Alamin Islam
Senior Reporter
লিভার অকেজো হওয়ার আগেই ত্বকে ফুটে ওঠে এই ৪টি বিশেষ লক্ষণ
শরীরের ভেতরের জটিলতা সবসময় সরাসরি বোঝা যায় না, তবে লিভারের ক্ষেত্রে আমাদের শরীর বেশ কিছু আগাম বার্তা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, লিভার যখন বড় কোনো সংকটের মুখে পড়ে, তখন তার প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটে আমাদের ত্বকের মাধ্যমে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রার ত্রুটির কারণে বর্তমানে ফ্যাটি লিভার বা সিরোসিসের মতো রোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। লিভার বিকল হওয়ার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই ত্বকে কিছু বিশেষ পরিবর্তন দেখা দেয়। আপনার লিভার সুস্থ আছে কি না, তা বুঝতে ত্বকের এই ৪টি সংকেত আজই মিলিয়ে নিন।
১. শরীরের বর্ণ ও চোখের মণি ফ্যাকাসে হলুদ হওয়া
লিভারের সমস্যার অন্যতম প্রধান ইঙ্গিত হলো জন্ডিস। শরীর থেকে যখন ‘বিলিরুবিন’ নামক বর্জ্য পদার্থটি লিভার ছেঁকে বের করতে ব্যর্থ হয়, তখন তা রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কোষে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে চোখের সাদা অংশ এবং গায়ের রঙ অস্বাভাবিকভাবে হলুদ হয়ে যায়। আয়নায় নিজের অবয়বে এমন পরিবর্তন দেখলে একে সাধারণ জন্ডিস ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ এটি লিভারের গভীর ক্ষতির সংকেত হতে পারে।
২. অকারণে ত্বকে অস্বস্তি ও তীব্র চুলকানি
ত্বকে কোনো দৃশ্যমান চর্মরোগ বা অ্যালার্জি ছাড়াই যদি সারা শরীরে অনবরত চুলকানি অনুভূত হয়, তবে তা লিভারের অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। লিভার যখন রক্ত থেকে বিষাক্ত টক্সিন দূর করতে পারে না কিংবা পিত্ত রসের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, তখনই চামড়ার নিচে এই ধরণের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি শুরু হয়। এই অবস্থাকে অবহেলা করা মানেই লিভারের বড় কোনো বিপদকে হাতছানি দেওয়া।
৩. ত্বকের উপরিভাগে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি
লিভারের কর্মক্ষমতা কমে গেলে শরীরের স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে ত্বকে ছোট ছোট লালচে দানা বা অদ্ভুত ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই ধরনের র্যাশগুলো কোনো প্রচলিত মলম বা ওষুধে সারতে চায় না। চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের এই অস্বাভাবিক দানাগুলো আসলে লিভারের স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতির একটি বাহ্যিক সতর্কবার্তা।
৪. মুখাবয়ব ও চোখের চারপাশে স্ফীত ভাব
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকেরই চোখ ও মুখমণ্ডল অস্বাভাবিক ফোলা লাগে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ছাড়াও এর পেছনে থাকতে পারে লিভারের জটিলতা। লিভার যখন অকার্যকর হয়ে পড়ে, তখন শরীরের বাড়তি তরল বা ‘ফ্লুইড’ নিষ্কাশিত হতে পারে না। এই জমে থাকা পানি মুখ ও চোখের চারপাশের কোমল টিস্যুগুলোকে ফুলিয়ে তোলে। যদি নিয়মিত এই সমস্যা দেখা দেয়, তবে লিভারের পরীক্ষা করানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
লিভার মূলত একটি ‘নীরব অঙ্গ’, যা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও অনেক সময় কোনো জানান দেয় না। তাই ত্বকের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো খেয়াল করাই হলো প্রতিরোধের সেরা উপায়। ওপরের যেকোনো লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্রই দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে আপনার লিভারকে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশকে এক কথায় না বলে দিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ড
- সোনার বাজারে বড় রেকর্ড: ভরিতে বাড়লো ৫১৩২ টাকা
- মুস্তাফিজকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে যা জানালো আইপিএল কর্তৃপক্ষ
- সরকারি চাকরিজীবীদের বড় সুখবর! ৮ জানুয়ারি চূড়ান্ত হচ্ছে নবম পে-স্কেল
- মুস্তাফিজের নতুন বার্তা
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল: পুনঃপরীক্ষার ঘোষণা শীঘ্রই
- আজকের খেলার সময়সূচী:ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়া
- এইচএসসি ২০২৬: ফরম পূরণের নতুন সময়সূচি ঘোষণা
- আজ ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
- আজই সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি: আবেদনের নতুন নিয়মে বড় চমক
- লিভার অকেজো হওয়ার আগেই ত্বকে ফুটে ওঠে এই ৪টি বিশেষ লক্ষণ
- বিপিএল পয়েন্ট টেবিল: শীর্ষে রংপুর জানুন বাকিদের অবস্থান
- শীতে খালি পেটে খেজুর খেলেই ম্যাজিক! জানুন ৫টি জাদুকরী উপকারিতা
- আইপিএল থেকে বাদ পড়ে পিএসএলে মুস্তাফিজ
- এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক শিক্ষার্থীরা প্রত্যেক মাসে পাবেন ১২০০ টাকা