Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
ডায়াবেটিস থাকলে ইফতারে ডাব নাকি আখের রস, বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের মুহূর্তে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় যেন প্রশান্তির অন্য নাম। কেউ বেছে নেন লেবুর শরবত, কেউ ফলের জুস। তবে প্রাকৃতিক গুণে সমৃদ্ধ দুটি পানীয়—ডাবের পানি ও আখের রস—নিয়ে প্রতি রমজানেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী—এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে শরীরের প্রয়োজন, শারীরিক অবস্থা ও পরিমাণের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিশূন্যতা পূরণ, ক্যালোরি গ্রহণ, চিনির মাত্রা এবং হজমের সক্ষমতা—এই চার বিষয় বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
পানিশূন্যতা কাটাতে কোনটি ভালো?
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীর ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতিতে পড়তে পারে। ডাবের পানিতে স্বাভাবিকভাবেই পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা দ্রুত শরীরকে রিফ্রেশ করে। গরম আবহাওয়া বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে ডিহাইড্রেশন হলে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে, আখের রসে খনিজ উপাদান থাকলেও ডাবের পানির মতো সমৃদ্ধ ইলেক্ট্রোলাইট পাওয়া যায় না। ফলে পানিশূন্যতা দূর করতে ডাবের পানি তুলনামূলকভাবে বেশি ফলদায়ক।
দ্রুত শক্তি পেতে কোনটি কার্যকর?
রোজা ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে শরীর শক্তির ঘাটতি পূরণ করতে চায়। আখের রসে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় তাৎক্ষণিক এনার্জি সরবরাহ করতে পারে। তবে এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
ডায়াবেটিসে ভোগা ব্যক্তি কিংবা যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, তাদের জন্য আখের রস গ্রহণে সংযম জরুরি।
অপরদিকে, ডাবের পানিতে চিনির পরিমাণ কম এবং ক্যালোরিও কম। তাই এটি তুলনামূলকভাবে হালকা ও স্বাস্থ্যবান্ধব বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
হজমের দিক থেকে পার্থক্য
রোজার পর অনেকের হজমপ্রণালী সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। আখের রস অতিরিক্ত পান করলে কারও কারও ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
ডাবের পানি সহজপাচ্য এবং হালকা হওয়ায় পেটের ওপর চাপ কম ফেলে। তাই ইফতার শুরু করার জন্য এটি বেশ স্বস্তিদায়ক পানীয়।
পুষ্টিগুণে কে এগিয়ে?
আখের রসে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি অল্প পরিমাণ আয়রন ও ক্যালসিয়াম থাকে।
ডাবের পানিতে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেশি, যা পেশী ও স্নায়ুর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। হালকা ডায়রিয়া, হিটস্ট্রোক বা সামান্য পানিশূন্যতার সময় ডাবের পানি উপকারী হতে পারে। তবে যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কম, তারা অতিরিক্ত ডাবের পানি পান না করাই ভালো।
নিরাপদ ব্যবহারে সতর্কতা
তাজা আখের রস তৈরি হওয়ার পর দ্রুত পান করা উচিত। বাইরে থেকে কেনার ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।
ডাব খোলার পর এর পানি দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা ঠিক নয়—৪ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে পান করাই উত্তম। প্যাকেটজাত ডাবের পানি তুলনামূলকভাবে সংরক্ষণে সুবিধাজনক ও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
উপসংহার
যদি লক্ষ্য থাকে দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করা, তাহলে ডাবের পানি ভালো পছন্দ। আর তাৎক্ষণিক শক্তি পেতে চাইলে সীমিত পরিমাণে আখের রস উপকারী হতে পারে।
সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো—ইফতার শুরু করুন সাধারণ পানি বা ডাবের পানি দিয়ে, এরপর প্রয়োজন হলে পরিমিত আখের রস গ্রহণ করুন। সচেতন সিদ্ধান্তই পারে আপনার ইফতারকে স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে।
আল ফাহাদ/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার ধুম
- আপনার ফান্ডের কী হবে? বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত
- ৫ কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা: আসছে ডিভিডেন্ড ও ইপিএস
- ধেয়ে আসছে ‘সুপার এল নিনো’: ১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা
- ‘উড়ছে’ ক্রাফটসম্যান ফুটওয়্যারের শেয়ার, কারণ খুঁজতে গিয়ে যা মিলল
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন
- আজকের স্বর্ণের দাম: (বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬)
- সময় বাড়ানোর আগে ব্রোকারদের ‘আমলনামা’ চায় বিএসইসি
- শেয়ারবাজারে হঠাৎ বড় লাফ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬)
- তেল শেষ, বন্ধ হলো দেশের একমাত্র শোধনাগার; কী হবে এবার?
- আজকের খেলার সময়সূচি:অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট (১৩এপ্রিল ২০২৬)
- সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দারুন সুখবর
- চলছে বাংলাদেশ বনাম আজারবাইজান ম্যাচ: সরসরি দেখুন Live