ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

পাসপোর্টে নামের বানান ভুল? সংশোধনের নিয়ম জানুন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ২০:৪৭:৩১
পাসপোর্টে নামের বানান ভুল? সংশোধনের নিয়ম জানুন

পাসপোর্টে নিজের নামের ইংরেজি বানান ভুল, পদবি বাদ পড়া কিংবা বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে অমিল থাকলে বিদেশযাত্রা, ভিসার আবেদন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন ভুল চোখে পড়লে দেরি না করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তবে পাসপোর্টের নাম সংশোধনের নিয়ম নির্ভর করে ভুলটি আবেদনের সময় হয়েছে, নাকি পাসপোর্ট ইস্যু হওয়ার পর ধরা পড়েছে, তার ওপর।

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট আবেদনসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নামসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (BRC) এবং আগের পাসপোর্টের মতো প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হতে পারে। তথ্যের পরিবর্তন বা অসংগতি থাকলে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে এবং আবেদন নিষ্পত্তিতে বেশি সময় লাগতে পারে।

তাই পাসপোর্টে নামের বানান ভুল হলে প্রথমে মূল পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করুন। এরপর ভুলটি কোন পর্যায়ে হয়েছে, তা বুঝে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

পাসপোর্টে নামের বানান ভুল হলে প্রথমে যা করবেন

সংশোধনের জন্য আবেদন করার আগে তিনটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রথমত, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনে নামের বানান দেখুন। পাসপোর্টে নাম যেভাবে লেখা হয়েছে, সেটি NID বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। পরিচয়পত্রেই ভুল থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেই নথি সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটিও পরীক্ষা করুন। নতুন পাসপোর্টে ভুল হয়েছে, নাকি আগের পাসপোর্ট থেকেই ভুলটি চলে এসেছে, তা জানা জরুরি। আগের পাসপোর্টের তথ্য এবং বর্তমান পরিচয়পত্রের মধ্যে অমিল থাকলে তার পক্ষে প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

তৃতীয়ত, পাসপোর্টের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে তা নিশ্চিত করুন। আবেদন জমা হয়েছে, বায়োমেট্রিক বা এনরোলমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে, নাকি পাসপোর্ট ইতিমধ্যে ইস্যু হয়েছে—এই তথ্যের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর নামের ভুল ধরা পড়লে কী করবেন?

ই-পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার পর নামের বানান বা অন্য কোনো তথ্য ভুল হয়েছে বুঝতে পারলে নিজে থেকে নতুন আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা উচিত।

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের সরকারি FAQ-তে বলা হয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পর তথ্য ভুল পাওয়া গেলে আবেদনপত্রের প্রিন্ট করা ‘Application Summary’ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এনআইডি, জন্মনিবন্ধন সনদ, আগের পাসপোর্ট বা সঠিক তথ্যের পক্ষে অন্যান্য সরকারি নথি দেখাতে হতে পারে। এনরোলমেন্ট কর্মকর্তা যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে পারেন।

আবেদনে ভুল নাম ব্যবহার করে ফি জমা দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি আরও জটিল হতে পারে। সরকারি FAQ অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড়পত্রের প্রয়োজন হতে পারে এবং তা পেতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

সরকারি নির্দেশনা: https://www.epassport.gov.bd/landing/faqs/20

পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নামের বানান ভুল দেখলে করণীয়

পাসপোর্ট ইস্যু হওয়ার পর নামের বানান ভুল ধরা পড়লে বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয়। পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তন বা মুদ্রণজনিত ভুল সংশোধনের জন্য রি-ইস্যু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশোধনের ধরন অনুযায়ী আবেদনপত্র ও প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।

সাধারণভাবে করণীয় হলো—

১. পাসপোর্টের তথ্য পাতায় নিজের নাম ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে যাচাই করুন।

২. জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য জন্মনিবন্ধন সনদে নামের সঠিক বানান নিশ্চিত করুন।

৩. আগের পাসপোর্ট থাকলে সেটি এবং বর্তমান পাসপোর্টের তথ্য তুলনা করুন।

৪. সংশোধনের জন্য রি-ইস্যু আবেদন করতে হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের কাছ থেকে নিশ্চিত করুন।

৫. নির্ধারিত আবেদনপত্র, মূল পাসপোর্ট এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণপত্র জমা দিন।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাসপোর্ট রি-ইস্যু, তথ্য পরিবর্তন ও সংশোধনসংক্রান্ত ফরম রয়েছে। তবে সব ধরনের নাম পরিবর্তন বা সংশোধন একই নিয়মে অনুমোদিত হবে—এমন নয়। সংশোধনের ধরন এবং সরকারি নথিতে থাকা তথ্য যাচাই করে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ফরম ও নির্দেশনা: https://dip.gov.bd/pages/forms/6922d9f6933eb65569e0240a

নাম সংশোধনের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?

পাসপোর্টে নামের বানান ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই তালিকার কাগজপত্র বাধ্যতামূলক নয়। ভুলের ধরন, আবেদনকারীর বয়স, আগের পাসপোর্টের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্রের ওপর প্রয়োজনীয় নথি নির্ভর করে।

পরিস্থিতি অনুযায়ী নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হতে পারে—

জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ও ফটোকপি।

অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণ, যেখানে প্রযোজ্য।

বর্তমান পাসপোর্টের মূল কপি ও তথ্য পাতার ফটোকপি।

আগের পাসপোর্টের কপি, যদি থাকে।

অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি বা Application Summary।

সংশোধনের পক্ষে প্রাসঙ্গিক সরকারি নথি।

পাসপোর্ট অফিস চাইলে সংশোধনী আবেদন বা নির্ধারিত অঙ্গীকারনামা।

অপ্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত প্রযোজ্য নথি।

বাবা বা মায়ের নামের বানান ভুল হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়পত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণপত্র চাওয়া হতে পারে। একইভাবে, নিজের নামের বানান পরিবর্তনের সঙ্গে যদি প্রকৃত নাম পরিবর্তনের বিষয় জড়িত থাকে, তাহলে কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ: ওপরের তালিকাটি সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় নথির ধারণা দেয়। আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস বা সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল থেকে আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাগজপত্র নিশ্চিত করে নিন।

NID-তে নাম ভুল থাকলে কি সরাসরি পাসপোর্ট সংশোধন করা যাবে?

জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বানান ভুল থাকলে শুধু পাসপোর্টে আলাদা বানান ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্রে নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য NID অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী পূরণ করার নির্দেশনা রয়েছে।

তাই প্রথমে পরিচয়পত্রে কোন বানানটি সঠিক এবং সেটি প্রমাণের জন্য কী নথি রয়েছে, তা যাচাই করুন। NID-তে ভুল থাকলে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। জন্মনিবন্ধনে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট জন্মনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।

পরিচয়পত্র সংশোধন হয়ে গেলে হালনাগাদ তথ্য ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র নিয়ে পাসপোর্টের সংশোধন বা রি-ইস্যুর বিষয়ে আবেদন করুন। তবে আগের পাসপোর্টে থাকা তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই হতে পারে।

পাসপোর্ট সংশোধনে কত টাকা লাগে এবং কত দিন সময় লাগে?

পাসপোর্টে নামের বানান সংশোধনের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ফি বা নির্দিষ্ট সময় প্রযোজ্য—এমন কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবেদনটি এখনো প্রক্রিয়াধীন, নাকি ইস্যু করা পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যু করতে হবে, তার ওপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও খরচ নির্ভর করতে পারে।

বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ বা বাবা-মায়ের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। ফলে সাধারণ রি-ইস্যুর সময়সীমা ধরে সংশোধিত পাসপোর্ট পাওয়ার দিন নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

সর্বশেষ ফি ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা জানতে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল ব্যবহার করুন:

https://www.epassport.gov.bd/

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করে দেওয়ার নামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তিকে টাকা দেবেন না। ই-পাসপোর্ট পোর্টালের ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখের সতর্কবার্তায় তথ্য সংশোধন বা আবেদনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। বৈধ সরকারি ফি প্রযোজ্য হলে সেটি কেবল অনুমোদিত পদ্ধতিতে জমা দিন।

সতর্কবার্তা: https://www.epassport.gov.bd/landing/notices/194

পাসপোর্টে নামের ভুল থাকলে বিদেশযাত্রায় সমস্যা হতে পারে?

পাসপোর্টে নামের বানান এবং ভিসা, বিমানের টিকিট বা অন্য ভ্রমণ নথিতে থাকা নামের মধ্যে অমিল থাকলে যাচাইয়ের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। সমস্যার ধরন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

তাই বিদেশযাত্রার আগে পাসপোর্টের নামের বানান, জন্মতারিখ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। ভুল ধরা পড়লে ভ্রমণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করুন।

তবে বানানে সামান্য পার্থক্য থাকলেই সব ক্ষেত্রে ভ্রমণ বাতিল হবে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, ভিসা কর্তৃপক্ষ বা বিমান সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

পাসপোর্টে নামের বানান ভুল হলে প্রথম কাজ হলো সঠিক তথ্যের প্রমাণ নিশ্চিত করা। এরপর আবেদন জমা দেওয়ার আগের পর্যায়ে ভুল ধরা পড়েছে, আবেদন জমা হয়েছে, নাকি পাসপোর্ট ইস্যু হওয়ার পর ভুল দেখা গেছে—তা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুল হলে Application Summary ও প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। আর পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গেলে সংশোধন বা রি-ইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. পাসপোর্টে নামের বানান ভুল হলে কোথায় আবেদন করতে হবে?

আবেদনের পর্যায় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে Application Summary ও প্রমাণপত্র নিয়ে অফিসে যেতে হবে। পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গেলে রি-ইস্যু বা সংশোধনের নিয়ম জানতে হবে।

২. পাসপোর্টে নাম সংশোধনের জন্য NID কি প্রয়োজন?

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণপত্র। ই-পাসপোর্টের আবেদন NID অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী করতে হয়। সংশোধনের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও চাওয়া হতে পারে।

৩. পাসপোর্টে নামের বানান ভুল হলে কি নতুন পাসপোর্ট করতে হবে?

পাসপোর্ট ইতিমধ্যে ইস্যু হয়ে গেলে তথ্য সংশোধনের জন্য রি-ইস্যু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতে পারে। তবে ঠিক কোন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে, তা ভুলের ধরন ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে পাসপোর্ট অফিস নিশ্চিত করবে।

৪. পাসপোর্টে নাম সংশোধন করতে কত দিন লাগে?

সবার জন্য নির্দিষ্ট সময় বলা যায় না। তথ্যের ধরন, প্রমাণপত্র যাচাই এবং অতিরিক্ত ছাড়পত্রের প্রয়োজন আছে কি না—এসবের ওপর সময় নির্ভর করে।

৫. পাসপোর্টের নাম সংশোধনের জন্য দালালকে টাকা দিতে হবে কি?

না। তথ্য সংশোধন করে দেওয়ার নামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ব্যক্তিকে টাকা দেওয়া উচিত নয়। সরকারি ফি প্রযোজ্য হলে কেবল অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ