Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
রমজান শুরুর আগে সাওয়াব ও বরকত বাড়ানোর ১০টি সহজ কাজ
রমজান আবার আসছে—একটি মাস যা রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের অসীম সম্ভারের সঙ্গে আমাদের জীবন স্পর্শ করবে। চাঁদ দেখা অনুযায়ী, এই বছরের প্রথম রোজা ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হতে পারে। এই পবিত্র সময়ে মুমিনরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ত্যাগ ও প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির পথে নিজেকে নিবেদিত করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“মানুষের প্রত্যেক আমল প্রতিদান পায়। নেকির সওয়াব দশ থেকে সাতশো গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে রোজা আলাদা; এটি শুধুমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব। বান্দা আমার জন্য নিজের বাসনা ও খাদ্য পরিত্যাগ করেছে।”
(বুখারি ১৯০৪, মুসলিম ১১৫১, মুসনাদে আহমদ ৯৭১৪)
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজানের আগমনের জন্য ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন যেন তারা এই পবিত্র মাস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারেন। রমজান শেষ হওয়ার পরও তারা পরবর্তী ছয় মাস প্রার্থনা করতেন যেন তাদের রোজা ও ইবাদত কবুল হয়। এইভাবে রমজান সারা বছরের জীবনে ছোঁয়া রাখত (আসরারুল মুহিব্বিন ফি রামাজান : ৪২)।
সতর্ক মুমিনদের জন্য রমজানের পূর্ণ কল্যাণ লাভে আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য। কোনো কাজের সঠিক প্রস্তুতি হলে তার অর্ধেক সফলতা নিশ্চিত হয়। চলুন জেনে নিই রমজানের আগে নেয়া উচিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি—
১. দৃঢ় সংকল্প গঠন
রমজান শুরু হওয়ার আগে নিজের অন্তরে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা স্থাপন করুন—এই রমজান হবে নেক আমল বৃদ্ধি ও আত্মশুদ্ধির জন্য বিশেষ। জীবনের অতীত ভুল ও গুনাহের জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং সর্বোচ্চ সওয়াব অর্জনের লক্ষ্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. তাওবাহ ও ইসতেগফারের অভ্যাস
রমজান আসার আগে, বছরের দীর্ঘ সময়ে সংঘটিত সমস্ত ভুলের জন্য আন্তরিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, “রমজান এলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে”—এই ধারণা সঠিক নয়। আগেভাগে তাওবাহ করলে রমজানের কল্যাণ পূর্ণভাবে অর্জন করা সম্ভব।
উচ্চারণ:
اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ
আল্লাহুম্মাগফিরলি
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন।
৩. কাজা রোজা পূর্ণ করা
পূর্ববর্তী রমজানের কোনো রোজা কাজা হয়ে থাকলে চলতি রমজানের আগে তা আদায় করা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে নারীদের ভাঙতি রোজার ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া দরকার। শাবান মাসে কাজা রোজা সম্পন্ন করা শ্রেয়।
৪. রমজানের গুরুত্ব ও সুবিধা সম্পর্কে জ্ঞান
রমজানের মর্যাদা, ফজিলত ও উপকারিতা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত। এগুলো আগে থেকে জানলে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়া যায়। সঠিক দিকনির্দেশনা মেনে চলা রমজানের কল্যাণকে বৃদ্ধি করে।
উচ্চারণ:
اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَان
আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
৫. ক্ষমা লাভের জন্য অন্তর প্রস্তুত করা
রমজানে আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তবে সকলের জন্য নয়। এজন্য দুইটি গুরুতর ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে হবে—
শিরক পরিহার: ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত, বড় বা ছোট—সব ধরনের শিরক থেকে ফিরে আসা।
হিংসা এড়ানো: হিংসা মানুষের নেক আমল বিনষ্ট করে।
ক্ষমা লাভ করতে হলে অন্তরকে এসব অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করতে হবে।
৬. রোজার ফরজ ও মাসায়েল জানা
রমজান শুরুর আগে রোজা সম্পর্কিত ফরজ, ওয়াজিব, মাকরুহ এবং ভঙ্গের কারণগুলো ভালোভাবে জানা জরুরি। এতে রোজা পালন বিশুদ্ধ হয় এবং ভুলের সম্ভাবনা কমে।
৭. শাবান মাসে প্রস্তুতি বাড়ানো
শাবান মাসে বেশি নফল রোজা রাখা, কুরআন পাঠ, নফল নামাজ, দান-সদকা ও তাওবাহ-ইসতেগফার করা উচিত। এতে রমজানের ইবাদতের গতি ও গভীরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
৮. পূর্ববর্তী রমজানের অভাব চিহ্নিত করা
যেসব নেক আমল পূর্ব রমজানে যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি, তার কারণ খুঁজে বের করুন। উদাহরণ:
নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত না করা
তারাবিহ আদায় না করা
দান ও সহযোগিতা না করা
ইতেকাফ পালন না করা
রোজাদারকে ইফতার করাতে না পারা
এসব ঘাটতি চিহ্নিত করে নতুন রমজানে পূরণে প্রস্তুতি নিন।
৯. রমজানের দৈনিক রুটিন নির্ধারণ
রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত কীভাবে ব্যয় হবে—এর একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করুন। এতে ব্যস্ততার মাঝেও ইবাদত ও দুনিয়াবি কাজগুলোকে ইবাদতে পরিণত করা সম্ভব।
১০. রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান ও সুন্নাত পালন
শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা সুন্নাত। বর্তমানে অনেকেই শুধু ঘোষণা শোনেন। নবী করিম (সা.) নিজে চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবিদেরও দেখতে বলতেন। নতুন চাঁদ দেখা হলে তিনি এ দোয়া পড়তেন—
উচ্চারণ:
اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَ الْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَ الْاِسْلَامِ وَ التَّوْفِيقِ لِمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى رَبُّنَا وَ رَبُّكَ اللهআল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ
অর্থ: হে আল্লাহ! এই নতুন চাঁদ আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। যা তুমি ভালোবাস ও সন্তুষ্ট—সেই কাজের তৌফিক দাও। আমাদের ও তোমার রব একমাত্র আল্লাহ।(তিরমিজি : ৩৪৫১, মিশকাত : ২৪২৮)
উপসংহার:
রমজানের পূর্ণ কল্যাণ অর্জনের জন্য এই ১০টি প্রস্তুতি অপরিহার্য। আগেভাগে প্রস্তুতি নিয়ে মুমিনরা শুধু রোজার ফজিলতই নয়, আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলও নিশ্চিত করতে পারেন। এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও বরকত গ্রহণ করা সম্ভব, যদি প্রস্তুতি সঠিকভাবে নেওয়া হয়।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সিদ্ধান্তে শেয়ার বাজারে বড় পতন
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ ইঙ্গিত দিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ!
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ!
- ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ, কার লাভ, কার লোকসান
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি
- বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ৯ কোম্পানির শেয়ার
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ
- সোনার দামে ইতিহাস, ভাঙল সব রেকর্ড
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬)
- দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল নাহী অ্যালুমিনিয়াম
- ডিএসই-সিএসই বিলুপ্ত হচ্ছে, গঠিত হবে একক স্টক এক্সচেঞ্জ
- উসমানিয়া গ্লাসের EPS প্রকাশ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দারুন সুখবর: নীতিমালা জারি
- বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধের পথে ৬ এনবিএফআই, ৩টিকে সময় দিলো