ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১১:৫৯:০৮
জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব

জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা পুরোনো জমির মালিকানা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল সংগ্রহ করা যায়। তবে জমির দলিলের নকল তুলতে কত টাকা লাগবে, তা নির্ভর করে দলিলের পৃষ্ঠা, নকল প্রস্তুতের ফি, প্রযোজ্য কোর্ট ফি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচের ওপর। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অফিসের সর্বশেষ সরকারি ফি-তালিকা যাচাই করা জরুরি।

বাংলাদেশে জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা যাচাই কিংবা জমি নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের নকল গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মূল দলিল হারিয়ে গেলেও নিবন্ধনসংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষিত থাকলে নির্ধারিত নিয়মে ওই দলিলের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহের জন্য আবেদন করা যায়।

জমির দলিলের নকল তুলতে কত টাকা লাগে?

জমির দলিলের নকল তুলতে সারা দেশে সব ধরনের দলিলের জন্য একই মোট খরচ প্রযোজ্য—এমনটি নয়। নকল প্রস্তুতের সরকারি ফি, নকলনবিশের পারিশ্রমিক এবং প্রযোজ্য অন্যান্য ফি হিসাব করে মোট খরচ নির্ধারণ করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বাংলায় লেখা দলিলের নকল প্রস্তুতের জন্য প্রতি ৩০০ শব্দের এক পৃষ্ঠা বা তার অংশের ফি ২৪ টাকা এবং নকলনবিশের পারিশ্রমিক ৩৬ টাকা উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ২০ টাকা কোর্ট ফি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তবে এটি একটি নির্দিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের প্রকাশিত তথ্য। ওই তথ্যকে ২০২৬ সালে দেশের সব অফিসে কার্যকর সর্বশেষ ফি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বর্তমান খরচ জানতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সর্বশেষ ফি-তালিকা দেখে নেওয়া উচিত।

দলিলের নকল তুলতে কোন কোন খাতে টাকা লাগে?

জমির দলিলের নকল সংগ্রহের ক্ষেত্রে কয়েকটি খাতে খরচ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নকল প্রস্তুতের নির্ধারিত ফি, নকলনবিশের পারিশ্রমিক এবং প্রযোজ্য কোর্ট ফি। দলিলের তথ্য খুঁজে বের করতে তল্লাশের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ফিও লাগতে পারে।

দ্রুত নকল সংগ্রহের প্রয়োজন হলে জরুরি নকলের ব্যবস্থা ও অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য কি না, তা অফিস থেকে জেনে নেওয়া ভালো। আবেদন করার আগে সম্ভাব্য মোট খরচ জেনে নিলে অপ্রত্যাশিত ব্যয় এড়ানো সম্ভব।

জমির দলিলের নকল কোথা থেকে তুলবেন?

সাধারণত যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির দলিল নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেই অফিসের সংশ্লিষ্ট রেকর্ড থেকে নকল সংগ্রহের জন্য আবেদন করতে হয়। দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য জানা থাকলে রেকর্ড শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হয়।

আবেদনের আগে নিচের তথ্যগুলো সংগ্রহে রাখুন—

১. দলিল নম্বর ও নিবন্ধনের সাল।

২. দলিলদাতা ও দলিলগ্রহীতার নাম।

৩. জমির মৌজার নাম ও দাগ নম্বর।

৪. যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেই অফিসের নাম।

দলিল নম্বর জানা না থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে অন্য তথ্যের সাহায্যে পুরোনো দলিল খুঁজে বের করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে তল্লাশের নিয়ম জেনে আবেদন করতে হবে। দলিলের পক্ষগুলোর নাম, নিবন্ধনের সম্ভাব্য সময় এবং জমির পরিচিতি যত নির্ভুলভাবে দেওয়া যাবে, রেকর্ড শনাক্ত করা তত সহজ হবে।

জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে কী করবেন?

জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করে দলিলের নিবন্ধনসংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করতে হবে। এরপর নির্ধারিত নিয়মে দলিলের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।

আরও পড়ুন:

একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে

জমির খাজনা বকেয়া আছে কি না, মোবাইলেই জানুন

জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি

নকল হাতে পাওয়ার পর দলিল নম্বর, নিবন্ধনের তারিখ, জমির পরিমাণ, মৌজা, দাগ নম্বর, দলিলদাতা ও দলিলগ্রহীতার নামসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।

তবে দলিলের নকল পাওয়া এবং জমির মালিকানা চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করা এক বিষয় নয়। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে আগের দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে কি জমির দলিল বের করা যায়?

অনলাইনে বাংলাদেশের ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও সব পুরোনো নিবন্ধিত দলিলের পূর্ণাঙ্গ সত্যায়িত নকল অনলাইনে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন করে সংরক্ষিত রেকর্ড থেকে নকল সংগ্রহ করতে হয়।

দলিলের নকলের ফি, আবেদনপদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট অথবা সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

নিবন্ধন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট: https://rd.gov.bd/

জমির দলিলের নকল পেতে কত দিন লাগে?

দলিলের নকল পেতে নির্দিষ্ট কত দিন লাগবে, তা সব ক্ষেত্রে এক নয়। দলিলের রেকর্ড সহজে শনাক্ত করা যাচ্ছে কি না, দলিলটি কত পুরোনো, অফিসে কাজের চাপ কেমন এবং আবেদনটি সাধারণ নাকি জরুরি—এসব বিষয়ের ওপর সময় নির্ভর করতে পারে।

তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সম্ভাব্য সময় জেনে নেওয়া ভালো। পুরোনো দলিলের ক্ষেত্রে রেকর্ড খুঁজে বের করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।

জমির দলিলের নকল তোলার আগে যা মনে রাখবেন

দলিলের নকল সংগ্রহ করতে যাওয়ার আগে দলিল নম্বর, নিবন্ধনের সাল, জমির মৌজা ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য গুছিয়ে রাখুন। এতে রেকর্ড শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে আবেদন ফি ও অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ সম্পর্কে অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি নির্ধারিত ফি সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কাউকে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না। অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি নিয়ম অনুসরণ করুন এবং সম্ভব হলে রসিদ সংগ্রহ করুন।

জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা পুরোনো দলিলের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সত্যায়িত নকল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। এতে জমির নথি যাচাই, মালিকানাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ এবং ভবিষ্যতের আইনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা পাওয়া যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

১. জমির দলিলের নকল তুলতে কত টাকা লাগে?

খরচ নির্ভর করে দলিলের পৃষ্ঠা, নকল প্রস্তুতের ফি এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচের ওপর। সঠিক পরিমাণ জানতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সর্বশেষ ফি-তালিকা যাচাই করতে হবে।

২. জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে কি আবার তোলা যায়?

নিবন্ধিত দলিলের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকলে নির্ধারিত নিয়মে সত্যায়িত নকলের জন্য আবেদন করা যায়।

৩. দলিল নম্বর না জানলে কি নকল পাওয়া সম্ভব?

কিছু ক্ষেত্রে দলিলদাতা ও গ্রহীতার নাম, নিবন্ধনের সম্ভাব্য সাল, মৌজা ও অন্যান্য তথ্য দিয়ে দলিল খুঁজে বের করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে তল্লাশের পদ্ধতি জানতে হবে।

৪. জমির দলিলের নকল পেতে কত দিন লাগে?

সময় নির্ভর করে দলিলের রেকর্ড শনাক্ত করা, অফিসের কাজের চাপ এবং আবেদনপদ্ধতির ওপর। নির্দিষ্ট সময় জানতে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

৫. অনলাইনে কি জমির দলিলের নকল পাওয়া যায়?

সব নিবন্ধিত দলিলের পূর্ণাঙ্গ সত্যায়িত নকল অনলাইনে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আবেদন করতে হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: