ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১১:৪২:১৩
একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে

একই জমির মালিকানা নিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে শুধু দলিল, খতিয়ান কিংবা নামজারির কাগজ দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। জমিটি প্রকৃতপক্ষে কার, তা বুঝতে হলে আগের মালিকানা থেকে বর্তমান দাবিদার পর্যন্ত জমির হস্তান্তরের ধারাবাহিকতা, মূল দলিলের সত্যতা, সরকারি ভূমি রেকর্ড, দাগ ও খতিয়ান নম্বর এবং জমির বাস্তব অবস্থান মিলিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসের নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি আদালতের মাধ্যমে মালিকানার বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হতে পারে।

বাংলাদেশে একই জমি একাধিকবার বিক্রি, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমির হিসাব নিয়ে বিরোধ, ভুল নামজারি কিংবা রেকর্ডের অসংগতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই জমি কেনা, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ভাগ নির্ধারণ কিংবা বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা প্রয়োজন।

একই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ কেন হয়?

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কোনো জমির প্রকৃত মালিক একই সম্পত্তি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করলে ক্রেতাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হতে পারে। আবার আগের মালিকের মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের মধ্যে সঠিকভাবে জমি বণ্টন না হওয়া, একই জমির অংশ নিয়ে একাধিক দাবি, জাল বা ত্রুটিপূর্ণ দলিল এবং পুরোনো রেকর্ডের সঙ্গে বর্তমান রেকর্ডের অমিল থেকেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কখনো জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ কিংবা সীমানা ঠিকভাবে না মেলায় একই জমিকে দুই ব্যক্তি নিজের সম্পত্তি বলে দাবি করেন। আবার কোনো ব্যক্তি দলিলের মাধ্যমে জমি কিনলেও যথাসময়ে নামজারি না করায় পরবর্তী সময়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নামজারি-সংক্রান্ত নির্দেশিকায়ও আগের রেকর্ড থেকে বর্তমান দাবিদারের মালিকানার ধারাবাহিকতা, মধ্যবর্তী হস্তান্তরের দলিল, দাবিকৃত জমির পরিমাণ ও হিস্যা এবং দখলের বিষয় যাচাই করার কথা বলা হয়েছে।

১. প্রথমে দুই পক্ষের দলিল যাচাই করুন

একই জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে প্রথমেই দুই পক্ষের দলিল সংগ্রহ করে তুলনা করা উচিত। শুধু দলিলের প্রথম পৃষ্ঠা বা মালিকের নাম দেখলে হবে না। দলিলের নম্বর, রেজিস্ট্রির তারিখ, সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, বিক্রেতা ও ক্রেতার পরিচয়, জমির পরিমাণ, মৌজা, দাগ নম্বর এবং সীমানা ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে।

বিশেষ করে দেখতে হবে, যিনি জমি বিক্রি করেছেন, তিনি ওই জমির বৈধ মালিক ছিলেন কি না। তাঁর কাছে জমিটি কীভাবে এসেছে, আগের মালিকের দলিল কী, উত্তরাধিকারসূত্রে পেলে ওয়ারিশদের হিসাব কী এবং পরবর্তী সময়ে জমিটি অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য ও সংরক্ষিত নথির সঙ্গে উপস্থাপিত দলিলের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। দলিলের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে কেবল ফটোকপি বা অনলাইন তথ্যের ওপর নির্ভর না করে আইনজীবীর সহায়তায় যথাযথভাবে যাচাই করা উচিত।

আরও পড়ুন:

জমির খাজনা বকেয়া আছে কি না, মোবাইলেই জানুন

জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি

দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়

নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ১৭ ধারায় নির্দিষ্ট ধরনের স্থাবর সম্পত্তিসংক্রান্ত দলিল নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। তবে কোনো দলিল নিবন্ধিত হলেই যে বিক্রেতার মালিকানা নিশ্চিতভাবে বৈধ ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বিক্রেতার স্বত্ব এবং দলিলের মাধ্যমে তিনি কতটুকু জমি হস্তান্তর করতে পেরেছেন, সেটিও যাচাই করতে হবে।

২. খতিয়ান ও দাগ নম্বর মিলিয়ে দেখুন

জমির মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে খতিয়ান ও দাগ নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খতিয়ানে জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক, জমির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট দাগের তথ্য থাকতে পারে। তবে বিভিন্ন জরিপে একই জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু একটি খতিয়ান দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা সর্বশেষ প্রাসঙ্গিক জরিপের রেকর্ড তুলনা করা প্রয়োজন।

যাচাইয়ের সময় দেখতে হবে—

- দুই পক্ষের দলিলে একই মৌজা ও দাগ নম্বর উল্লেখ আছে কি না।

- জমির পরিমাণ এবং সীমানা বাস্তব জমির সঙ্গে মেলে কি না।

- আগের ও পরের খতিয়ানে মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য আছে কি না।

- জমির কোনো অংশ আগে বিক্রি, বণ্টন বা হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না।

- দলিলের জমি ও খতিয়ানে উল্লেখিত জমি একই সম্পত্তি কি না।

সরকারি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি রেকর্ডের প্রত্যয়িত অনুলিপি সংগ্রহ করেও যাচাই করা যেতে পারে।

অনলাইন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ ব্যবস্থাপনা

৩. নামজারি হয়েছে কি না, তা যাচাই করুন

নামজারি বা মিউটেশন হলো জমির মালিকানা পরিবর্তন, উত্তরাধিকার কিংবা অন্য প্রাসঙ্গিক কারণে ভূমি রাজস্বের রেকর্ড হালনাগাদ করার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। জমি কেনার পর নামজারি করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু নামজারি খতিয়ান বা খারিজের কাগজ দেখেই চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণ করা যায় না।

দুই পক্ষের নামজারি করা থাকলে দেখতে হবে, কার নামজারি কোন দলিল বা উত্তরাধিকারসূত্রে করা হয়েছে, আবেদনের সময় কোন নথি দেওয়া হয়েছিল এবং জমির পরিমাণ ও হিস্যা সঠিকভাবে দেখানো হয়েছিল কি না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নামজারি মামলার নথি যাচাই করা যেতে পারে।

একই জমির ক্ষেত্রে একাধিক নামজারি বা রেকর্ডের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নথি পরীক্ষা করা জরুরি। ভূমি প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নামজারির সময় মালিকানার ধারাবাহিকতা ও দলিলের ভিত্তি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. জমির খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ পরীক্ষা করুন

জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ বা দাখিলা মালিকানা যাচাইয়ের সহায়ক নথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর পরিশোধের রসিদ একাই জমির চূড়ান্ত মালিকানা প্রমাণ করে না।

দুই পক্ষের কাছেই কর পরিশোধের রসিদ থাকলে কোন রেকর্ডের ভিত্তিতে কর দেওয়া হয়েছে, রসিদে উল্লেখিত জমির পরিমাণ ও পরিচিতি কী এবং সংশ্লিষ্ট নামজারি বা খতিয়ানের সঙ্গে তথ্যের মিল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে।

মনে রাখতে হবে, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে দলিলের ধারাবাহিকতা, উত্তরাধিকার, সরকারি রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শুধু খাজনা দেওয়ার রসিদ দেখিয়ে কোনো পক্ষের দাবি চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

৫. আগের মালিক থেকে বর্তমান মালিক পর্যন্ত ধারাবাহিকতা খুঁজুন

জমির মালিকানা যাচাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো মালিকানার ধারাবাহিকতা বা বায়া দলিল পরীক্ষা করা। বায়া দলিল বলতে সাধারণভাবে বর্তমান বিক্রেতার মালিকানা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তার আগের হস্তান্তরগুলোর দলিলকে বোঝানো হয়।

ধরা যাক, একজন ব্যক্তি দাবি করছেন যে তিনি ২০২২ সালে জমিটি কিনেছেন। অন্য একজন বলছেন, তিনি একই জমি ২০২৪ সালে কিনেছেন। এ ক্ষেত্রে শুধু কার দলিল আগে বা পরে হয়েছে, তা দেখলেই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না। বরং যাচাই করতে হবে, উভয় বিক্রেতার জমি বিক্রির বৈধ অধিকার ছিল কি না, প্রথম বিক্রির পর বিক্রেতার কাছে কোনো স্বত্ব অবশিষ্ট ছিল কি না এবং জমির কোন অংশ হস্তান্তর করা হয়েছিল।

একই জমি একাধিকবার বিক্রির ঘটনা ঘটলে প্রতিটি দলিলের তারিখ, জমির বিবরণ, বিক্রেতার স্বত্ব এবং সংশ্লিষ্ট আইনি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পূর্ণ দলিলের ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করানো উচিত।

৬. সরেজমিনে জমির অবস্থান ও সীমানা যাচাই করুন

কাগজপত্রে জমির বিবরণ সঠিক মনে হলেও বাস্তবে জমিটি কোথায় এবং কতটুকু, তা যাচাই করা জরুরি। এ জন্য দলিলে উল্লেখিত মৌজা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, চারপাশের সীমানা ও নকশার সঙ্গে বাস্তব অবস্থান মিলিয়ে দেখতে হবে।

প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করানো যেতে পারে। তবে জমি পরিমাপের মাধ্যমে মূলত অবস্থান, সীমানা ও পরিমাণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা যায়; এটি একা আইনি মালিকানা নির্ধারণ করে না।

জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সরকারি জরিপের নকশা ও প্রাসঙ্গিক রেকর্ডের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। দুই পক্ষের দাবি একই দাগের ভিন্ন অংশ নিয়ে হলে জমির পরিমাপ ও দলিলের বিবরণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি হলে যেসব বিষয় দেখবেন

জমিটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলে শুধু একজন ওয়ারিশের নামের দলিল বা খতিয়ান দেখেই পুরো জমির মালিকানা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। দেখতে হবে, মূল মালিক কে ছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর কারা আইন অনুযায়ী ওয়ারিশ হয়েছেন, প্রত্যেকের প্রাপ্য হিস্যা কত এবং জমিটি বৈধভাবে বণ্টন বা হস্তান্তর করা হয়েছিল কি না।

এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক দলিল, ওয়ারিশ সনদ, বণ্টননামা, পূর্ববর্তী খতিয়ান এবং পরবর্তী হস্তান্তরের কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। ওয়ারিশ সনদ উত্তরাধিকারীদের পরিচয় ও সম্পর্ক যাচাইয়ে সহায়ক হলেও জমির চূড়ান্ত স্বত্ব নির্ধারণের একমাত্র দলিল নয়।

কোনো ওয়ারিশ নিজের অংশের চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করেছেন কি না, কিংবা একই অংশ একাধিক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

৮. বিরোধের সমাধান না হলে কোথায় যাবেন?

দুই পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করেও মালিকানা নির্ধারণ করা না গেলে বিরোধের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা আদালতের সহায়তা নিতে হবে।

- সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়: নামজারি, ভূমি রেকর্ড হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট রাজস্ব প্রশাসনিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই ও প্রতিকার চাইতে পারেন।

- সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য ও সংরক্ষিত নথি যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

- ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর: প্রাসঙ্গিক জরিপের খতিয়ান ও নকশা সংগ্রহ বা যাচাই করতে পারেন।

- দেওয়ানি আদালত: মূল মালিকানা বা স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে উপযুক্ত প্রতিকার, যেমন স্বত্ব ঘোষণার মামলা বা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা প্রয়োজন হতে পারে।

কোন কর্তৃপক্ষ কী ধরনের প্রতিকার দিতে পারবেন, তা বিরোধের প্রকৃতি ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। নামজারি বা রাজস্ব রেকর্ডের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সব ধরনের মালিকানার বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয় না।

জমি জোর করে দখল করা, সীমানা ভেঙে ফেলা বা হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে জমির চূড়ান্ত স্বত্ব নির্ধারণের প্রশ্নটি প্রয়োজন হলে উপযুক্ত আদালতে নিষ্পত্তি করতে হবে।

জমি কেনার আগে কী কী যাচাই করবেন?

ভবিষ্যতে একই জমি নিয়ে বিরোধে পড়ার ঝুঁকি কমাতে কেনার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করা উচিত।

1. বিক্রেতার মূল দলিল ও আগের মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করুন।

2. সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করুন।

3. সর্বশেষ প্রাসঙ্গিক খতিয়ান, দাগ নম্বর ও জমির নকশা মিলিয়ে দেখুন।

4. বিক্রেতার নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ এবং জমির প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করুন।

5. জমিটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলে ওয়ারিশদের পরিচয়, হিস্যা ও বণ্টনের তথ্য পরীক্ষা করুন।

6. জমির বাস্তব সীমানা পরিমাপ করে দলিলের বিবরণের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

7. জমি নিয়ে মামলা, নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না, তা আইনজীবীর সহায়তায় যাচাই করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জমি কেনার আগে শুধু বিক্রেতার দেখানো কাগজপত্রের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথির সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে নেওয়া।

একই জমির দুইজন মালিকানা দাবি করলে কে প্রকৃত মালিক, তা নির্ধারণের জন্য একটি কাগজ নয়, বরং সব প্রাসঙ্গিক নথি ও তথ্য একসঙ্গে পরীক্ষা করতে হবে। দলিলের ধারাবাহিকতা, সরকারি খতিয়ান, নামজারি, উত্তরাধিকার, জমির সীমানা এবং বিক্রেতার বৈধ স্বত্ব—সবকিছু মিলিয়ে দেখতে হবে।

কোনো একটি নথিতে অসংগতি পাওয়া গেলে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মূল নথি সংগ্রহ করে যাচাই করুন। বিরোধ জটিল হলে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন। এতে ভুল ব্যক্তির কাছে জমি কেনা, আর্থিক ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. একই জমির দুইজনের নামে দলিল থাকলে কে প্রকৃত মালিক?

শুধু দলিলের সংখ্যা বা তারিখ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। উভয় দলিলের বৈধতা, বিক্রেতার স্বত্ব, মালিকানার ধারাবাহিকতা এবং জমির সঠিক বিবরণ যাচাই করতে হবে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনে আদালতের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হতে পারে।

২. নামজারি থাকলেই কি জমির মালিক হওয়া যায়?

নামজারি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক রেকর্ড, কিন্তু এটি একাই চূড়ান্ত মালিকানার প্রমাণ নয়। নামজারির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত দলিল, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও যাচাই করতে হবে।

৩. অনলাইনে কি জমির মালিকানা যাচাই করা যায়?

অনলাইনে সরকারি খতিয়ান ও কিছু ভূমি-সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। তবে অনলাইন তথ্য দিয়ে সব ক্ষেত্রে মালিকানার চূড়ান্ত সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে সরকারি দপ্তর থেকে প্রাসঙ্গিক নথির অনুলিপি সংগ্রহ করে যাচাই করতে হবে।

৪. জমির খাজনার রসিদ থাকলে কি মালিকানা প্রমাণ হয়?

না। ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ সহায়ক নথি হলেও একা মালিকানা নিশ্চিত করে না। দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও মালিকানার ধারাবাহিকতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

৫. জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ হলে প্রথমে কোথায় যেতে হবে?

বিরোধের ধরন অনুযায়ী নামজারি বা রাজস্ব রেকর্ডের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে এবং দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করা যায়। প্রকৃত মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে ভূমি আইনজীবীর পরামর্শে উপযুক্ত দেওয়ানি আদালতে প্রতিকার চাইতে হতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: