির সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। পরিকল্পনা ও নকশায় ত্রুটি থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রকল্পটির নকশা ও বাংলাদেশের প্রচলিত বাসের কাঠামোর মধ্যেও বড় অসামঞ্জস্য রয়েছে। দেশের বাসগুলোর দরজা বাঁ দিকে হলেও বিআরটি স্টেশনগুলো তৈরি করা হয়েছে ডান দিকে দরজাবিশিষ্ট বাসের উপযোগী করে। বিশ্বব্যাপী বিআরটি ব্যবস্থায় ডান দিকে দরজা থাকা প্রচলিত। ফলে এ ধরনের বাস চালু করলেও সেগুলো গাজীপুর-বিমানবন্দর করিডরের বাইরে চলাচল করতে পারত না।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উত্তরা থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত আরেকটি বিআরটি পথ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গাজীপুর-বিমানবন্দর অংশ সময়মতো চালু না হওয়ায় দ্বিতীয় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। এতে গাজীপুরের বিআরটি করিডরের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

গাজীপুরের মানুষের জন্য কমলাপুর পর্যন্ত ট্রেনের প্রস্তাব

প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তকে সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো বলে মনে করেন বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক সামছুল হক। তবে তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর গাজীপুরের বাসিন্দা ও এই পথে যাতায়াতকারীদের জন্য বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রথম আলোকে তিনি বলেন, বিআরটি বাস চালু হলেও গাজীপুরের যাত্রীরা কেবল বিমানবন্দর পর্যন্ত আসতে পারতেন। এরপর তাঁদের অন্য বাসে উঠতে হতো। অর্থাৎ, যাত্রাপথে আবার যানবাহন বদলানোর প্রয়োজন থাকত, যা বাস্তবসম্মত সমাধান নয়।

সামছুল হকের মতে, বিআরটি অবকাঠামোকে উন্নত ও উচ্চগতির মহাসড়কে রূপান্তর করা হলে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে যাতায়াতকারীরা সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি গাজীপুর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ, রেলের তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

১৫টি স্টেশন, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয় একটিও

বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কের মাঝখানে ১৫টি স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কোনো স্টেশনের কাজই পুরোপুরি শেষ হয়নি। যাত্রীদের ওঠানামার সুবিধার্থে কয়েকটি পদচারী-সেতুতে লিফট ও চলন্ত সিঁড়ি বসানো হলেও সেগুলোর অনেকগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। কোথাও যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরেছে, কোথাও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিআরটি বাসের জন্য আলাদা লেন তৈরির উদ্দেশ্যে সড়কের মাঝখানে সিমেন্টের প্রতিবন্ধক ও কিছু জায়গায় লোহার বেড়া বসানো হয়। এতে সাধারণ যানবাহনের চলাচলের জায়গা কমে যায়। কোথাও উড়ালসড়ক, কোথাও সমতল সড়ক, আবার কোথাও সরু লেন থাকায় যানবাহন চলাচল জটিল হয়ে পড়ে।

টঙ্গীর আবদুল্লাহপুর চৌরাস্তায় এসব স্থাপনার প্রভাব স্পষ্ট। সেখানে অসমাপ্ত সরু লেন দিয়ে যাত্রীদের চলাচল করতে হচ্ছে, অন্যদিকে উড়ালসড়কে যানজট লেগেই থাকছে।

প্রকল্পটি বাতিলের পর স্টেশনগুলো অপসারণ করতে হবে। সওজের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিফটসহ কিছু যন্ত্রপাতি অন্য জায়গায় কাজে লাগানো হতে পারে।

এই মহাসড়ক দিয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, উত্তরবঙ্গ ও টাঙ্গাইলের মানুষ যাতায়াত করেন। নির্মাণকাজ চলাকালে ক্রেনসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সাতজনের প্রাণহানিও হয়েছে।

সমীক্ষা ও নকশার ঘাটতি কীভাবে বাড়িয়েছে দুর্ভোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা ও নকশা শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। কাজ শুরু হওয়ার পর দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় যথাযথ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। ফলে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকত। সেবা সংস্থাগুলোর লাইন সরানোর পরিকল্পনা আগে থেকে না থাকায় নির্মাণকাজেও জটিলতা তৈরি হয়।

ব্যস্ত মহাসড়কে কাজ চলার সময় যানবাহন সচল রাখার জন্য কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থাও করা হয়নি। ফলে নির্মাণকাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হওয়া ও চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ার প্রভাব পড়েছে সাধারণ যাত্রীদের ওপর।

প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল তিনটি সরকারি সংস্থা—সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সেতু বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। পরে বিআরটি পরিচালনার জন্য ২০১৩ সালে ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি গঠন করা হয়।

বর্তমানে কোম্পানিটিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। বিশেষ বাস কেনা না হওয়ায় তাঁদের কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি বিলুপ্ত করে এর দায়িত্ব সওজের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তুতকারী, নকশা প্রণয়নকারী পরামর্শক এবং প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে অর্থায়নকারী সংস্থা, প্রকল্প পরিচালনা কমিটি, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এবং পরিকল্পনা কমিশনের ভূমিকা পর্যালোচনা করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রকল্প বন্ধ করতেও লাগতে পারে এক হাজার কোটি টাকার বেশি

বিআরটি বাতিলের সিদ্ধান্তের আর্থিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। গত বছর একটি সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি দিয়েছিল, অবকাঠামোগত কাজের মাত্র ৩ শতাংশ বাকি থাকায় প্রকল্পটি বাতিল না করাই ভালো।

বিআইপির হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প বন্ধের জন্য স্টেশন, র‍্যাম্প ও চলন্ত সিঁড়ি সরানো এবং ঠিকাদারদের ক্ষতিপূরণ দিতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যদিকে প্রকল্প চালু না হওয়ায় এর জন্য নির্মিত অবকাঠামোও প্রত্যাশিত যাত্রীসেবা দিতে পারেনি। এখন সরকার সেগুলো সরিয়ে মহাসড়ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যর্থতা, দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ এবং বাতিলের আর্থিক দায়—সব মিলিয়ে বিআরটি দেশের অবকাঠামো পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন সামনে এনেছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. গাজীপুর বিআরটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে?

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ১৪ বছর ধরে চললেও পরিকল্পিত বিশেষ বাস চালু হয়নি। নকশা ও পরিকল্পনার ত্রুটি, সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগের প্রেক্ষাপটে সরকার প্রকল্পটি বাতিল করে সড়ককে সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২. বিআরটি প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হয়েছে?

প্রকল্পটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। তিন দফা সংশোধনের পর ব্যয় দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।

৩. প্রকল্প বাতিল হলে সড়কে কী পরিবর্তন আনা হবে?

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিআরটি স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে সড়কটিকে তিন থেকে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। দুটি দুই লেনের উড়ালসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে।

৪. বিআরটি প্রকল্পের কাজ কবে শেষ হওয়ার কথা ছিল?

প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শেষ করে ২০১৭ সাল থেকে বিশেষ বাস চালুর কথা ছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের সংশোধনী প্রস্তাবে মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত করার কথা বলা হলেও একনেক তা অনুমোদন করেনি।

৫. গাজীপুরের মানুষের জন্য বিকল্প পরিবহন হিসেবে কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?

বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক সামছুল হক গাজীপুর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, রেলের তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকায় এ বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ